সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জানিয়েছে, আলেপ্পো ও রাক্কা প্রদেশে অগ্রসরমান সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের ‘তীব্র সংঘর্ষ’ চলছে। এ পরিস্থিতিতে কুর্দি কর্তৃপক্ষ রাক্কা শহরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে।
গতকাল শুক্রবার আলেপ্পো অঞ্চলের কয়েকটি শহর ও গ্রাম দখলে নেয় সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। এর আগে এসডিএফ ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব তীরে সরে যেতে সম্মত হয়, যেখানে আগের দুই দিন ধরে সংঘর্ষ চলছিল।
আলেপ্পো শহরের আশপাশের এলাকা দখলের পর সিরিয়াল সেনাবাহিনী ইউফ্রেটিস নদীর দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাক্কা প্রদেশের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল টাবকা শহর ও আশপাশের অঞ্চলকে ‘বন্ধ সামরিক এলাকা’ ঘোষণা করে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত বিবৃতিতে সরকারি বাহিনী জানায়, তারা ওই এলাকায় কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাবে, যার একটি রাক্কা শহরের কাছাকাছি।
আজ শনিবার কুর্দি বাহিনী দামেস্কের বিরুদ্ধে প্রত্যাহার চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। এসডিএফের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং আলেপ্পো প্রদেশের দেইর হাফের ও মাসকানাহ এলাকা থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাহিনী প্রত্যাহারের কথা ছিল। কিন্তু তাদের বাহিনী পুরোপুরি সরে যাওয়ার আগেই সরকারি বাহিনী হামলা শুরু করে।
এসডিএফ জানায়, দামেস্ক সরকারের “বিশ্বাসঘাতকতার” কারণে দেইর হাফেরে তাদের কিছু যোদ্ধা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ ছাড়া তারা জানায়, টাবকার দক্ষিণে রাক্কা প্রদেশের একটি এলাকায়, যা চুক্তির আওতার বাইরে ছিল, দামেস্ক সরকারের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের বাহিনী বর্তমানে ‘তীব্র সংঘর্ষে’ জড়িত রয়েছে।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিরিয়ার সেনাবাহিনী কুর্দি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে রাক্কাগামী পূর্বাঞ্চলীয় সড়কের একটি সেতুতে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার অভিযোগ আনে। সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তায় বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ চুক্তি ভঙ্গ করতে পারে এবং এর অত্যন্ত গুরুতর পরিণতি হতে পারে।
সেনাবাহিনী এসডিএফকে তাদের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি “অবিলম্বে বাস্তবায়নের” আহ্বান জানিয়ে ইউফ্রেটিস নদীর পূর্ব তীরে সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে বলে। একই সঙ্গে টাবকা থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
সরকারি বাহিনী আরও দাবি করেছে, তারা রাক্কা প্রদেশের রেসাফা এলাকা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রাম দখলে নিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, ওই অঞ্চলে আল-থাওরা এবং আরও একটি তেলক্ষেত্রও দখল করেছে সেনাবাহিনী।
এদিকে এই সংঘর্ষের মধ্যেই সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারা একটি ডিক্রি জারি করে সিরিয়ার কুর্দি নাগরিকদের আইনি মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক অধিকার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
এই ডিক্রিটি ১৯৪৬ সালে সিরিয়া স্বাধীনতা লাভের পর প্রথমবারের মতো কুর্দি জাতিগত অধিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে সিরিয়ার কুর্দি রাজনৈতিক দলগুলো বলেছে, এই প্রতীকী পদক্ষেপ কুর্দি সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। সূত্র: মিডল ইস্ট আই
মাহফুজ/