ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে তাণ্ডব, আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর লুটপাট জর্ডান ম্যাচে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্কালোনির লক্ষ্মীপুরে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে যুবদলের বিক্ষোভ পোড়া ক্ষত সারাতে তেলাপিয়া মাছের চামড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনা দাউদকান্দি পৌরসভার ৪৩ কোটি টাকার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা ব্র্যাকের প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা পেলেন পেশাদার চালকের সনদ সিএনজি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য: জিম্মি যাত্রীরা বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অসামান্য গদ্যশৈলীর রূপকার টেকনাফে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ১০ মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় চ‍্যাম্পিয়ন লিডিং ইউনিভার্সিটি দল আখাউড়ায় ‘পার্টনার কংগ্রেস’ গোল্ডেন বুট নিয়ে ভাবছেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে সাবেক ভূমিমন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অস্তিত্ব সংকটে মমতার তৃণমূল সরাসরি মোবাইলেই মিলবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পদত্যাগ করলেন ১৮ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমারের কাউকে কিছু প্রমাণ করার নেই: জোয়াও কানসেলো স্ত্রীকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ব্যবসায়ী সোহেল খুনের অভিযোগ সালমান শাহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী ‘ওয়ার্ল্ড কাপ ডিবেট ২০২৬’ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৩য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গোপালগঞ্জে আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৬ অনুশীলনে নেইমার, বিশ্রামে অ্যালিসন চাঁদপুরে ৩ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যুবদলের মোটরসাইকেল শোডাউন নারী কেলঙ্কারির ঘটনায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ উদ্দিন বরখাস্ত বরগুনায় বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

তামিলনাড়ুর রাজনীতি যে চালে ‘হ্যাক’ করলেন বিজয়

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
তামিলনাড়ুর রাজনীতি যে চালে ‘হ্যাক’ করলেন বিজয়
ছবি: সংগৃহীত

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়। তার দল টিভিকে (TVK) রাজ্যে ১১৮ আসনের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। আর ডিএমকে জোট নেমে এসেছে ৭০ আসনে এবং এআইএডিএমকে ৫১ আসনে।

তবে এই ফলাফল হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। চলতি নির্বাচনি চক্রে এর জন্ম নয়। বরং বছরের পর বছর ধরে পরিকল্পনা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, পরিমার্জন এবং ধাপে ধাপে সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই এই সাফল্যের ভিত তৈরি হয়েছে।

প্রথম পর্যায়: অনুরাগীগোষ্ঠীকে সংগঠনে রূপান্তর
বিজয়ের শুরুটা হয়েছিল তার বিপুল জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে। তামিলনাড়ু জুড়ে লাখ লাখ অনুরাগী ‘রসিগর মণ্ডপ’-এ সংগঠিত ছিলেন। কিন্তু তিনি এটিকে নিছক ফ্যান ক্লাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং একে রূপ দেন একটি সুসংগঠিত সামাজিক নেটওয়ার্কে।

এই ইউনিটগুলো চলচ্চিত্র প্রচারের গণ্ডি পেরিয়ে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয় জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। যেমন- রক্তদান শিবির, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা এবং নানা সামাজিক উদ্যোগ।

এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো কর্মসূচি ছিল না। এটিকে ধারাবাহিক উপস্থিতির মাধ্যমে সমাজে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছে।

কোয়েম্বাটুরের মতো শহরগুলোতে এসব ফ্যান ক্লাবে হাজার হাজার সদস্য যুক্ত হন এবং সুসংগঠিত সেবামূলক ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি সাধারণ পরিবারের সঙ্গে একটি সরাসরি, অরাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ফলে নির্বাচনের সময় প্রথম পরিচয়ের চেষ্টায় ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কোনো দরকার ছিল না, বরং বহুদিনের সম্পর্কের রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে।

দ্বিতীয় পর্যায়: আসল নির্বাচনের আগেই নীরব নির্বাচন
২০২১ সালে বিজয় আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ না করেই তার সাংগঠনিক কাঠামোর প্রথম বড় পরীক্ষা নেন। সমর্থক সমিতির সদস্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কোনো দলীয় প্রতীক ছিল না, পূর্ণমাত্রার রাজনৈতিক প্রচারণাও ছিল না। তবুও নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।

প্রায় ১৬৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ১১৫ জন জয়ী হন। এটি ছিল এক কাঠামোগত যুগান্তকারী সাফল্য। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এই নেটওয়ার্ক প্রার্থী বাছাই, বুথ ব্যবস্থাপনা এবং ভোট সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলাতে সক্ষম।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল- ভোটাররা কোনো দলীয় প্রতীক ছাড়াই তাদের সমর্থন করেছিলেন।

তৃতীয় পর্যায়: গণঅনুসরণ থেকে বাছাই করা ক্যাডার
২০২৬-এর প্রস্তুতিতে আরও বেশি লোককে যুক্ত করার লক্ষ্য ছিল না বিজয়ের, বরং সঠিক মানুষদের বেছে নেওয়া হয়েছিল।

