আলেপ্পোতে সিরীয় সেনাবাহিনী ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এসডিএফকে কীভাবে একীভূত করা হবে—এ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মধ্যেই এই সংঘর্ষ শুরু হলো।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা সোমবার জানিয়েছে, আলেপ্পোর শেইহান ও লায়রমুন গোলচত্বরের কাছে সিরীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থানে এসডিএফ হামলা চালিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, এসডিএফ ওই এলাকায় সড়কে হামলা চালানোর কারণে লায়রমুন ও শেইহান গোলচত্বরমুখী গাজিয়ানতেপ–আলেপ্পো সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, এসডিএফের গুলিতে তাদের দুটি উদ্ধারকর্মী আহত হয়েছেন। তারা যে গাড়িতে ছিলেন, সেটিতে গুলি চালানো হয়। সংস্থাটি জানায়, গাড়িটিতে স্পষ্টভাবে সিভিল ডিফেন্সের প্রতীক ছিল। আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই সহিংসতা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে সফর করছিলেন। সেখানে তিনি সিরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসডিএফকে দেশের নতুন সেনাবাহিনীতে একীভূত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের একটি সময়সীমাও সামনে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ক্ষমতায় আসা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা চলতি বছরের মার্চে এসডিএফের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেন। ওই চুক্তিতে এসডিএফকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
তবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়নি, আর চুক্তির বাস্তবায়নও এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়া ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকই সোমবারের সংঘর্ষের ‘প্রধান উসকানি’ হিসেবে কাজ করেছে।
আল জাজিরা জানায়, আগে দামেস্ক প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রায় ৫০ হাজার এসডিএফ যোদ্ধাকে তিনটি ডিভিশনে ভাগ করে আংশিক সিরীয় নিয়ন্ত্রণে যুক্ত করা হবে। কিন্তু তুরস্ক এই প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, এসডিএফের বিদ্যমান কমান্ড কাঠামো ভেঙে দিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত এসডিএফ ২০১৫ সাল থেকে সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।
এক বিশ্লেষকের ভাষায়, এসডিএফকে সিরীয় সরকারি বাহিনীতে একীভূত করার প্রশ্নটি বর্তমানে সিরিয়ার সবচেয়ে বিস্ফোরক ইস্যু। এটি একটি বড় সংকটকেন্দ্র এবং দেশের জাতীয় ঐক্যের জন্য গুরুতর হুমকি।
বিরোধের মূল কারণ
সবচেয়ে বড় মতবিরোধের জায়গা হলো—নতুন সিরীয় সেনাবাহিনীতে এসডিএফ কি একটি সংগঠিত ইউনিট হিসেবে থাকবে, নাকি দলটি ভেঙে দিয়ে সদস্যদের আলাদাভাবে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তুরস্ক এসডিএফকে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে দেখে। এ কারণেই তারা এসডিএফকে একটি একক ইউনিট হিসেবে সেনাবাহিনীতে যুক্ত করার বিরোধিতা করছে।
কুর্দি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে একটি সমঝোতা হয়েছে, যাতে এসডিএফ-সংশ্লিষ্ট তিনটি ডিভিশন ইউনিট হিসেবেই নতুন সেনাবাহিনীতে যুক্ত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কতটা কাছাকাছি দুই পক্ষ—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
গত মার্চ মাসে সই হওয়া চুক্তির বাস্তবায়নের মূল সময়সীমা ছিল বছরের শেষ নাগাদ। সে সময়ের মধ্যে অগ্রগতি না হলে সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ সোমবার হাকান ফিদানের সঙ্গে যৌথভাবে কথা বলতে গিয়ে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানি বলেন, একীভূতকরণ চুক্তি বাস্তবায়নে এসডিএফের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ‘উদ্যোগ বা আন্তরিক ইচ্ছা’ দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।”
আল-শিবানি আরও জানান, সামরিক একীভূতকরণ এগিয়ে নিতে দামেস্ক এসডিএফের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিল এবং গতকাল রবিবার তারা এর জবাব পেয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/