নানা টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামীকাল শুক্রবার ওমানের মাস্কাটে পরমাণু আলোচনায় বসতে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। এমন এক সময়ে এই আলোচনার ঘোষণা এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় মাস্কাটে এই বৈঠক শুরু হবে। মার্কিন কর্মকর্তারাও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বৈঠকের স্থান ও শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় আলোচনাটি বাতিলের উপক্রম হয়েছিল।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও কূটনৈতিক চাপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তিতে না আসে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ না করে, তবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খামেনির শঙ্কিত হওয়া উচিত কি না—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি বলব তার অত্যন্ত চিন্তিত হওয়া উচিত। কারণ তারা এখন আমাদের সঙ্গে সমঝোতা করছে।’’
অন্যদিকে, খামেনি গত রবিবার সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের ওপর যেকোনো আক্রমণ ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’ উসকে দেবে।
জানা গেছে, বেশ কয়েকজন আরব ও মুসলিম নেতার অনুরোধে ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে, যদিও এই বৈঠকের সফলতা নিয়ে ওয়াশিংটন যথেষ্ট সন্দিহান।
আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে মতভেদ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনা সফল হতে হলে তা শুধু পরমাণু কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা এবং নিজ দেশের জনগণের ওপর দমন-পীড়নের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
তবে সিএনএন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র নয়, আমরা এতে পুরোপুরি একমত। এর বিনিময়ে আমরা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চাই। এই চুক্তি সম্ভব। কিন্তু অসম্ভব কোনো বিষয় (মিসাইল বা প্রক্সি গোষ্ঠী) নিয়ে আলোচনা না করাই ভালো।’’
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ট্রাম্প ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা ‘বিপর্যস্ত’ হয়েছিল। তিনি সতর্ক করেন যে ইরান যদি নতুন কোনো স্থানে স্থাপনা তৈরির চেষ্টা করে তবে তার ফলাফল ‘খুবই খারাপ’ হবে।
অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও হতাহত ইরানে গত মাসে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থান নেয়।
মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA)-এর তথ্যমতে, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৪৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৬৪ জন শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে ইরান সরকার বলছে, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ এবং তাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। খামেনি এই বিক্ষোভকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। সূত্র: বিবিসি
মাহফুজ/