এ লক্ষে কর্পোরেট ধাঁচের বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করে টিভিকে। সাক্ষাৎকার, অতীত যাচাই এবং সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ- সবকিছুই ছিল সুপরিকল্পিত। শুধু ভক্তি বা আবেগ দিয়ে কাউকে দায়িত্ব পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়নি।

ওয়ার্ড ইনচার্জ, বুথ অ্যাজেন্ট এবং নির্বাচনী এলাকার সমন্বয়কারীদের নির্বাচন করা হয় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নয়, বরং দক্ষতা ও প্রক্রিয়াগত যাচাইয়ের মাধ্যমে। ফলে আন্দোলনটি তার আবেগঘন ভিত্তি বজায় রেখেও সাংগঠনিক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ ছিল।

চতুর্থ পর্যায়: যখন প্রতীক হয়ে ওঠে সংকেত
দলের প্রতীক ‘বাঁশি’ পরিকল্পিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সহজে মানুষের মধ্যে প্রতিধ্বনি হয়। ফলে প্রতীকটি শুধু ব্যানারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ঘরে ঘরেও পৌঁছে যায়।

অনেক নারী তাদের বাড়ির সামনে বাঁশির আকৃতির কোলাম আঁকতে শুরু করেন, যা ধীরে ধীরে মহল্লা থেকে মহল্লায় সমর্থনকে দৃশ্যমান করে। 

এই আন্দোলন একইসঙ্গে অনলাইন ও অফলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, আর এর সমন্বয় করেছিল সেই স্থানীয় ইউনিটগুলো, যারা একসময় চলচ্চিত্রের অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। সবকিছুই ছিল স্বাভাবিক, সাবলীল এবং পদ্ধতিনির্ভর।

পঞ্চম পর্যায়: প্রচারণার অন্তর্নিহিত নেটওয়ার্ক
দৃশ্যমান প্রচারণার আড়ালে ছিল বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা একটি সুসংহত অবকাঠামো। বছরের পর বছর সক্রিয় থাকা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলো নির্বাচনী প্রচারের প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। স্বেচ্ছাসেবকেরা সামলান পতাকা বিতরণ, পরিবহন, জনসমাগম এবং দৈনন্দিন যোগাযোগ। বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের কাজ শূন্য থেকে গড়ে তুলতে হয়নি; কেবল বিদ্যমান কাঠামোকে সক্রিয় করা হয়েছিল।

তবে, শীর্ষ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছিলেন বিজয়। স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক তৈরি করেছিল একটি কার্যকর ফিডব্যাক লুপ। বুথ-স্তরের তথ্য ওপরে পৌঁছাত, আর কেন্দ্রীয় বার্তা নিচে নেমে আসত- যার মূল ফোকাস ছিল দুর্নীতির বিরোধিতা, জনকল্যাণ এবং যুবসমাজ।

এই কাঠামো বিকেন্দ্রীভূত বাস্তবায়নের সঙ্গে কঠোর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণের এক অনন্য সমন্বয় তৈরি করেছিল।

ষষ্ঠ পর্যায়: পরিচয়ের গভীর রাজনীতি
প্রতিটি পর্যায়েই সমর্থকদের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় ছিল। তাদের প্রায়শই বলা হতো ‘অনিল’। তামিল রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে শব্দটির গভীর তাৎপর্য রয়েছে। ‘অনিল’ শব্দের অর্থ কাঠবিড়ালি।

২০১১ সালের তামিলনাড়ু নির্বাচনের সময়, যখন বিজয় এবং তার সংগঠন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম জে. জয়ললিতা ও এআইএডিএমকে জোটকে সমর্থন করেছিল, তখন বিজয় বা তার বাবা এস এ চন্দ্রশেখর রামায়ণের সেই কাঠবিড়ালির উপমা টেনেছিলেন, যে ভগবান রামকে লঙ্কায় যাওয়ার সেতু নির্মাণে ক্ষুদ্র অবদান রেখেছিল।

মূল বার্তাটি ছিল অত্যন্ত সরল- ক্ষুদ্র অবদানকারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বড় বিজয়ের ভিত্তি গড়ে তোলে।

প্রথমদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির অনলাইনে ‘অনিল’ শব্দটি বিদ্রূপাত্মকভাবে ব্যবহার করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই নামই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে তা বিজয়ের সমর্থকদের গর্বের পরিচয়ে পরিণত হয়।

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বিজয়ের উত্থান শুধু একজন তারকার রাজনৈতিক আগমন নয়; এটি দেখিয়ে দিল কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, প্রতীকী যোগাযোগ এবং সামাজিক ভিত্তি মিলিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। সূত্র: এনডিটিভি

অমিয়/

ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে সেখানে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও চালানো হয়েছে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখেছে এই কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধ ছাড়াও ২০১৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইসরায়েলি নিরাপত্তাবাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে নিশানা করেছে ও হত্যা করেছে।'

