দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সাউথ জর্জিয়া দ্বীপে সম্প্রতি দেখা গেছে এক অতি বিরল কালো রঙের পেঙ্গুইন। সাধারণত পেঙ্গুইনদের পেটের অংশে সাদা ও ঘাড়ে হলুদ রং দেখা যায়। তবে এই পেঙ্গুইনের সারা শরীর কালো রঙে আচ্ছাদিত।
ফটোগ্রাফার ইভস অ্যাডামস সম্প্রতি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত সেন্ট অ্যান্ড্রুজ বে এলাকায় যান। সেই সময় তার এক সহকর্মী তাকে এই বিরল পাখির উপস্থিতি সম্পর্কে জানান। এর আগে ইভস হলুদ পেঙ্গুইন আবিষ্কার করেছেন।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পেঙ্গুইনের অনন্য রঙের কারণ একটি বিরল জেনেটিক মিউটেশন, যা মেলানিজম নামে পরিচিত। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রাণীর শরীরে মেলানিন নামক পিগমেন্টের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি থাকে। কালো পেঙ্গুইনের ঘটনা এতটাই বিরল, এ বিষয়ে খুব কম গবেষণা হয়েছে।
বেলজিয়ামের ফটোগ্রাফার ইভস অ্যাডামস ও তার সহকর্মীরা সেন্ট অ্যান্ড্রুস বে এলাকায় যাওয়ার পরপরই এই পেঙ্গুইন দেখতে পান। ইভস জানান, পেঙ্গুইনটি সমুদ্র থেকে উঠে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এটি ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে পাখিটি দেখেছিলেন আমার অভিযাত্রী দলের প্রধান। আমি যখন একটি ট্যুর শেষ করে ফিরে আসি, তখন তিনি আমাকে বিষয় জানান। এটি কয়েক লাখ পেঙ্গুইনের দলের মধ্যে মাত্র একটি। সমুদ্র থেকে সৈকতে উঠে আসার পরে পাখিটির পিছু নেওয়ার চেষ্টা করি। আমি জানতাম, এটির ছবি তোলার জন্য খুব কম সময় পাব। কারণ এটি পেঙ্গুইন দলের দিকে যাচ্ছিল। সবাই একসঙ্গে থাকার সময় তাদের বিরক্ত করতে চাই না।’
পাখি ও স্তন্যপায়ীদের মধ্যে মেলানিজম অত্যন্ত কম ঘটে। ইভস বলেন, ‘এটা এক বিশাল পেঙ্গুইন কলোনির মধ্যে একটি মাত্র পেঙ্গুইন। আমি আগে অন্য প্রজাতির পেঙ্গুইনের মধ্যে মেলানিজম সম্পর্কে শুনেছি, তাই এটি দেখার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম, আমি অন্য সাধারণ রঙের পেঙ্গুইনগুলোর মধ্যে ঢেকে যাওয়ার আগে এই পেঙ্গুইনের একা ছবি তুলতে পেরেছি। আমি মনে করি, এই সম্পূর্ণ কালো পেঙ্গুইনকে এর আগে কেউ দেখেনি।’
সাধারণত সাঁতার কাটার সময় সাদা পেট থাকার ফলে পরিবেশে মিশে যেতে পারে পেঙ্গুইনরা। তবে কালো রঙের পেঙ্গুইনরা বরফ ও পানিতে উভয় ক্ষেত্রে শিকারিদের কাছে বেশি সহজে দৃশ্যমান হয়।
দূর থেকে কালো পেঙ্গুইন খুব গাঢ় কালো মনে হলেও কাছাকাছি গেলে দেখা যায়, এর গলা ও পেটের কিছু চিহ্ন গাঢ় সবুজের মতো। এই পেঙ্গুইন তার আকার বা আচরণ অন্য পেঙ্গুইনগুলোর থেকে ভিন্ন ছিল না। অন্যান্য পেঙ্গুইনের সঙ্গে তার আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন বিরল রঙের পেঙ্গুইন দেখা শুধু ভাগ্যের ব্যাপার নয়, বরং এটি প্রাকৃতিক বিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত। সাউথ জর্জিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে পেঙ্গুইনদের বৈচিত্র্য ও তাদের সংরক্ষণ বিষয়েও এ ধরনের ঘটনা বিজ্ঞানীদের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই কালো পেঙ্গুইন শুধু প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য নয়, বরং প্রকৃতির রহস্যময় সৌন্দর্যের একটি অনন্য উদাহরণ।


