ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২ হাইড্রেশন ব্রেকের বিরুদ্ধে স্কালোনি রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে গুম ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার ১১ দলের সমাবেশ সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয় গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয় সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এমবাপ্পেকে থামাতে ইরাকের ৩ গোলরক্ষক খেলানোর ইচ্ছায় সাড়া দেয়নি ফিফা কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ১ চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু অস্ট্রিয়াকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে : ইরান এক রাতেই ইউক্রেনের ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার নাইজেরিয়ায় অপহরণকারীদের মোকাবিলায় ১০০০ বনরক্ষী নিয়োগ ইউরোপের কয়েকটি দেশে তীব্র দাবদাহের সতর্কতা জারি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে ভারতীয় পণ্যসহ ট্রাক ও বাস জব্দ, গ্রেপ্তার ৮ ১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায়ের থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি কমছে, বাড়ছে ধরলা ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমারের সিরাজগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: তাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:৩৪ পিএম
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: তাজুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে সাংবাদিকদের উদ্দেশে কথা বলছেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ছবি : খবরের কাগজ

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। 

তিনি বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গণহত্যা চালানোর অভিযোগের প্রধান আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনগতভাবেই দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করব।’

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম ও বি এম সুলতান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

পৃথক ঘটনায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত ১৪ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ১১টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভাব্য প্রধান অপরাধী দেশ থেকে পালিয়েছেন, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যে আইনি প্রক্রিয়া, সেটা আমরা শুরু করব। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ২০১৩ সালে। শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তার সময়ে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তিনি যেহেতু বাংলাদেশের গণহত্যার প্রধান আসামি হবেন বলে আমরা মনে করছি বা অধিকাংশ মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, সুতরাং এ প্রক্রিয়া শুরুর মাধ্যমে তাকে আইনগতভাবেই বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা করব।’

অপর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এভিডেন্স (তথ্য-প্রমাণ) সংগ্রহ করা। অপরাধটা গোটা বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের প্রায় সব জায়গায় সংঘটিত হয়েছে একই সঙ্গে। প্রতিটি জায়গায় একটি কমন ইনস্ট্রাকশন ছিল যে গুলি করে সব মেরে ফেলো। এ অপরাধের যে আলামতগুলো সংগ্রহ করা, সেগুলো কম্পাইল করা- এটা একটা চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আসামিরা এখনো সবাই পলাতক এবং প্রধান আসামিদের অনেকেই দেশ ত্যাগ করেছেন বা দেশত্যাগের চেষ্টায় আছেন। তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাটাও চ্যালেঞ্জ।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে, যেহেতু এ ঘটনাগুলো খুবই তাজা, এই এভিডেন্সগুলো যারা অপরাধী আছেন, যারা আসামি হবেন এই মামলাগুলোতে, তারা কিন্তু এখনো বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় আছেন। অনেকে দায়িত্বেও আছেন। তারা এ আলামতগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন। প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ড-গণহত্যার যে আলামত আছে, সেগুলো সংরক্ষণ করা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এগুলো সংগ্রহ করে প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার হাতে নিয়ে আসা। যাতে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এই আলামতগুলো আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে পারি। ছাত্র-জনতাসহ ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন সব ধরনের আলামত ও তথ্য-প্রমাণ দ্রুততম সময়ে এই ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম কিংবা তদন্ত সংস্থার কাছে পাঠিয়ে দেন।’ 

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রে যখন গণহত্যার পর একটি স্বৈরশাসনের পতন হয়, ইতিহাসের পটপরিবর্তন হয়, তখন নির্যাতিত যেসব মানুষ, তারা প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে যান। এই প্রতিশোধপরায়ণতার আগুন নেভানোর সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে উত্তম পন্থা হচ্ছে ন্যায়বিচার প্রদান করা। যারা এই অপকর্ম ও অন্যায়গুলো করেছেন, যদি সঠিক বিচারের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া যায়, তাহলে মানুষ প্রতিশোধপ্রবণতা থেকে ফিরে আসে। বাংলাদেশের সমাজ যাতে বিভাজিত হয়ে না যায়, সে জন্য যারা ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের নিরস্ত্র সন্তানদের হত্যা করেছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এখন আমাদের প্রায়োরিটি হচ্ছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা। আমরা চাই এখানে ন্যায়পরায়ণ, সৎ ও সাহসী বিচারকদের নিয়োগ দেওয়া হোক। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থায় যোগ্য মানুষেরা আসবেন এবং আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে এখানে সুষ্ঠু বিচার চাইব। এটা এমন একটা বিচার হবে, বিচারের পরে শহিদ পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, বাদীপক্ষসহ আসামিপক্ষও মনে করবে, তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করা হয়েছে। এই আবহ নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করব। আমাদের চেষ্টা থাকবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল সক্রিয় করে এ জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা।’ 