শিশুদের টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

থিওটোনিয়াস/

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল
রাশিয়ার তুপোলেভ তু-১৬০ (Tu-160) বোমারু বিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলে বিশেষ টহল দিয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ‘তুপোলেভ তু-১৬০’ (Tu-160) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানগুলো বেরেন্টস এবং নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে এই উড্ডয়ন সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ মিশনে বোমারু বিমানগুলোর সুরক্ষায় সঙ্গে ছিল ‘মিগ-৩১’ ফাইটার জেট। নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাঝ-আকাশেই জ্বালানি ভরার বিশেষ মহড়াও  সম্পন্ন করেছে বিমানগুলো। তবে দীর্ঘ এই যাত্রাপথের কিছু অংশে বিদেশি যুদ্ধবিমান রুশ বহরটিকে অনুসরণ বা ছায়ার মতো তাড়া করেছিল বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, 'রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের সমস্ত ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে পরিচালনা করা হয়েছে।'

বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে গত মাসেই রাশিয়া ও বেলারুশ তাদের প্রথম যৌথ পারমাণবিক মহড়া সম্পন্ন করে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তবে চলতি মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার ওপর আগে হামলা না হলে তারা ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে আক্রমণ করবেন না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একটি নিবন্ধে সতর্ক করে লিখেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সামরিক সহায়তা প্রদান এবং ইউরোপের ক্রমাগত সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার ফলাফল হবে পুরো পৃথিবীর জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। সূত্র: আরটি

আজহার/

ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় তিনতলা একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছেে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। 

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের অধিকাংশই একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনতলা ওই ভবনটিতে একটি গ্রাফিক্স অ্যানিমেশন সেন্টার, পোষা প্রাণীর দোকান এবং একটি লাইব্রেরি ছিল। আগুন লাগার সময় ভবনটির দ্বিতীয় তলায় অ্যানিমেশন সেন্টারের ক্লাস চলছিল। হঠাৎ আগুন লেগে চারদিক ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অনেক শিক্ষার্থী ভেতরেই আটকে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন। এছাড়া নিচতলায় থাকা পোষা প্রাণীর দোকানে আগুনে পুড়ে চারটি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও জ্বালানিমন্ত্রী এ কে শর্মা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে- ভবনের এসি ডাক্ট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পর্যাপ্ত জরুরি নির্গমন পথ না থাকায় ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভবনের নিরাপত্তা মান লঙ্ঘনের বিষয়টি তদন্ত করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনীর ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অবহেলার অভিযোগে ভবনের তিন মালিক- রাম কৃষ্ণ উপাধ্যায়, বিরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষার কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দায়িত্ব অবহেলার দায়ে চার সরকারি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার আসল কারণ উদঘাটনে রাজ্য সরকার দুই সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, যাদের আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আলিগড়ে নির্ধারিত সফর সংক্ষিপ্ত করে লখনউয়ে ফিরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি ঘোষণা দেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৩টি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: দ্য হিন্দু

খাদিজা রুমি/অমিয়/

কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম
কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬
প্ল্যানেট ল্যাবস পিবিসি-এর এই কৃত্রিম উপগ্রহের ছবিতে ২০২৬ সালের ৬ মার্চের কাতারের রাস লাফান শিল্প এলাকা দেখা যাচ্ছে

কাতারের রাস লাফান শিল্পনগরীর একটি গ্যাস কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত  এবং ৬৬ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১২ জনই ভারতীয় নাগরিক এবং বাকি একজন পাকিস্তানি নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ ও দোহায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস।

রবিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় কাতার এনার্জির 'বারজান লোকাল গ্যাস সাপ্লাই' কারখানায় কাজ শুরু করার সময় একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে এই বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানা থেকে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস লিক হয়নি এবং পরিবেশ বা জনসাধারণের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে ভারতীয় দূতাবাস এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের জরুরি সহায়তা দিতে দূতাবাস কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কাতার প্রশাসন ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সুত্র: দা হিন্দু

তামান্না রুপা/

ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ এএম
ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

সংঘাত নিরসনে আলোচনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার (২২ জুন) ৬০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা মওকুফের একটি আদেশ জারি করেছে মার্কিন ট্রেজারি, যা যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের তেল উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির পথ প্রশস্ত করেছে। 

এ মওকুফটি ছিল ১৭ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) একটি শর্ত।

মার্কিন ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এমওইউ-এর বেশ কয়েকটি শর্ত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, ‌‌‘ইরান হরমুজ প্রণালীতে অবাধ ও উন্মুক্ত ট্রানজিট এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই কাঠামোর অংশ হিসেবে, ট্রেজারি একটি অস্থায়ী ৬০ দিনের সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা ইরানি তেলের উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রয়ের অনুমোদন দেয়।’

এই লাইসেন্সটি ২১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বা পেট্রোলিয়াম পণ্য অন্তর্ভুক্ত। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি তেল আমদানির অনুমতি দেয়, কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা উত্তর কোরিয়া বা কিউবা, অথবা রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনের সঙ্গে লেনদেনের অনুমোদন দেয় না।

তবে এ ছাড়ের খবরের পর তেলের দামের সাম্প্রতিক পতন অব্যাহত রয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেল প্রতি ৭৭ দশমি ৭ ডলারে নেমে আসে।

থিওটোনিয়াস/অমিয়/