ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর হুঁশিয়ারি চীনের

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর হুঁশিয়ারি চীনের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণী এই বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাইওয়ান ইস্যুটি যদি ‘সঠিকভাবে পরিচালনা’ করা না হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত, এমনকি যুদ্ধও বেঁধে যেতে পারে। 

এ ছাড়া বৈঠকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শি জিনপিং। তিনি বলেন, সংঘাত নয় বরং অংশীদারত্বই দুই দেশের সমৃদ্ধির পথ। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে মতপার্থক্য ভুলে বড় শক্তি হিসেবে একে অপরকে সফল করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে দুই নেতার মধ্যে প্রায় ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। গত বছরের তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তাইওয়ান প্রশ্ন এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি।

বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউস একে ‘ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তাইওয়ান প্রসঙ্গে তারা নীরব ছিল। তবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শি জিনপিংয়ের বক্তব্যের একটি বিবরণ প্রকাশ করেছেন। সেখানে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সরাসরি বলেন, ‘চীন-মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। অন্যথায় দুই দেশ সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্বজুড়ে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করবে।’

শি জিনপিং আরও বলেন, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ এবং প্রণালির শান্তি কখনোই একসঙ্গে চলতে পারে না; যেমন আগুন এবং পানি পরস্পরবিরোধী। তিনি সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন দুই দেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। উল্লেখ্য, তাইওয়ান একটি গণতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্র, যা বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরি করে। চীন দীর্ঘদিন ধরে এটিকে নিজেদের অংশ মনে করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তা দখলের হুমকি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিক সহায়তা দিলেও সরাসরি যুদ্ধে নামবে কি না, তা নিয়ে সব সময় অস্পষ্টতা বজায় রেখেছে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া উচিত: জিনপিং

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিযোগিতা নয়, সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন শি জিনপিং। তিনি বলেছেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হওয়া উচিত। বৈঠকের শুরুতে দেওয়া বক্তব্যে শি জিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র–দুই দেশই সহযোগিতা থেকে লাভবান হতে পারে এবং সংঘাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ 

তিনি বলেন, এই বৈঠকের দিকে বিশ্বজুড়ে মানুষের নজর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন যুগে বড় শক্তিধর দেশগুলো কীভাবে একসঙ্গে চলবে, আমাদের সেই সঠিক পথ খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের একে অপরকে সফল হতে সহায়তা করতে হবে এবং একসঙ্গে সমৃদ্ধ হতে হবে।’

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি সব সময় বিশ্বাস করেন যে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থই বেশি। তার ভাষায়, ‘এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্যও একটি সুযোগ।’ পাশাপাশি স্থিতিশীল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিশ্বের জন্যও উপকারী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট জিনপিং জানান, দুই দেশের পাশাপাশি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি আরও আলোচনা করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে’ চান বলেও উল্লেখ করেন।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা
তাইওয়ান নিয়ে উত্তেজনা থাকলেও বাণিজ্য ইস্যুতে দুই নেতা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। গত বছরের নজিরবিহীন বাণিজ্যযুদ্ধের পর যেখানে উভয় দেশ একে অপরের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, সেখানে এবার নমনীয়তা দেখা গেছে। শি জিনপিং বলেন, ‘চীন-আমেরিকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই লাভজনক। বাণিজ্যযুদ্ধে কারও জয় হয় না। আলোচনার মাধ্যমেই সব মতভেদ দূর করা সম্ভব।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে একটি চমৎকার ভবিষ্যৎ গড়তে যাচ্ছি।’ ট্রাম্পের এই সফরে তার সঙ্গে মার্কিন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল ছিল। টেসলার সিইও ইলন মাস্ক, এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং এবং অ্যাপলের বিদায়ী সিইও টিম কুকের মতো ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই প্রধান নির্বাহীদের শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এনভিডিয়া চীনে তাদের উন্নত চিপ বিক্রির সুযোগ খুঁজছে। বৈঠক শেষে ইলন মাস্ক ও জেনসেন হুয়াং জানান, আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে একমত দুই নেতা
বৈঠকে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন জ্বালানি তেলের অবাধ প্রবাহ অব্যাহত থাকে, সে বিষয়ে দুই নেতা একমত হয়েছেন। শি জিনপিং স্পষ্ট করেছেন, চীন হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করার বিরোধী। তবে চীন তার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি তেল কেনার আগ্রহ দেখিয়েছে, যাতে এই অঞ্চলের ওপর তাদের নির্ভরতা কমে। এ ছাড়া ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের ওপর চীনের অর্থনৈতিক সমর্থন কমানোর জন্য তারা চাপ দিচ্ছেন। কারণ চীন হলো ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি সেখানে ব্যস্ত থাকায় বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ওয়াশিংটনের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।

দিনের শুরুতে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে ট্রাম্পকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ব্যান্ড দল, সামরিক কুচকাওয়াজ এবং ছোট ছোট শিশুর পতাকা নাড়ানোর মধ্য দিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। বৈঠক ও মন্দির পরিদর্শনের পর এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তার স্ত্রীকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ট্রাম্প শি জিনপিংকে একজন ‘মহান নেতা’ এবং ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন। তিনি বলেন, বেইজিং একটি সুন্দর এবং অবিশ্বাস্য জায়গা। যদিও পেছনে তাইওয়ান ও বাণিজ্য নিয়ে গভীর বিরোধ রয়ে গেছে, তবুও এই সফরের মাধ্যমে দুই পরাশক্তি সম্পর্কের বরফ গলানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০১৭ সালের পর এটিই কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। দুপক্ষই এখন চাইছে গত বছরের সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে। তবে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অনড় অবস্থান আগামী দিনে এই বন্ধুত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

এবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আট শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করেছেন দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, অরূপ বিশ্বাস এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দলবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিখিল ভারত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রথমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই কালবিলম্ব না করে দুপুরে তাদের দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তবে এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এক গভীর সাংগঠনিক ফাটল। গত সোমবার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ২০২২ সালে সর্বশেষ কমিটি গঠনের পর নতুন কমিটি না হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত ভোটে ৩০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। 

বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে প্রবীণ নেতা ও হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে তাদের নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছে। নতুন এই কমিটিতে সহ-সভাপতি বা ভাইস চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে। এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ওই বৈঠক ও কমিটি গঠন করায় ক্ষুব্ধ হন মমতা। তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর কারণে তার ঘনিষ্ঠ ৮ নেতাকে গতকাল বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত এই আটজন সিনিয়র নেতা ও বিধায়ক ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রতের ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিজের দিকে টেনে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী দিনে এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে। তিনি জেলা সভাপতি ও জেলা কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তারা অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারা চান ‘দিদি’ মেন্টর বা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করুন এবং তাদের পথ দেখান। 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।

এই অর্জনকে ‘সর্বকালীন রেকর্ড’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লিখেন, ‘তেলের দাম হু হু করে কমছে এবং বিশ্ব এখন অনেক বেশি নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে!’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়াকে নিজের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প।


তবে ট্রাম্পের দেয়া এই পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাসের যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।

রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। ফ্রান্সসহ বেশির ভাগ দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তারও বেশি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ফ্রান্সে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে গত কয়েক দিনে দেশটিতে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকের পর জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাপপ্রবাহসম্পর্কিত ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ।

তিনি বলেন, ‘এরা এই সংকটের প্রথম শিকার।’ প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে দেশজুড়ে জনজীবনে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাতটি ছিল ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া রেকর্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত। গড় তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তীব্র গরমে ফ্রান্সের বহু শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে। বোর্দো ও পোয়াতিয়েরসহ একাধিক শহরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫৪টি অঞ্চলে রেড হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেকেই অনুমোদনহীন নদী ও জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই শিশু এবং বয়স্ক কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে, যা তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে চলমান এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনকেও প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাজ্যে ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। স্পেনের কিছু এলাকায়ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আল-জাজিরা/এসএন

ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে সেখানে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও চালানো হয়েছে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখেছে এই কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধ ছাড়াও ২০১৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইসরায়েলি নিরাপত্তাবাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে নিশানা করেছে ও হত্যা করেছে।'

শিশুদের টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

থিওটোনিয়াস/

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল
রাশিয়ার তুপোলেভ তু-১৬০ (Tu-160) বোমারু বিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলে বিশেষ টহল দিয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ‘তুপোলেভ তু-১৬০’ (Tu-160) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানগুলো বেরেন্টস এবং নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে এই উড্ডয়ন সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ মিশনে বোমারু বিমানগুলোর সুরক্ষায় সঙ্গে ছিল ‘মিগ-৩১’ ফাইটার জেট। নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাঝ-আকাশেই জ্বালানি ভরার বিশেষ মহড়াও  সম্পন্ন করেছে বিমানগুলো। তবে দীর্ঘ এই যাত্রাপথের কিছু অংশে বিদেশি যুদ্ধবিমান রুশ বহরটিকে অনুসরণ বা ছায়ার মতো তাড়া করেছিল বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, 'রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের সমস্ত ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে পরিচালনা করা হয়েছে।'

বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে গত মাসেই রাশিয়া ও বেলারুশ তাদের প্রথম যৌথ পারমাণবিক মহড়া সম্পন্ন করে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তবে চলতি মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার ওপর আগে হামলা না হলে তারা ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে আক্রমণ করবেন না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একটি নিবন্ধে সতর্ক করে লিখেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সামরিক সহায়তা প্রদান এবং ইউরোপের ক্রমাগত সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার ফলাফল হবে পুরো পৃথিবীর জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। সূত্র: আরটি

আজহার/