নতুন বছরের প্রথম বড় অভিযানে ধাক্কা খেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। পিএসএলভি রকেটের ৬৪তম উৎক্ষেপণে তৃতীয় ধাপে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ফলে নির্ধারিত সময়ে কক্ষপথে স্থাপন করা যায়নি কৃত্রিম উপগ্রহগুলোকে।
তবে অভিযানকে এখনই পুরোপুরি ব্যর্থ বলা যাচ্ছে না। সোমবার বেলা পৌনে ১১টা নাগাদ ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন বলেন, ‘অভিযানের তৃতীয় ধাপে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সে কারণে রকেটের গতিপথে বিচ্যুতি ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।’
ইসরোর প্রধান জানান, পিএসএলভি অভিযানে চারটি ধাপ থাকে। দুটি সলিড ও দুটি লিকুইড। এর মধ্যে তৃতীয় ধাপেই সমস্যা দেখা দেয়। হঠাৎ ভেহিকেলের উচ্চতা ও গতিবেগ ন্যূনতম প্রয়োজনীয় মানের অনেক নিচে নেমে যায়। রোল রেট এবং উড্ডয়নের পথেও বিচ্যুতি দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে কক্ষপথে ‘অন্বেষা’কে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়। মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বাকি ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহেরও।
গতকাল সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশকেন্দ্র থেকে পিএসএলভি-সি৬২ রকেটে করে উৎক্ষেপণ করা হয় কৃত্রিম উপগ্রহগুলো। এর মধ্যে ছিল ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) তৈরি নজরদারি উপগ্রহ ‘অন্বেষা’। এর পোশাকি নাম ইওএস-এন১। মহাকাশ থেকে ছবি তোলা ও নির্ভুল মানচিত্র তৈরির জন্য এটি তৈরি করা হয়েছিল। কক্ষপথে স্থাপন করা গেলে ভারতের শত্রু দেশগুলোর সামরিক অবস্থান চিহ্নিত করার সক্ষমতাও ছিল এই উপগ্রহের।
একই রকেটে পাঠানো হয়েছিল আরও ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহ। এর মধ্যে ভারতের বেসরকারি সংস্থা ‘ধ্রুব স্পেস’-এর সাতটি উপগ্রহ ছিল। পাশাপাশি ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের মোট আটটি উপগ্রহও ছিল ওই অভিযানে।
এর আগেও পিএসএলভি রকেট ব্যর্থতার মুখে পড়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে ‘ইওএস-০৯’ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের সময় যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে অভিযান সফল হয়নি। সেই ঘটনার পর পিএসএলভির ৬৪তম উৎক্ষেপণ নিয়ে উদ্বেগ ছিল মহাকাশ বিজ্ঞানীদের একাংশের। এবারও একই ধরনের সমস্যায় পড়ল ইসরোর নির্ভরযোগ্য এই রকেট।