ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেক্সিকোর চোখ গ্রুপসেরায়, দ.কোরিয়ার সামনে নকআউট নিশ্চিতের সুযোগ অপেক্ষা ফুরাচ্ছে ওচোয়ার! ইংল্যান্ডকে জিততে দিল না ঘানা মায়ের মৃত্যুতে দেশে ফিরে গেলেন ফ্রান্সের কোচ অতঃপর দেম্বেলে… প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডকে রুখে দিল ঘানা বিশ্বকাপে ইরানের সফর নীতি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের ক্যানভাসে চিরযৌবন নেইমারে ভয় নেই স্কটল্যান্ডের মাঠে হেঁটেই সফল মেসি রোনালদোর রেকর্ডের রাতে পর্তুগালের গোল উৎসব ৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের নতুন কৌশল

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৯ মে ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে ইরানের নতুন কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালীর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায় ইরান। এই লক্ষ্যে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি পরিচালনার জন্য নতুন একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।

দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার (১৮ মে) জানায়, ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নামে নতুন সংস্থা প্রণালীটির কার্যক্রম ও সর্বশেষ পরিস্থিতির রিয়েল-টাইম আপডেট দেবে। শান্তিকালীন বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে বিমা দেওয়ার ইরানি পরিকল্পনা প্রকাশের দুই দিন পর এই ঘোষণা এল। গত শনিবার ইরানের আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান এই প্রণালী ও পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য বিমার ব্যবস্থা করবে। বিমার টাকা পরিশোধ করতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করে। এরপর থেকে ইরানি কর্মকর্তা ও আইনপ্রণেতারা এই প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট চার্জ বা নিরাপত্তা মাশুল আরোপের দাবি তুলছেন। তেহরান স্বীকার করেছে, এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের কাছ থেকে তারা টোল নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান প্রণালীটি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এখন এই পথে চলাচল করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, আন্তর্জাতিক জলপথ বিশ্বব্যাপী জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কোনো দেশই ট্রানজিট পারাপারের ওপর একতরফা টোল আরোপ করতে পারে না। 

চীনও জলপথে অবাধ চলাচল সীমিত করার যেকোনো পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।

ফার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘হরমুজ সেফ ওয়েবসাইট’ প্রণালীটি দিয়ে চলাচলকারী সামুদ্রিক পণ্যসম্ভারের জন্য বিমা দেওয়া শুরু করেছে। এই প্রস্তাবে জাহাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক বিমা পণ্য ও ‘এনক্রিপ্টেড যাচাইকরণ সক্ষমতা’ থাকবে।

বিমার লেনদেন সম্পন্ন হবে বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এই কর্মসূচি থেকে ইরানের বার্ষিক ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রাজস্ব আয় হতে পারে। তাদের দাবি, ‘নিশ্চিতকরণের মুহূর্ত থেকেই পণ্যের নিশ্চয়তা দেওয়া হয় ও মালিককে একটি স্বাক্ষরিত রসিদ দেওয়া হয়।’

ইরান জানিয়েছে, প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের খরচ তুলতেই এই টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপ করা হচ্ছে। এর আগে এই প্রণালী সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত ও অবাধ ছিল।

অনেক শিপিং কোম্পানি এই বিমার প্রস্তাবটিকে ট্রানজিট চার্জের ভিন্ন রূপ হিসেবে দেখছে। মার্চ মাসে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অনিয়মিত ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করে। প্রতি যাত্রায় এই ফি ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঠেকেছিল।

প্রস্তাবিত বিমা ব্যবস্থাটি নিরাপদ যাত্রাপথ ও আর্থিক সুরক্ষাকে এক করে ওই টোলের ধারণাটিকেই নতুন রূপ দিচ্ছে। প্রকাশ্যে একে টোল না বলে তেহরান একটি বাণিজ্যিক বিমা ঝুঁকি-ব্যবস্থাপনা পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরছে।

সমুদ্র আইনসংক্রান্ত জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে আন্তর্জাতিক প্রণালী বা আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করা যায় না। শিক্ষাবিদ আব্দুল খালিকের মতে, ইরান এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে গুরুতর আর্থিক, আইনি ও কার্যনির্বাহী বাধার মুখে পড়বে।

লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটি মেরিটাইম সেন্টারের প্রধান খালিক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সামুদ্রিক বিমার বিশাল ক্ষতিপূরণের জন্য বিপুল রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক পুনঃবিমা সহায়তার দরকার হয়। অথচ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো বৈশ্বিক আর্থিক ও বিমা বাজারে ইরানের প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে সীমিত করে রেখেছে।’

