মহাকাশ সব সময়ই আমাদের কাছে রহস্যময়। কত রহস্যই না লুকিয়ে আছে এখানে। এই যেমন ধরুন কোথা থেকে কীভাবে এর উদ্ভব? রাতের আকাশে কীভাবে উল্কাবৃষ্টি হয়। কেন হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর পর একবার করে সূর্যকে ঘুরে যায়। সুপারনোভার মধ্যে লুকিয়ে আছে কত অজানা রহস্য। ইদানীং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেখানে লুকিয়ে থাকা ধনভান্ডার।
সাধারণত ধনভান্ডার বলতে আমরা একধরনের রহস্যময়তার গন্ধ পাই। এটি থাকে পাহাড় বা বনজঙ্গলের গুহায় কিংবা কোনো উঁচু স্থানে। মাটি খুঁড়েই যেটি তোলা হয়। কিন্তু পৃথিবীর কোনো এলাকায় নয়, এবার গবেষকরা ধনভান্ডারের কথা বলেছেন আমাদের সৌরজগতে। আর রহস্যটা সৃষ্টি হয়েছে সেখানেই।
১৬ সাইকি একটি বিশাল গ্রহাণু। আমাদের সৌরজগতের অন্যতম রহস্যময় বস্তু এটি। এটি মঙ্গল ও বৃহস্পতির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এটি এমন একটি গ্রহাণু, যা তার ধাতব গঠনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। ১৮৫২ সালে ইতালীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী আনিবালে দে গ্যাসপারিস এটি আবিষ্কার করেন। গ্রিক পুরাণের ‘সাইকি’র নামে নামকরণ করা হয়। এটি সাধারণ পাথুরে বা বরফের অ্যাস্টেরয়েডের মতো নয়। ১৬ সাইকি মূলত নিকেল ও লোহার মতো ধাতু দিয়ে তৈরি। এর ব্যাস প্রায় ২২৬ কিলোমিটার, যা এটিকে অ্যাস্টেরয়েড বেল্টের অন্যতম বৃহৎ গ্রহাণু করে তুলেছে। এটি সূর্যকে প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন কিলোমিটার দূর থেকে প্রদক্ষিণ করে।
গবেষকরা মনে করছেন, ১৬ সাইকিতে স্বর্ণ ও প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুও থাকতে পারে। এর ধাতব উপাদান যদি অনুমানের মতোই সমৃদ্ধ হয়, তবে এর মূল্য কয়েক কোয়াড্রিলিয়ন ডলার হতে পারে, যা ভবিষ্যতে মহাকাশ খননের জন্য আকর্ষণীয়। ওই পরিমাণ অর্থ দিয়ে পৃথিবীর সবাই কোটিপতি হতে পারেন। ১৬ সাইকির এই রহস্য উন্মোচনের জন্য নাসা চালু করেছে পসাইকি মিশন। এটি শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর। কাজ শেষ হবে ২০২৯ সালে। ২১ মাস ধরে এটি ১৬ সাইকির চারপাশে ঘুরে এর পৃষ্ঠতল, গঠন এবং চৌম্বকক্ষেত্র নিয়ে তথ্য পাঠাবে।
১৬ সাইকি বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটির খনন এবং এর অর্থনৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান প্রযুক্তি দিয়ে এত দূরের গ্রহাণু থেকে খনিজ আহরণ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন তারা। তাই ১৬ সাইকি মহাকাশের এক রহস্যময় ধনভান্ডার হিসেবে থেকে যেতে পারে আমাদের কাছে। তবে এটি গ্রহের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে জানতে বিরল সুযোগ করে দিতে পারে আমাদের। সূত্র: আজকাল


