অপরিচিত রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কুয়ায় পড়ে একই পরিবারের ৯ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়টি শিশু রয়েছে।
গত শুক্রবার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলায়।
পরিবারের তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও ছয়টি শিশু দিন্দোরির একটি কোচিং সেন্টারে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।
নিহতরা হলেন- সুনীল দারগুডে (৩২), তার স্ত্রী রেশমা (২৭), কন্যা গুণবন্তী (১১), সুনীলের শ্যালিকা আশা (৩২), তার সন্তান শ্রেয়াশ (১১), শ্রাবণী (১১), শ্রদ্ধা (১৩), সৃষ্টি (১৪), এবং এক আত্মীয়ের সন্তান সমৃদ্ধি (৭)।
ভারতের সংবাদমাধ্যম জানায়, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় এই ৯ জন প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে তাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গাড়িটি চালাচ্ছিল সুনীল। তিনি দ্রুত বাড়ি যেতে একটি সংক্ষিপ্ত পথ ধরার সিদ্ধান্ত নেন। এতেই হয় বিপত্তি। গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি কুয়ায় ধাক্কা খেয়ে তার মধ্যে পড়ে যায়।
গভীর কুয়ায় ৪০ ফুট পানি ছিল। শব্দ শুনে স্থানীয়রা কুয়ার দিকে ছুটে যান এবং দমকল বাহিনীকে খবর দেন। বাসিন্দারা উদ্ধারের চেষ্টা করেন, কিন্তু অন্ধকার এবং কুয়োর গভীরতায় তা সম্ভব হয়নি।
পরে দমকলের ডুবুরিরা দড়ি ব্যবহার করে গাড়িটিকে কূপ থেকে গাড়িটি টেনে তুলেন। পরে গাড়ির ভেতরে সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানো এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ধারায় পুলিশ মামলা করেছে।
মামলায় সুনীল দারগুডের বিরুদ্ধে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ এবং কুয়ার মালিক রাজেন্দ্র রাজের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে কুয়ার পাশ দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণ করা হলেও এটি বন্ধ করার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ ও কুয়ার মালিকের মধ্যে বিবাদ চলছিল।
কর্তৃপক্ষ কেন রাস্তার এতো কাছে একটি কুয়া থাকতে দিয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
অমিয়/