নির্ভরযোগ্য পুনঃবিমা না থাকলে জাহাজ মালিকরা ক্ষতিপূরণ পাওয়া নিয়ে সংশয়ে থাকবেন। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বন্দরগুলো ইরান প্রদত্ত সনদপত্র প্রত্যাখ্যান করতে পারে। এতে বিমাভুক্ত জাহাজগুলো বন্দরে ভিড়তে বা অর্থায়ন পেতে সমস্যায় পড়বে।

তিনি জানান, বিটকয়েনের মাধ্যমে অর্থ প্রদান তেহরানের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সরকার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনকে নিষেধাজ্ঞা এড়ানো ও অর্থ পাচারের ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করে দেখে। সাইবার নিরাপত্তা হুমকি, সীমিত বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এই কর্মসূচির প্রতি আস্থা আরও কমাবে।

ইরানের এই প্রচেষ্টা ভৌগোলিক বাধার মুখেও পড়তে পারে। গত ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগামী ও ইরান থেকে আসা সব জাহাজের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। তেহরান অনুমতি দিলেও বিমার জন্য ইরানকে অর্থ দেওয়া জাহাজগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র যাতায়াত করতে দেবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

আড়াই মাসের বেশি সময় আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক বিমা সংস্থাগুলো উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের জন্য যুদ্ধ-ঝুঁকি প্রিমিয়াম অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে ইরানের ওপর প্রথম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের বিমা খরচ পাঁচ গুণ বাড়ে।

যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই গার্ড, স্কাল্ড, নর্থ স্ট্যান্ডার্ড, আমেরিকান ক্লাবসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি বিমা সংস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলের যুদ্ধ-ঝুঁকি বিমা বাতিল করে।

পরবর্তী সময় কিছু বিমাকারী সরকারি সহায়তায় বাজারে ফেরে। বিমাকারী প্রতিষ্ঠান চাব (Chubb) হরমুজ প্রণালীর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি ২০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন-সমর্থিত সামুদ্রিক পুনঃবিমা কর্মসূচিতে যোগ দেয়। এটি জাহাজের কাঠামো, পণ্যসম্ভার ও দায়বদ্ধতার জন্য যুদ্ধ-ঝুঁকির সুরক্ষা দেয়।

তবে শিপিং কোম্পানিগুলো সতর্ক রয়েছে। বেশ কিছু অপারেটর নাবিকদের নিরাপত্তা ও জাহাজ জব্দের আশঙ্কায় উপসাগরীয় রুট এড়িয়ে চলছে। যুক্তরাষ্ট্র কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।

কৌশলগত এই প্রণালী পারাপারের জন্য ইরানের বিমা প্রস্তাব কোনো দেশ বা জাহাজ নির্মাণ সংস্থা গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো কেউ ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এই মাসে স্পষ্ট করেছে, প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো দেশকেই টোল আদায়ের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানায়, শি জিনপিং প্রণালীটির সামরিকীকরণ ও এটি ব্যবহারের জন্য টোল আদায়ের যেকোনো প্রচেষ্টার প্রতি চীনের বিরোধিতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বেইজিং এই বিবৃতির বিরুদ্ধে কোনো আপত্তি জানায়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে এই জলপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি কোনো ধরনের টোল আরোপ ও বৈষম্য না করার কথা বলেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা

তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত

এবার সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আট শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করেছেন দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ রায়, জাভেদ আহমেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন, অরূপ বিশ্বাস এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তী। দলবিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিখিল ভারত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রথমে তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই কালবিলম্ব না করে দুপুরে তাদের দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়। দলের বিরুদ্ধে গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তবে এই চরম সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এক গভীর সাংগঠনিক ফাটল। গত সোমবার কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্র জানায়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ২০২২ সালে সর্বশেষ কমিটি গঠনের পর নতুন কমিটি না হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পুরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত ভোটে ৩০ সদস্যের একটি নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। 

বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে প্রবীণ নেতা ও হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়কে তাদের নতুন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেছে। নতুন এই কমিটিতে সহ-সভাপতি বা ভাইস চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথীন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান ও সন্দীপন সাহাকে। এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আখরুজ্জামান আনসারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

ওই বৈঠক ও কমিটি গঠন করায় ক্ষুব্ধ হন মমতা। তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে হাত মেলানোর কারণে তার ঘনিষ্ঠ ৮ নেতাকে গতকাল বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃত এই আটজন সিনিয়র নেতা ও বিধায়ক ইতোমধ্যেই বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রতের ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিজের দিকে টেনে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, আগামী দিনে এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে। তিনি জেলা সভাপতি ও জেলা কমিটি গঠনেরও ঘোষণা দেন।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও তারা অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারা চান ‘দিদি’ মেন্টর বা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করুন এবং তাদের পথ দেখান। 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি

হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে রেকর্ড ১ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান। এ তথ্য প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই।

এই অর্জনকে ‘সর্বকালীন রেকর্ড’ হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প লিখেন, ‘তেলের দাম হু হু করে কমছে এবং বিশ্ব এখন অনেক বেশি নিরাপদ স্থানে পরিণত হয়েছে!’ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল হওয়াকে নিজের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প।


তবে ট্রাম্পের দেয়া এই পরিসংখ্যান এখন পর্যন্ত স্বতন্ত্র কোনো সূত্র থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। গত কয়েক মাসের যুদ্ধের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল।

রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম
রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ। ফ্রান্সসহ বেশির ভাগ দেশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি বা তারও বেশি। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ফ্রান্সে। প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে গিয়ে গত কয়েক দিনে দেশটিতে পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু মঙ্গলবার এক জরুরি বৈঠকের পর জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তাপপ্রবাহসম্পর্কিত ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বহু মানুষের, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই তরুণ।

তিনি বলেন, ‘এরা এই সংকটের প্রথম শিকার।’ প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে দেশজুড়ে জনজীবনে চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাতটি ছিল ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু হওয়া রেকর্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত। গড় তাপমাত্রা ছিল ২১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।

তীব্র গরমে ফ্রান্সের বহু শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙেছে। বোর্দো ও পোয়াতিয়েরসহ একাধিক শহরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫৪টি অঞ্চলে রেড হিট অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনেকেই অনুমোদনহীন নদী ও জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া গাড়ির ভেতরে অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই শিশু এবং বয়স্ক কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও তদন্ত করা হচ্ছে, যা তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে চলমান এই তাপপ্রবাহ যুক্তরাজ্য ও স্পেনকেও প্রভাবিত করেছে। যুক্তরাজ্যে ৩৯ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। স্পেনের কিছু এলাকায়ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আল-জাজিরা/এসএন

ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েল: জাতিসংঘ তদন্ত কমিটি
ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। ফলে সেখানে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও চালানো হয়েছে ব্যাপক যুদ্ধাপরাধ। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইসরায়েল বিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো বিশদভাবে খতিয়ে দেখেছে এই কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজা যুদ্ধে নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশই শিশু।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুদ্ধ ছাড়াও ২০১৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিশানা করে হত্যা করা হয়েছে।

তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরলীধরন এক বিবৃতিতে বলেন, 'ইসরায়েলি নিরাপত্তাবাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদের সুপরিকল্পিতভাবে নিশানা করেছে ও হত্যা করেছে।'

শিশুদের টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

থিওটোনিয়াস/

ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল
রাশিয়ার তুপোলেভ তু-১৬০ (Tu-160) বোমারু বিমান। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে চরম উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিক অঞ্চলে বিশেষ টহল দিয়েছে রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের ‘তুপোলেভ তু-১৬০’ (Tu-160) স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানগুলো বেরেন্টস এবং নরওয়েজিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর দিয়ে এই উড্ডয়ন সম্পন্ন করে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ ঘণ্টার এই দীর্ঘ মিশনে বোমারু বিমানগুলোর সুরক্ষায় সঙ্গে ছিল ‘মিগ-৩১’ ফাইটার জেট। নরওয়ে, আইসল্যান্ড এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়। মাঝ-আকাশেই জ্বালানি ভরার বিশেষ মহড়াও  সম্পন্ন করেছে বিমানগুলো। তবে দীর্ঘ এই যাত্রাপথের কিছু অংশে বিদেশি যুদ্ধবিমান রুশ বহরটিকে অনুসরণ বা ছায়ার মতো তাড়া করেছিল বলে রাশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, 'রাশিয়ান অ্যারোস্পেস ফোর্সের সমস্ত ফ্লাইট আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে পরিচালনা করা হয়েছে।'

বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনা এবং নতুন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে গত মাসেই রাশিয়া ও বেলারুশ তাদের প্রথম যৌথ পারমাণবিক মহড়া সম্পন্ন করে।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থেই এই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে। তবে চলতি মাসে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাশিয়ার ওপর আগে হামলা না হলে তারা ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশে আক্রমণ করবেন না।

এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একটি নিবন্ধে সতর্ক করে লিখেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সামরিক সহায়তা প্রদান এবং ইউরোপের ক্রমাগত সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি সংঘাত শুরু হলে তা দ্রুত পারমাণবিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যার ফলাফল হবে পুরো পৃথিবীর জন্য মারাত্মক বিপর্যয়কর। সূত্র: আরটি

আজহার/