পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলের ক্রোক করা বাড়ির রক্ষিত মালামালের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসন।
বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১টা থেকে রূপগঞ্জের গুতিয়াবো এলাকার আনন্দ হাউজিংয়ের এই বাড়িতে থাকা মালপত্রের তালিকা করা শুরু হয়, যা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা অভিযান শেষে জব্দ করা মালামালের বিবরণ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শফিকুর আলম। তিনি জানান, এটি একটি আবাসিক ভবন। একটি পরিবার থাকতে যে ধরনের জিনিসপত্র প্রয়োজন, এই বাড়িতে সবই পাওয়া গেছে। এসব জিনিসপত্রের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আসবাবপত্র সাধারণ মানের। তবে কোনো উচ্চাবিলাষী জিনিসপত্র পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এই তালিকা পেশ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার স্পেশাল জজ আদালতের নির্দেশে সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামে সম্পত্তিটি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসককে রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমরা এ সম্পত্তি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।’
গত শনিবারের ওই অভিযানে অংশ নেওয়া দুদকের নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মইনুল হাসান রওশন বলেন, ‘এই বাড়িতে ডিজিটাল লক থাকায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা খোলা হয়। এই বাড়িটিতে পাওয়া জিনিসপত্রের তালিকা দুদক জমা দেবে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পেলে নারায়ণগঞ্জে বেনজীর আহমেদের আর কোনো সম্পত্তি আছে কি না তাও অনুসন্ধান করা হবে।’
এর আগে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত বহির্ভূত আয়ের মাধ্যমে অর্জিত সাবেক এই আইজিপির সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত শনিবার বিকেলে বাড়িটিতে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন ও দুদকের সমন্বিত একটি দল। পরে বাড়িটির সামনে ‘ক্রোক বিজ্ঞপ্তি’ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণবাগ এলাকার একটি হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে এ জমিটি আনন্দ হাউজিং সোসাইটির নামে কেনা হয়েছিল। পরে এ জমিতে ডুপ্লেক্স বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় সময় এ বাড়িতে আত্মীয়-বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসতেন বেনজীর আহমেদ। তবে গত তিন মাস যাবৎ কেউ এখানে আসেন না বলে জানান বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা রতন মিয়া।
পূর্বাচলের দক্ষিণবাগ এলাকায় গুতিয়াবো মৌজায় পুলিশের আনন্দ হাউজিং সোসাইটির ছয়টি প্লটের ২৪ কাঠা জমির ওপর সাভানা ইকো রিসোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড নামে এ বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। চারপাশে কাঁটাতারসহ সীমানা দেয়াল দিয়ে রিসোর্টের ভেতরে নির্মিত এই বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স বাড়িটি। প্রশাসনের সাঁটানো ‘ক্রোক বিজ্ঞপ্তিতে’ রিসোর্টটির মালিক হিসেবে বেনজীরের কন্যা ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীরের নাম উল্লেখ রয়েছে।




