যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বিরোধী জনরোষ তুঙ্গে উঠেছে। বিশেষ করে ইসফাহানসহ বিভিন্ন শহরে ক্রমাগত বোমাবর্ষণের মধ্যেও বাসিন্দারা রাজপথে নেমে এসে তাদের অবাধ্যতা ও প্রতিরোধের সংকল্প প্রকাশ করছে।
ইসফাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহসিন ফারখানি আল জাজিরাকে জানান, ‘‘মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতকতা এবং মার্কিন ও জায়নিস্ট শাসকের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ, বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিক হত্যা এবং হাসপাতালে হামলার ঘটনায় এই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।’’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মনোভাব কেবল একটি শহরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের হামলার পর এটি এখন দেশব্যাপী জনমতের প্রতিফলন। যুদ্ধের ২৭ দিন পার হওয়ার পরও প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বোমাবর্ষণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষ রাজপথে থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে।
অধ্যাপক ফারখানি বলেন, অনেক ইরানি এখন এই সংঘাতকে তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন। পশ্চিমা দেশগুলো ভেবেছিল ইরানকে সহজেই ভেনেজুয়েলা বা সিরিয়ার মতো অস্থিতিশীল করে তাদের শাসনব্যবস্থা টপকে ফেলা যাবে, কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বিক্ষোভকারীদের মাঝে এখন দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের ডাক আরও জোরালো হচ্ছে। ফারখানির মতে, ইরানীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে গণ্য করছে। তারা বিশ্বাস করেন যে, একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ বা ডিটারেন্স তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে ইরানে হামলা করে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ শাসন ব্যবস্থাটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে দেশটিতে শাসন ব্যবস্থাটির পতন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমীকরণ বিপরীত ফল দিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানি জনগণের যে অংশটি বিক্ষোভ করেছিল সরকার পতনের তারাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্বরতায় হতবাক।
বিশ্লেষকদের মতে যুদ্ধত্তোর পরিস্থিতিতে এ অংশটি আর রাস্তায় নামায় অবস্থায় থাকবে না এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থা দেশটির রাজনৈতিক ক্ষমতায় আরও শক্তিশালী হবে। সূত্র: আল জাজিরা
মাহফুজ/