ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে তবু হাইতিকে নিয়ে সতর্ক ব্রাজিল কেমন গেল বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড ১৯ জুন ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি স্কটিশদের হিসাব মেলানোর রাত পুলিসিচকে ঘিরে উদ্বেগ লাল কার্ডের পর বসনিয়ার জালে সুইজারল্যান্ডের গোল উৎসব অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই

দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেবেন ট্রাম্প: আয়োজক কমিটি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেবেন ট্রাম্প: আয়োজক কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেবেন।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ফোরামের প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিনিধিদল।’

দাভোস শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষ্যে এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের প্রধান নির্বাহী বর্গে ব্রেন্ডে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আবারো স্বাগত জানানোর জন্য আমরা আনন্দিত। তার প্রথম মেয়াদে সর্বশেষ অংশগ্রহণের ছয় বছর পর তিনি আবারো এই ফোরামে যোগ দিতে যাচ্ছেন। সূত্র: এএফপি।

নাঈম/

চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। গত বুধবার সমঝোতা স্মারকটি ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তা এখন কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে উভয় দেশ। তবে চুক্তি হলেও অমীমাংসিত রয়ে গেছে গুরুপ্তপূর্ণ বিষয়গুলো। 

এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বিজয় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সাংবাদিকদের দেওয়া এক নতুন তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। বিশেষ করে ইরান যাতে ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে; এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

যদিও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, এই চুক্তি নিশ্চিত করে যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র কিনবে না, তৈরি করবে না বা উৎপাদন করবে না। কিন্তু এই চুক্তির খসড়া সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এখন আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হচ্ছে। এই দুই মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে একটি স্থায়ী পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে। অথচ ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি করতে ওবামা প্রশাসনের প্রায় ২০ মাস আলোচনা করতে হয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ট্রাম্প প্রশাসন কি মাত্র দুই মাসে সেই কঠিন কাজটি করতে পারবে?

এদিকে চুক্তির খসড়ায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরান শুধু তার উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এটিকে ইরানের ‘গুরুত্বপূর্ণ ছাড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

আবার ইরানকে কোনো অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে না বলে পুনরায় জানিয়েছেন ট্রাম্প। ২০১৬ সালে ওবামা প্রশাসনের ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচক ছিলেন তিনি। তাই অর্থের বিষয়টি বর্তমান চুক্তিতেও ট্রাম্পের জন্য একটি স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পুনর্গঠনের জন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চূড়ান্ত ও পারস্পরিকভাবে সম্মত পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে এক পয়সাও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি ওয়াশিংটন। চুক্তির ভাষা বেশ অস্পষ্ট। ফলে ভবিষ্যতে যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা বা অর্থ প্রদানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি বলেই মনে করছেন তিনি।

এই চুক্তির পর পরই ট্রাম্পের নিজ রাজনৈতিক দলসহ অনেকেই তার সমালোচনা শুরু করেছেন। এ ছাড়া কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা এই চুক্তি এবং এর সঙ্গে জড়িত অনিশ্চয়তাগুলো সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ব্রিফিং ও তথ্য দাবি করছেন। অনেক রিপাবলিকান এই চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। একজন বিশিষ্ট রিপাবলিকান সিনেটর এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ট্রাম্প ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়েছেন এবং বিনিময়ে যথেষ্ট পাননি। এদিকে লুইজিয়ানার বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডি এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমন করা যায়নি। তারা শিখেছে যে হরমুজ প্রণালিকে হুমকি দেওয়া আসলে কার্যকর এবং নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে তারা এটিকে কাজে লাগাবে। তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতিগত ভুল। 

যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরান যেন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে অর্থ ও সহায়তা দিতে না পারে। ইসরায়েলেরও বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল এটি। তাই ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে এই যুদ্ধে অংশ নেয় এবং লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান চালায়। বর্তমান চুক্তির আওতায় হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতও বন্ধ থাকবে। তবে চুক্তিতে গোষ্ঠীটির বিষয়ে আর তেমন কোনো উল্লেখ নেই। পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরানকে হিজবুল্লাহসহ অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। গত বুধবার প্রকাশিত চুক্তির খসড়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত কোনো উল্লেখ নেই। অথচ যুদ্ধ শুরুর সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাই জেনেভায় স্বাক্ষরিত চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমঝোতায় রূপ নেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: বিবিসি

ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:১১ এএম
ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে
ছবি: খবরের কাগজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ’ ছিলেন। তারা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে।

ফ্রান্সের পর্যটন শহর এভিয়ান-লে-বেঁতে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, সংঘাতে সরাসরি জড়িত না হওয়ায় তিনি শি ও পুতিনের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চীন, প্রেসিডেন্ট শিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ছিলেন, আমি এর প্রশংসা করি। আর ভ্লাদিমির পুতিনকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনিও খুব নিরপেক্ষ ছিলেন। তারা চাইলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলতে পারতেন।’

জাপান ও ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করার বিপরীতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযান কিংবা ইরানের অবরোধের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালির নৌপথ সচল করার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়নি।

মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাশিয়া আগে সতর্ক করে বলেছিল, এ যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চীন ওয়াশিংটনের হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বেইজিং তেহরানকে সম্ভাব্য সামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন কিছু পণ্য সরবরাহ করেছে। চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সংঘাত চলাকালে ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল।

তবে ট্রাম্পের দাবি, সংঘাত নিরসনে শি জিনপিং সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন এবং চীন ‘বড় ধরনের অস্ত্র’ বা কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ থেকে বিরত থেকেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চাইলে ছয়টি যুদ্ধ জাহাজের নিরাপত্তায় তেলবাহী জাহাজ পাঠাতে পারত। তারা তা করেনি। প্রেসিডেন্ট শি আমাকে সাহায্য করেছেন। তিনি সমাধানের চেষ্টা করেছেন এবং সম্ভবত তা সফল হতেও সহায়তা করেছেন।’

ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসে র এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, বেইজিংয়ের অবস্থান সবসময় একই ছিল। তারা ‘যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন।’ ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: রয়টার্স

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪ কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।’

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসএন/

নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

রবিউল /এসএন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ছবি: সংগৃহীহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে পুশইন সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিকের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় মহাসচিবের মুখপাত্রকে।

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গাবিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’

এসএন/