ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

ব্রিকস সম্মেলনে পড়তে পারে ইরান যুদ্ধের ছায়া

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ব্রিকস সম্মেলনে পড়তে পারে ইরান যুদ্ধের ছায়া
নয়াদিল্লিতে গতকাল বিক্রস সম্মেলনস্থলেইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে হাত মেলাতে দেখা যায়।

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে গতকাল বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক। দুই দিনের এই সম্মেলনের ওপর ইরান যুদ্ধের ছায়া পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন সফরে রয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী বক্তব্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর আন্তর্জাতিক জলপথে ‘নিরাপদ ও বাধাহীন নৌ চলাচল’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি অবরোধের মধ্যে রয়েছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানান। তার ভাষায়, তেহরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ চালানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকসের ভেতরেই বিভাজন তৈরি হয়েছে। আয়োজক ভারতকে একদিকে ইরান, অন্যদিকে ব্রিকস সদস্য আমিরাত ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।

ব্রিকস হলো উদীয়মান অর্থনীতির বড় দেশগুলোর একটি জোট, যারা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিতে সমন্বয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠ জোরালো করতে চায়।

ব্রিকস নামটি এসেছে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার নামের প্রথম অক্ষর থেকে। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন নিয়ে ‘ব্রিক’ হিসেবে যাত্রা শুরু হয়। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দিলে এর নাম হয় ব্রিকস।

২০২৩ সালে সদস্যপদের জন্য আবেদন করার পর মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলেও অন্য দেশগুলো যোগ দিয়েছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু ২০২৩ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনি প্রচার চালানোর কারণে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইন্দোনেশিয়া ব্রিকসে যোগ দেয়। ২০২৩ সালের জোহানেসবার্গ সম্মেলনে তাদের সদস্যপদ অনুমোদন করা হয়েছিল। প্রতি বছর ব্রিকস সদস্যরা একটি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং পালাক্রমে আয়োজক হয়। গত বছর সম্মেলন আয়োজন করেছিল ব্রাজিল, তার আগের বছর রাশিয়া। এ বছর আয়োজক ভারত।

এই সপ্তাহের বৈঠকে ব্রিকস দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে ১৪ ও ১৫ মে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বৈঠক শুরু হয় এবং দিনভর বিভিন্ন অধিবেশন হয়। আজ শুক্রবার আরও একটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

একটি ছাড়া সব বৈঠকই ভারতের সুপ্রিম কোর্টের কাছে অবস্থিত ভারত মণ্ডপম কনভেনশন সেন্টারে হবে।  বৈঠকে ব্রিকস সদস্য ও বাইরের বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রোনাল্ড লামোলা এবং ব্রাজিলের মাউরো ভিয়েরা উপস্থিত রয়েছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়্যাং ই ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কারণে উপস্থিত থাকছেন না। তার বদলে ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং চীনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ইতোমধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো গত বুধবারই সেখানে পৌঁছান।

তবে ইরান-আমিরাত উত্তেজনা বাড়লেও ব্রিকস বৈঠকে আমিরাতের প্রতিনিধিত্ব কে করছেন, তা স্পষ্ট নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এবারের বৈঠকের প্রতিপাদ্য হলো ‘স্থিতিশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়ন গড়ে তোলা’। এতে জনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সংক্রামক-অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হবে।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তবে ইরান যুদ্ধই আলোচনায় প্রাধান্য পাবে এবং সেপ্টেম্বরের বার্ষিক ব্রিকস সম্মেলনের এজেন্ডাও নির্ধারণ করবে। ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের নীতিবিশেষজ্ঞ রাফায়েল লস আল-জাজিরাকে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ সম্ভবত ব্রিকস সম্মেলন এবং ট্রাম্প-শি বৈঠক দুয়ের ওপরই প্রভাব ফেলবে।’

গত বৃহস্পতিবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ৭৬তম দিন চলছে। সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, মূল অধিবেশনের পাশাপাশি আরাঘচি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করসহ বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করবেন।

লতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক ব্রিকস উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষ দূতদের বৈঠকের আয়োজন করেছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভাষা ব্যবহারে ইরান ও আমিরাতের বিরোধের কারণে সেই বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হয়।
এরপর থেকে ইরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তেহরানের যুদ্ধসংক্রান্ত বক্তব্যেও আমিরাতকে ক্রমেই বেশি লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

এ ছাড়া গাজা যুদ্ধ নিয়েও ব্রিকসের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। এপ্রিলের বৈঠকে ভারত ইসরায়েলের সমালোচনা কিছুটা নরম করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে সদস্যরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি।

সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেন ডানফোর্ড বলেন, ‘ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমিরাত উত্তেজনার কারণে ব্রিকসের ঐক্য এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।’ ট্রাম্প গত বুধবার সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন এবং শুক্রবার একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন।

মাইকেল ডানফোর্ড বলেন, ট্রাম্পের চীন সফরের সঙ্গে ব্রিকস বৈঠকের সময় মিলে যাওয়ায় ওয়াং ই উপস্থিত থাকতে পারছেন না এবং চীনের প্রতিনিধিত্ব করছেন রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং।

রাফায়েল লসের মতে, ট্রাম্প সম্ভবত শি জিনপিংকে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন, যাতে তেহরান উপসাগরীয় নৌ উত্তেজনা কমায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। তার মতে, অতীতে চীন দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক সংকট ব্যবস্থাপনায় সরাসরি জড়াতে চাইত না। বরং চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করত। যেমন ২০২৩ সালের ইরান-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ চুক্তির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল, যা পরে ভেঙে পড়ে। সূত্র: আল-জাজিরা

কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জরুরি সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) তাদের অংশীদারিত্ব নবায়ন করেছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ অতিরিক্ত ১ দশমিক ৪ কোটি ইউরো অনুদান দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ তথ্য জানায় ইউএনএইচসিআর।

এই অর্থায়নের মাধ্যমে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে। এর আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানি হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার বলেন, ‘বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে থাকতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটে এখন শুধু জরুরি সহায়তা নয়, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়ের সুযোগ তৈরির দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘এই সহায়তা কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণকে উপকৃত করবে এবং রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াবে, যাতে তারা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।’

ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে কঠিন পরিস্থিতিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর জন্য ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সহযোগিতা তাদের সুরক্ষা, মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের আশা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।’

২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবসের ঠিক আগে এ সহায়তা ঘোষণা করা হলো। এ দিবসটি সংঘাত ও সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দৃঢ়তা ও মানবিক সংকটের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতি পুনর্ব্যক্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এসএন/

নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান সেদেশের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে তার কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত দুই বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় পক্ষ উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ এখনো সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে অধিকতর সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ–নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।

রবিউল /এসএন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পুশইন, সংলাপের পরামর্শ জাতিসংঘের
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। ছবি: সংগৃহীহ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্তে পুশইন সমস্যা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

বুধবার (১৭ জুন) নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্টিফেন ডুজারিকের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শত শত শিশু ও নারীর জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে। নারীরা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব এই বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

জবাবে জাতিসংঘ মহসচিবের মুখপাত্র বলেন, ‘দেখুন, আমি মনে করি বিষয়টি দুই দেশের সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। এতে মানুষের মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান থাকতে হবে।’

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নবনির্বাচিত সভাপতি বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কয়েক মাস পরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। অন্যদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর আগে শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ পদে তাদের অবস্থানের ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত হবে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয় মহাসচিবের মুখপাত্রকে।

জবাবে ডুজারিক বলেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাই মহাসচিব এবং সাধারণ পরিষদের সভাপতির মধ্যে যে যোগাযোগ হবে, তা সাধারণ পরিষদ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই হবে। আর রোহিঙ্গাবিষয়ক কাজ চলতে থাকবে।’

এসএন/

আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বহাল থাকছেন বলে রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, ‘আবেদনকারীর পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির মতো কোনো প্রাথমিক ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন খারিজ করা হলো।’

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বিরোধী পক্ষকে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দিতে হবে। তার জবাব আবেদনকারীকে পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ জুলাই। ফলে সেই সময় পর্যন্ত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পালন করবেন।

রায় প্রকাশের পর মুখ খুলেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহা। 

তার দাবি, ‘আদালতের এই রায়ে আমাদের নৈতিক জয় হয়েছে। আমাদের বিধায়কের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।’

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃার হওয়ার পরও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। 

প্রশ্ন ওঠে, বহিষ্কৃত একজন বিধায়ককে কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?

বুধবার মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট এই বিষয়েই একাধিক প্রশ্ন তোলে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে আদালত জানিয়ে দেয়, ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু দলের বিদ্রোহী শিবির সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে। 

প্রথমে ৫৮ জন এবং পরে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি তুলে তারা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করেন। সেই সংক্রান্ত চিঠি গ্রহণ করেন স্পিকার।

এই প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রথম চিঠিটিকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হলো না এবং কেন পরবর্তী চিঠিটি গ্রহণ করা হলো।

আদালতে জানানো হয়, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ পেয়েছিলেন স্পিকার। 

বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষকে ডেকে শুনানি করা উচিত ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।

বিচারপতি আরও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কি স্পিকার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নাকি দলীয় অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন? 

তার মন্তব্য, ‘বিধায়কদের স্বাক্ষর জাল কি না, সেই প্রশ্নে আমি যাচ্ছি না। তবে যিনি প্রথম আবেদন করেছিলেন, তাকে শুনানির সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া কতটা সঙ্গত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি মানা জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ৭৮ জন বিধায়কের সমর্থনের দাবি করা হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা কতটা যাচাই করা হয়েছে? যদি স্পিকার ১ জুন বহিষ্কারের চিঠি পেয়ে থাকেন, তাহলে বহিষ্কৃত একজন ব্যক্তিকেই কীভাবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলো?’

বুধবার আদালত রায় সংরক্ষণ করেছিল। বৃহস্পতিবার সেই রায় ঘোষণা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদে বহাল থাকবেন। সূত্র: আজতক

কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
কানাডায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
মো. ইস্তিনাব মাহী। ছবি: সংগৃহীত

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইস্তিনাব মাহী (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার রাত ১টা ৩২ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাহির বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় অবস্থান করছিলেন।

নিহত মাহি চট্টগ্রামের মো. মহিব উল্লাহ ও পারভিন আক্তার দম্পতির সন্তান। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং ২০২১ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ড-এর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।

স্থানীয় পুলিশ সংস্থা রয়্যাল নিউফাউন্ডল্যান্ড কনস্ট্যাবুলারি (আরএনসি) জানায়, চার আরোহী নিয়ে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে সড়কের পাশের কবরস্থানের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত চারজনকে হাসপাতালে নেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহীকে মৃত ঘোষণা করেন। গাড়িতে থাকা অন্য তিন আরোহী আহত হলেও তারা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাহীর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় কানাডায় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কমিউনিটি নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্তরা/