ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (ভিআর) জগতে নতুন সংযোজন করেছেন একদল বিজ্ঞানী। এবার শুধু দেখা বা শোনা নয়, স্বাদও নেওয়া যাবে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) পরিবেশে থাকা অবস্থায়। এমনই এক যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ই-টেস্ট’। এটি মিষ্টি, নোনতা, টক, তেতো ও উমামি এই পাঁচটি মৌলিক স্বাদের সংমিশ্রণ তৈরি করে ব্যবহারকারীর মুখে স্বাদের অনুভূতি জাগাতে সক্ষম। উমামি হলো একটি জাপানি শব্দ, যার অর্থ ‘সুস্বাদু স্বাদ’। এটি মিষ্টি, টক, নোনতা ও তেতো এই চার স্বাদের মতো একটি মৌলিক স্বাদ হিসেবে বিবেচিত হয়। উমামি স্বাদ সাধারণত মাংস, মাশরুম, টমেটো, পনির ও সয়া সসের মতো খাবারগুলোতে পাওয়া যায়।
এই উদ্ভাবন ভিআর প্রযুক্তির বর্তমান সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। বর্তমানে ভিআর প্রযুক্তি ভিজ্যুয়াল অডিওর মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে ই-টেস্ট যন্ত্রটি স্বাদ গ্রহণের অভিজ্ঞতাও যোগ করবে ভিআর পরিবেশে। গবেষক দলের প্রধান ও ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জিংহুয়া লি বলেন, ‘বর্তমান ভিআর এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) প্রযুক্তিতে ঘ্রাণ ও স্বাদের মতো রাসায়নিক অনুভূতি তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত ছিল। ই-টেস্ট সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে। আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সিস্টেমে তৈরি করেছি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল জগৎকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলবে।
কীভাবে কাজ করে ই-টেস্ট?
ই-টেস্ট ডিভাইসের প্রোটোটাইপটি দেখতে একটি ছোট কিউবের মতো, যা একটি প্লাস্টিক স্ট্রিপের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এতে থাকা বৈদ্যুতিক সেন্সর ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পরিবেশে খাবার শনাক্ত করতে পারে। এর পর প্লাস্টিকের স্ট্রিপের মাধ্যমে খাদ্য-গ্রেডের রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে সেই স্বাদ তৈরি করে। মানুষের ওপর পরীক্ষার সময় কেক, কফি, মাছের স্যুপ, ভাজা ডিম ও লেবুর শরবতের মতো স্বাদ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া স্বাদের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করারও ক্ষমতা রয়েছে ডিভাইসটির। এর আগে ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে স্বাদ তৈরি করার জন্য ললিপপ আকৃতির ডিভাইস বা পরিবর্তিত চামচ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেগুলো এত বিস্তৃত পরিসরের স্বাদ তৈরি করতে পারেনি।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
গবেষকরা এখন ডিভাইসটি আরও ছোট ও উন্নত করতে কাজ করছেন, যেন ই-টেস্ট ডিভাইস ব্যবহার করে নতুন ধরনের ভিআর অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়। ভিআর শপিং ও ভার্চুয়াল রেস্টুরেন্টের মতো ক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির প্রয়োগ হতে পারে।
জিংহুয়া লি বলেন, ‘এই প্রযুক্তি মানুষকে ভার্চুয়াল স্পেসে সংযুক্ত করতে সাহায্য করবে। এটি মেটাভার্সের একটি ছোট অংশ হওয়ার দিকে প্রথম পদক্ষেপ।’
‘এ সেন্সর-অ্যাকচুয়েটর-কাপলড গাস্টেটরি ইন্টারফেস কেমিক্যালি কানেক্টিং ভার্চুয়াল অ্যান্ড রিয়েল এনভায়রনমেন্টস ফর রিমোট টেস্টিং’ শিরোনামের এক গবেষণাপত্রে ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে ই-টেস্ট ডিভাইস সম্পর্কে বিস্তারিত গবেষণা প্রতিবেদন সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই উদ্ভাবন ভবিষ্যতে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তবসম্মত ও সমৃদ্ধ করতে পারে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট


