কুর্দি বাহিনী সরে যাওয়ার পর সিরিয়ার সেনাবাহিনী দেশটির বিশাল আল-হাওল বন্দি শিবিরে প্রবেশ করেছে বলে জানা গেছে। ওই শিবিরে ইসলামিক স্টেটসংশ্লিষ্ট (আইএস) সন্দেহভাজন জঙ্গিদের স্বজনরা অবস্থান করছে।
ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, বিপুলসংখ্যক সেনা শিবিরটির ধাতব ফটক খুলে ভেতরে প্রবেশ করে, আর অন্যরা প্রবেশপথে পাহারা দেয়। আল-হাওল শিবিরটি আল-হাসাকা প্রদেশের একটি মরু অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ রয়েছেন, যার মধ্যে ১৫ হাজার সিরীয় নাগরিক এবং ৪২টি দেশের প্রায় ৬ হাজার ৩০০ বিদেশি নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত।
কুর্দি বাহিনী গত মঙ্গলবার জানায়, সিরিয়ার উত্তরের শহরগুলো সেনাবাহিনীর হুমকির মুখে পড়ায় সেগুলো রক্ষার জন্য তারা আল-হাওল শিবির থেকে ‘বাধ্য হয়ে সরে গেছে’। এর পরই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। আল-হাওল হলো কুর্দি বাহিনীর প্রতিষ্ঠিত সন্দেহভাজন জঙ্গিদের জন্য সবচেয়ে বড় শিবির। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটের সহায়তায় কুর্দি বাহিনী আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেয় এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএস পরাজিত হয়।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানায়, তারা আল-হাওল শিবির এবং ‘সব আইএস বন্দির’ দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। এই ঘোষণার সময়ই সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত টম ব্যারাক বলেন, আইএসবিরোধী প্রধান শক্তি হিসেবে কুর্দি বাহিনীর ‘মূল উদ্দেশ্য এখন অনেকটাই শেষ হয়ে এসেছে।’
কুর্দি বাহিনী সরে যাওয়ার পর গত সোমবার সিরিয়ার সেনাবাহিনী উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় মোতায়েন হয়।
দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া এক চুক্তি অনুযায়ী, আইএস বন্দিদের দায়িত্ব সিরীয় রাষ্ট্রের হাতে যাবে এবং কুর্দি প্রশাসনকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একীভূত করা হবে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আল-হাওলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে সাতটি কারাগারে হাজার হাজার সাবেক জঙ্গি আটক রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক পশ্চিমা নাগরিকও আছেন। পাশাপাশি তাদের পরিবার-পরিজনের কয়েক হাজার সদস্য উত্তর সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনী প্রতিষ্ঠিত দুটি শিবির, আল-হাওল ও আল-রোজে বসবাস করছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান