রাজধানীর ভাটারা এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে পিটিয়ে আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামি মো. জোবায়ের হোসেন (২৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) আদালতের প্রসিকিউশন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সোমবার বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার খাসকামরায় আসামি স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সন্ধ্যার পর বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান।
আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তদন্তকালে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই আসামিসহ কয়েকজন দুই-তিনটি মোটরসাইকেলে করে ভুক্তভোগী নাঈম কিবরিয়ার প্রাইভেট কারকে ধাওয়া করেন। পরে ভাটারা এলাকার একটি রাস্তার প্রবেশমুখে তাকে আটক করা হয়। নাঈম গাড়ি থেকে নামলে জোবায়েরসহ অজ্ঞাত পরিচয় পাঁচ-ছয়জন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন।
প্রথম দফায় মারধরের পর নাঈমকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে আরেকটি সড়কের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজন তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই নাঈমের মৃত্যু হয়।
আসামি স্বেচ্ছায় ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন। বিধি মোতাবেক তা রেকর্ড করার আবেদন জানানো হয়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামি জামিন পেলে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন।
গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে ভাটারা এলাকায় মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রাইভেট কারের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে নাঈম কিবরিয়া (৩৫) নিহত হন। তিনি পাবনা জেলা জজ আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন।
ঘটনার পরদিন ১ জানুয়ারি নিহত আইনজীবীর পিতা গোলাম কিবরিয়া ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গত ৪ জানুয়ারি গুলশান এলাকা থেকে র্যাব-১ জোবায়েরকে গ্রেপ্তার করে।
উজ্জ্বল/রিফাত/