ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার পাঠ থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা সিরাজগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন এমপি আমির হামজা জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বড় পরিবর্তন আসছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সেই সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হোক নিশ্চিত আশ্রয় ইসলামী ব্যাংককে ২৫০০ কোটি টাকা ধার দিল বাংলাদেশ ব্যাংক আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার চার শর্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর গ্রেপ্তার টেকনাফে আঘাতপ্রাপ্ত মা হাতি লোকালয়ে, উদ্ধারে বন বিভাগের তৎপরতা ঝিনাইদহে দুর্নীতি বিরোধী চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা মিরপুরে মাদরাসার সাইনবোর্ড লাগানোর সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শিক্ষার্থীসহ দগ্ধ ৩ ইংল্যান্ড দলের চুরি যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার প্রাথমিক শিক্ষক বদলিতে বড় সংস্কার জাপানিজ সমর্থকরা কেন স্টেডিয়াম পরিষ্কার করেন? জামালপুরে মানববন্ধনে শিশুশ্রমকে লাল কার্ড প্রদর্শন ইন্টারনেট সেবাদাতাদের কার্যালয়ে হামলা-দখলের নিন্দা, শাস্তির দাবি আইএসপিএবির টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাদকের আখড়া মুন্সীগঞ্জে স্কুলছাত্রী ও তার মাকে হত্যার চেষ্টা, গ্রেপ্তার ১ এনএসইউ ট্রাস্টি বেনজীর আহমেদ ফের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল কাউন্সিলের কোষাধ্যক্ষ ফরিদপুরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু খুলনায় মসজিদে ঢুকে ২ মুসল্লিকে গুলি কু‌ড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈশ্বরদীতে ব্রাজিল-মরক্কো খেলা দিয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল উত্তেজনা শুরু ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১ শিশুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কিত নয় মরক্কো বেনাপোল বন্দরে ন্যায্য মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি স্থগিত এনড্রিককে নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আনচেলত্তি আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান
Nagad desktop

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই বলে জানিয়েছে ইরান।

সোমবার (২০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের পাকিস্তানে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পর তেহরান এই অবস্থান জানায়।

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ একটি বড় অচলাবস্থার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রোববার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি ইরানি জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি আটক করে।

তেহরান জানিয়েছে, তারা এর জবাব দেবে। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের জাহাজ আটক হওয়ার পর দেশটি মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোর দিকে ড্রোন পাঠিয়েছে।

রবিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ইরানি সূত্রের বরাতে জানায়, ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরবর্তী দফায় অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই।’

এর আগে ফার্স ও তাসনিম বার্তা সংস্থা অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে জানায়, ‘সামগ্রিক পরিবেশ খুব ইতিবাচক বলা যায় না’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহারকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানায়, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব দাবির’ কারণে ‘এই পরিস্থিতিতে ফলপ্রসূ আলোচনার কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা নেই।’

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল- এই তিন পক্ষ বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা সাময়িকভাবে থামাতে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়।

এ পর্যন্ত মাত্র এক দফা ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হয়, যা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। তবে এরপর নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল।

ট্রাম্প রোববার এক বার্তায় বলেন, ‘আমরা একটি খুবই ন্যায্য ও যুক্তিসংগত চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি, আশা করি তারা তা গ্রহণ করবে।’ একই সঙ্গে তিনি চুক্তি না হলে ইরানের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইরানি জাহাজে মার্কিন হামলা 
যুদ্ধের শুরুতেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় ট্রাম্পের ওপর চাপ তৈরি হয়, কারণ এটি বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

প্রণালিটি খুলে দিতে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে, যাতে তেহরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করা যায়।

রোববার ট্রাম্প জানান, ‘তৌস্কা’ নামের একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে মার্কিন নৌবাহিনী সেটিকে থামাতে গুলি চালায় এবং জাহাজটি আটক করে।

তিনি বলেন, জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষে গুলি করে সেটিকে থামানো হয় এবং বর্তমানে মার্কিন মেরিন সদস্যরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজটি পূর্বের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ডের এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, ‘এই সশস্ত্র জলদস্যুতা ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে শিগগিরই যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’

তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ‘তৌস্কা’ জাহাজে হামলা ও জব্দ করার পর ইরান মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোর দিকে ড্রোন পাঠিয়েছে।

লেবাননে ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির পর শুক্রবার ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ বজায় রাখায় পরদিনই তা আবার বন্ধ করে দেয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা ‘শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা’ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সামষ্টিক শাস্তি।

শনিবার স্বল্প সময়ের জন্য প্রণালি খোলা থাকায় কিছু তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করলেও রোববার সকালে তা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগের দিন বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের গুলি ও হুমকির তিনটি ঘটনা প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি স্পষ্ট করে তোলে।

নিরাপত্তা জোরদার
পাকিস্তানে সম্ভাব্য আলোচনাকে কেন্দ্র করে রোববার ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শহরের বিভিন্ন সড়ক বন্ধ ও যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তার আলোচক দল সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ পৌঁছবে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স; সঙ্গে থাকবেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

আলোচনার একটি প্রধান ইস্যু হলো ইরানের প্রায় অস্ত্রমানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত।

ট্রাম্প শুক্রবার দাবি করেন, ইরান প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মজুত ‘কোথাও স্থানান্তর করা হবে না’ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তা হস্তান্তরের বিষয়টি আলোচনায় কখনোই ওঠেনি। সূত্র: এএফপি

নাঈম/

আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
আরাগচির বিরুদ্ধে তেহরানে বিক্ষোভ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে দেশটির কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল ও নেতারা। বিক্ষোভকারীরা ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেন।

ইরানের আধাসরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, তেহরান এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে শত শত মানুষ স্লোগান দেন।

কট্টরপন্থীদের আপত্তির মূল কারণ:

হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা: কট্টরপন্থি নেতাদের দাবি, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের একক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমে যাবে।

গোপন সমঝোতার অভিযোগ: বিক্ষোভকারীদের মতে, চুক্তির খসড়ায় সরকার সাধারণ মানুষের কাছে যতটুকু প্রকাশ করেছে, তার চেয়েও অনেক বেশি বিষয়ে আমেরিকার কাছে আপস করা হয়েছে।

পরমাণু নীতিতে ছাড়: কট্টরপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি আরও বাড়ানোর পক্ষে সাফাই গেয়ে আসছেন। এমনকি বৈশ্বিক পরমাণু অস্ত্র অসংসারণ চুক্তি থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য তারা চাপ দিচ্ছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য: বিক্ষোভের মুখে এক টেলিভিশন ভাষণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের অন্যতম প্রধান প্রতিরোধ হাতিয়ার হিসেবেই থাকবে। তবে এই চুক্তির ফলে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থাকা মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি আনবে।

বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তিই কার্যকর করা যাবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবারই চুক্তি সইয়ের জোরালো দাবি তোলার পর ইরানের অভ্যন্তরে এই কট্টরপন্থিদের বিক্ষোভ চুক্তিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করল।

তামান্না রুপা/

কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:১৯ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো ট্রাম্পের নাম
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আদালতের নির্দেশ মেনে অবশেষে ওয়াশিংটন ডিসির বিখ্যাত কেনেডি সেন্টার থেকে অপসারণ করা হলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম।

পারফর্মিং আর্টস থিয়েটার কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে এবং ভবন, ওয়েবসাইটসহ সমস্ত নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

গত মে মাসের শেষভাগে মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার এক রুলে জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই জাতীয় স্মৃতিসৌধের নাম পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আদালত ১২ জুনের মধ্যে ট্রাম্পের নামফলক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

শুক্রবার (১২ জুন) থেকেই ক্রেন ও স্ক্যাফোল্ডিং এনে কাজ শুরু হয়, যা শনিবারের মধ্যে শেষ হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

২০২৫ সালে ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অংশ হিসেবে কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরবর্তীতে একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি সেন্টারের ট্রাস্টি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যকে সরিয়ে নিজেকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, এই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীত হওয়ায় ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘হ্যান্ডস অব দ্য আর্টস’ নামক একটি সংগঠন আইনি লড়াইয়ে নামে এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে ট্রাম্পের নামফলক সরিয়ে নেওয়া হয়। সূত্র: বিবিসি

তামান্না রুপা/অমিয়/

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি: সময় নিয়ে দ্বিমত তেহরানের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা হোসেইনি খামেনি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান এবং বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালী সচল করার লক্ষ্যে রবিবার (১৪ জুন) একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে ইরানের গলায়।

গতকাল শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামীকালই (রবিবার) এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। আর চুক্তি সম্পন্ন হওয়া মাত্রই হরমুজ প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।’ 

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি শান্ত হলে উপযুক্ত সময়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে পারমাণবিক বর্জ্য অপসারণ ও তা ধ্বংস করা হবে।

শান্তি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও ট্রাম্পের এই আশাবাদের প্রতিধ্বনি করেছেন। 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘‘আমরা একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এবং পাকিস্তান ইতোমধ্যেই এর ‘ইলেকট্রনিক সিগনেচার’ বা ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’’

তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে তেহরান ইতিবাচক হলেও এর নির্দিষ্ট সময় নিয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের সমঝোতা স্মারকের সঠিক তারিখের জন্য আমাদের আরও কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকালই (রবিবার) ঘটছে না।’

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য শুক্রবারই নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটবে, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দেয়।

গত এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি সপ্তাহেও উভয় পক্ষ কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি হামলায় লিপ্ত হয়। ফলে রবিবারের এই সম্ভাব্য চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে পারে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

তামান্না রুপা/অমিয়/

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা এবং দাফন প্রক্রিয়া জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা শনিবার (১৩ জুন) এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ও ৫ জুলাই তেহরানে একটি বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর ৬ জুলাই তেহরানে এবং ৭ জুলাই কোম শহরে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ৯ জুলাই মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠানের পর খামেনির মরদেহ সেখানে দাফন করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের শুরুতেই তেহরানে নিজের সরকারি বাসভবনে খামেনি নিহত হন। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত হন তারই ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় তিনিও আহত হয়েছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ/ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ধীরাজ শেঠ। বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ (ভিসিওএএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আগামী ৩০ জুন বিকেলে বর্তমান সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল শনিবার এই নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু। 

ধীরাজ শেঠ ১ এপ্রিল ২০২৬ সালে উপ-সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করেছেন, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও বিদ্রোহ দমন কার্যক্রমে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি মরু অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্ট, একটি আর্মার্ড ব্রিগেড এবং জম্মু-কাশ্মীরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে তিনি মর্যাদাপূর্ণ সুদর্শন চক্র কোরের কমান্ডার ছিলেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কমান্ড ও দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। খুব কম কর্মকর্তাই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

প্রচলিত যুদ্ধ পরিচালনা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং কৌশলগত নেতৃত্বে বিস্তৃত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ধীরাজ শেঠ এমন এক সময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং বাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।