ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের অর্থসম্পদের তথ্য চেয়ে সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হারুনের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন আর্থিকপ্রতিষ্ঠান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, পাসপোর্ট, এনবিআর, নির্বাচন কমিশনসহ অর্ধশতাধিক দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট পুলিশের সাবেক ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। দুদক উপপরিচালক জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটিকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, বিতর্কিত ও সমালোচিত এই কর্মকর্তা রাজধানীতে ২৪টি বাড়ি, অর্ধশত ফ্ল্যাট ও প্লটের মালিক হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন দেশেও রয়েছে তার অঢেল সম্পদ। তিনি কিশোরগঞ্জে নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন ‘প্রেসিডেন্ট রিসোর্ট’ নামের বিলাসবহুল রিসোর্ট। জেলার মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে ৪০ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছে। রিসোর্টটির প্রিমিয়াম স্যুটের প্রতিদিনের ভাড়া ২০ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন ডিলাক্স রুমের ভাড়া প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা। রিসোর্টটিতে অন্তত শত কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট রিসোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর রিসোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তার ছোট ভাই ডা. শাহরিয়ার। তিনি হলি ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। রিসোর্টটিতে হারুনের পরিবারের ৫ থেকে ৭ একর জায়গা রয়েছে। বাকি অন্তত ৩৫ একর জায়গা স্থানীয় বাসিন্দাদের।