কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল দ্ব্যর্থ কন্ঠে ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনে নিজেদের জীবন দিতে প্রস্তুত কিউবানরা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এমন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল।
হাভানায় হাজারো কিউবানদের সঙ্গে গলা মিলিয়ে তিনি বলেন, “কিউবা-ভেনেজুয়েলা মৈত্রী সহজে ভেঙে পড়তে দেব না। ভেনেজুয়েলার জন্য এবং অবশ্যই কিউবার জন্য আমরা আমাদের জীবন দিতেও প্রস্তুত। তবে শত্রুকে তার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।”
বছরের পর বছর ধরে, প্রথমে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ এবং তারপর মাদুরো কিউবান সরকারকে সমর্থন করার জন্য কোটি কোটি ডলার মূল্যের তেল পাঠিয়েছেন।
বিনিময়ে কিউবান গোয়েন্দা, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্যসেবা, বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাদারসহ নানান মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি অবিরাম একাত্মতা প্রবাহ বিনিময় করে আসছে কিউবা।
এমনকি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হামলায় নিজেদের ৩২ জন যোদ্ধার মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছে কিউবা সরকার। এই কিউবান যোদ্ধারা ভেনেজুয়েলা সরকারের অনুরোধে দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষে মিশন পরিচালনার সময় নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, মাদুরোর অভ্যন্তরীণ দেহরক্ষীরা বেশিরভাগই ছিলেন কিউবান। কারাকাসে নিযুক্ত বিদেশী কূটনীতিকরা বলতেন, মাদুরোর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা কিউবান উচ্চারণে স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলতেন। হাভানায় পড়াশোনা করা মাদুরো প্রায়শই তার নিজের লোকদের চেয়ে কিউবান উপদেষ্টাদের উপর নির্ভর করতেন।
এছাড়া, মাদুরোর পূর্বসূরী হুগো শ্যাভেজ ২০১৩ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর আগে কিউবার হাসপাতালে কয়েক মাস চিকিৎসার গ্রহণের পর ঘোষণা করেছিলেন যে, কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা দুটি জাতি নয় বরং লা গ্র্যান্ড প্যাট্রিয়া বা এক স্বদেশ।
হাভানায় এই সমাবেশে কিউবার নেতা ক্যানেল প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি লড়াই ছাড়া কিউবা-ভেনিজুয়েলা জোটকে ভেঙে পড়তে দেবেন না।
এদিকে, গত শনিবার নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং কিউবার নেতাদের প্রতি কড়া ভাষায় হুমকিও দিয়ে রেখেছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কয়েক দশকের মধ্যে এবারই প্রথমবারের মতো, স্নায়ুযুদ্ধের যুগের সাবেক শত্রুরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
সুলতানা দিনা/