বাংলাদেশকে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লিবিয়া বানাতে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন যখনই শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাচ্ছিল ঠিক তখনই স্বার্থান্বেষী মহল তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢাকার শহরে অগ্নিসন্ত্রাস, তাণ্ডব, বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা, মেট্রোরেল স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া, সেতু ভবন, ডাটা সেন্টার ইত্যাদি পুড়িয়ে দিলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র পৃথিবীর সঙ্গে বাংলাদেশকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। বাংলাদেশকে পরিত্যক্ত দেশ হিসেবে তৈরি করার মহাপরিকল্পনা ছিল।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় উপস্থিতি ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। পরে বন্দরের ছয় হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর একটি সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের সেই ষড়যন্ত্রের রাজনীতি প্রতিহত হয়েছে। তাদের স্বপ্ন বাংলাদেশকে ভিখারী রাষ্ট্রে পরিণত করা, দেশকে উন্নত হতে না দেওয়া, বিদেশ থেকে উসকানি পেয়ে তারা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তাদের একমাত্র বাধা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাকে তারা উৎখাত করতে চায়, যা কখনোই সম্ভব নয়। শেখ হাসিনা সুস্থ থাকলে বাংলাদেশ সুস্থ থাকবে। তার একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের মানুষকে সুস্থ করে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহস ও শক্তি দেন। ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলাদেশ। তাদের, মুক্তিযোদ্ধাদের, নির্যাতিত মানুষের দায়িত্ব পালন করা আমাদের দায়িত্ব।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দারিদ্রতা জয় করে মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। এটা তাদের পছন্দ নয়। দেশের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বকে ধরে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এ ঘোষণা মানুষকে আনন্দিত করেছে। কারফিউ জারির শুরুতে দেশের সার্বিক অবস্থা ফিরিয়ে আসতে শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের লাইফ লাইন চট্টগ্রাম বন্দর এক মিনিটের জন্য বিচ্ছিন্ন হতে দেওয়া হয়নি। করোনা পরবর্তী মানবসৃষ্ট এ মহামারী সাহস ও দেশপ্রেম দিয়ে, বন্দরের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে, বন্দরকে সচল রেখেছেন এজন্য বন্দরের সর্বস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যে কোন মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দরকে রক্ষা করব- এটা হোক সকলের শপথ।’
শফিকুল ইসলাম/ইসরাত চৈতী/অমিয়/