ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানিসংকট তীব্র হওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেশগুলো এখন জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। কোথাও কয়লা পোড়ানো বাড়ানো হচ্ছে, কোথাও জ্বালানি রেশনিং, আবার কোথাও কাজের সময় কমানো বা মানুষকে বাসায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এরই মধ্যে বাজার স্থিতিশীল করতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল রিজার্ভ থেকে ছাড়ার উদ্যোগ নিয়েছে এবং মানুষকে কম ভ্রমণ করা ও ধীরে গাড়ি চালানোর মতো পদক্ষেপ নিতে বলেছে। একেক অঞ্চল একেকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর আরও হামলার হুমকি দিয়েছে, যা সংকট আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। সরকার জনগণের জন্য বড় কোনো ভর্তুকি দেয়নি। বরং তেল-গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বন্ধ করেছে।
যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা
যুক্তরাজ্য জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং সীমিত আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া তিন মাসের জন্য জ্বালানির ওপর কর ৫০ শতাংশ কমিয়েছে। নিউজিল্যান্ড প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে নগদ সহায়তা দিচ্ছে। কানাডা তুলনামূলকভাবে কম হস্তক্ষেপ করছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে বাস্তবে কিছু দেশ আবার কয়লার দিকে ফিরছে। ইতালি কয়লা বন্ধের পরিকল্পনা পিছিয়েছে, আর জার্মানি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখার কথা ভাবছে। একই সঙ্গে কিছু দেশ ভর্তুকি ও কর কমিয়ে জনগণকে সহায়তা দিচ্ছে।
এশিয়া অঞ্চলে সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে, ফলে আবার কয়লার ব্যবহার বাড়ছে। ভারত পূর্ণ ক্ষমতায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াও পুরোনো কয়লাকেন্দ্র চালু করছে।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি রেশনিং ও চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হয়েছে। ভিয়েতনাম বাসা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিচ্ছে। থাইল্যান্ডে কম এসি ব্যবহার, ছোট হাতা পোশাক পরা এবং গাড়ি কম চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
চীন তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত, কারণ তারা আগে থেকেই বড় তেল রিজার্ভ গড়ে তুলেছে এবং বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি উৎপাদন বাড়িয়েছে।
আফ্রিকার অনেক দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, ফলে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দক্ষিণ আফ্রিকা জ্বালানির কর কমিয়েছে, তানজানিয়া দাম নির্ধারণ করেছে, ইথিওপিয়া ভর্তুকি দিচ্ছে এবং দক্ষিণ সুদান বিদ্যুৎ রেশনিং শুরু করেছে।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে অনেক দেশ জ্বালানির দাম বাড়তে দিয়েছে। চিলি আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে মিলিয়ে দাম বাড়িয়েছে, যদিও কিছু সহায়তাও দিয়েছে। আর্জেন্টিনা কর বাড়ানো স্থগিত করেছে। ব্রাজিল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কারণ তারা ইথানলভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান