ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্মম ধ্বংসযজ্ঞে বেঘোরে মারা পড়ছেন অসহায় নারী-শিশু। তাদের ক্ষতবিক্ষত লাশ ব্যথিত, আতঙ্কিত করছে বিশ্ব মানবতাকে। গাজার বিপন্ন মানবতা ভাবিয়েছে বাংলাদেশের নারী ও শিশুদের। কণ্ঠে গান আর হাতে রঙতুলি নিয়ে তারাও শামিল হয়েছেন প্রতিবাদে। গানে, কবিতায় ও ছবিতে এক মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানালেন তারা।
শুক্রবার (৩ মে) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ফিলিস্তিন সংহতি কমিটি, বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এই প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কন, গান আর র্যালির আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, ভাসানী নারী মুক্তি পরিষদের নেত্রী সোনিয়া আক্তার, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ নারী সংহতির নেত্রী শ্যামলী শীল, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি শম্পা বসু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী প্রতিক্রিয়াশীলরা, রক্ষণশীলরা কর্তৃত্ব করছে, বুর্জোয়া গণতন্ত্র ভেঙে পড়ছে। তার কারণ যে পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থা হিটলারের জন্ম দিয়েছিল, সেই ব্যবস্থা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। বড় হিটলার মারা গেছে। কিন্তু পৃথিবীতে এখন ছোট ছোট হিটলার বেঁচে আছে।’
প্রতিটি দেশে সামাজিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাদ আরও কৌশলী, আরও বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতা প্রয়োগ করে মানুষকে বিভক্ত করেছে, মানুষকে বিপন্ন করে রেখেছে। প্রতিটি মানুষ জীবিকার জন্য ব্যস্ত। তাদের প্রতিবাদ করার সামর্থ্য হারিয়ে গেছে। অন্যদিকে হিটলারের সেই গোয়েবলস এখন গণমাধ্যম নামে পরিচিতি নিয়ে সাম্রাজ্যবাদ আর পুঁজিবাদের মাহাত্ম্য প্রচার করছে। কাজেই বিশ্বব্যাপী সামাজিক বিপ্লবের সংগ্রাম প্রয়োজন।’
সমাবেশ শেষে নারী ও শিশুদের একটি বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগ থেকে কাঁটাবন মোড় ঘুরে আবার শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।