তদন্ত পর্যায়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই অপরাধগুলোর মাত্রা এতটাই ভয়াবহ যে তদন্তকালে আসামিদের গ্রেপ্তার করার প্রয়োজন হবে। নিশ্চয়ই আমরা এই অপরাধীদের গ্রেপ্তার চাইব। আমাদের প্রথম চেষ্টা থাকবে, সম্ভাব্য অপরাধী বা আসামি যারা আছেন, তারা যাতে আদালতের জুরিসডিকশনের বাইরে চলে যেতে না পারেন, দেশত্যাগ না করতে পারেন, সেটা ঠেকানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করা। কে কত বড় পদে ছিলেন, আইন সেটা দেখবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। যিনি অপরাধ করেছেন, অপরাধের গুরুত্ব হিসেবে আসামির সঙ্গে ডিল করা হবে। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী হোক, আইজিপি হোক বা যত বড় ক্ষমতাধর মন্ত্রীই হোক, তারা যখন অপরাধের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন, আসামি হিসেবে দাঁড়াবেন, প্রত্যেকেই সমান আচরণ পাবেন। তাদের প্রতি কোনো জুলুমও করা হবে না, তাদের কোনো ছাড়ও দেওয়া হবে না।’

ট্রাইব্যুনালের আইন সংস্কারের প্রয়োজন আছে কি না- এমন প্রশ্নে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাত্রই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা সরকারের সঙ্গে বসে এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।’

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য গত বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। একই প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মিজানুল ইসলামকে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় প্রসিকিউটর, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিমকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায়, বি এম সুলতান মাহমুদকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় এবং আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের ২৫ মার্চ। পরে ২০১২ সালের ২২ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুটিকে একীভূত করে আবার একটি ট্রাইব্যুনাল করা হয়। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ৩০ মামলা বিচারাধীন। গত ১৪ বছরে ৫৫টি মামলার রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এসব মামলায় ১৪৯ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ৬ জনের। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা ৫ জন এবং একজন বিএনপির নেতা।

 

চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের
চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। ছবিটি নগরীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে তোলা। - মোহাম্মদ হানিফ

চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের পাঁচটি ইসলামি ধারার ব্যাংক থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সব ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। 

এ সময় তারা, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তারেক রহমানের সরকার, চাকরিটা দরকার’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’-সহ নানা স্লোগান দেন।

এ সময় চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ করা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

তারা বলেন, এর ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা হাজারো পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। আমরা আমাদের চাকরি ফেরত চাই। আমরা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমরা আজ যারা দাঁড়িয়েছি আমরা কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত নই। আমাদের ভাইয়েরা কষ্টে আছেন, অনেকেই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আমরা রেমিট্যান্স ভাই, গ্রাহকদের বলতে চাই- আপনারা আমাদের পাশে থাকুন।

সরকার, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, আপনারা আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিন। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, সে ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। গ্রাহক সাজিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে একটি মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা প্রয়োজনে এই চট্টগ্রাম থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু করব। এই চট্টগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব। 

চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের চট্টগ্রামের প্লাটফর্ম চিটাগং এলায়েন্সের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক মোহাম্মদ মোক্তার রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যাংকে চাকরি করার সময় ব্যাংকারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় অনেককে মারধর, অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়। আমরা কোনো দলের নই, আমরা সাধারণ ব্যাংকার। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের চাকরিটা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’

মানববন্ধন থেকে ১০টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১) অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাসহ অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।
২) দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে।
৩) ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং চাকরিরত অবস্থায় প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪) ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৫) গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬) মব সৃষ্টি করে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
৭) ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর ব্যাংকে সংঘটিত সব অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮) ব্যাংকের মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিমালা অনুসরণ না করে নিয়োগপ্রাপ্ত দলীয় ক্যাডারদের অপসারণ করতে হবে এবং সব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৯) শাখা ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে ক্যাশ অফিসার পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউন্টারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ না করে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
১০) ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধন শেষে চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ক্ষতিগ্রস্ত হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

তারেক মাহমুদ/অমিয়/

চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু
সাজিদ চৌধুরী রাফি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট মেরে আহত করা সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী।

তিনি জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সে মারা গেছে।

এর আগে,গত ৯ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় এক তরুণ রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। ইটের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি তার শরীরের ওপর পড়ে থাকে। পরে ঘাতকরাই রিকশায় করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।

অন্তরা/

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্রা ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া তাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালেশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন।

এরপর দুদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সূত্র: বাসস

অন্তরা/

বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান
এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আংশিক বই দিয়ে ‘বই উৎসব’ করার চেনা সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সব শ্রেণির শতভাগ পরিমার্জিত বই পৌঁছে দেওয়ার রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। যাতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই চার কোটি শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা এসব তথ্য জানান।

বছরের শুরুতে আংশিক বই বিতরণের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসা প্রসঙ্গে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে মোট বইয়ের ৫০ বা ৬০ শতাংশ সরবরাহের একটি প্রথা ছিল। ফলে বড় বড় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে বই সরবরাহ করে মোটের ওপর ৫০ শতাংশের কোটা পূরণ করত।

কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক উপজেলা সময়মতো পাঠ্যবই পেত না। এবার আমরা প্রেস মালিকদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি সব শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই প্রত্যেক উপজেলায় আগে পৌঁছাতে হবে। এরপর বাকি ৫০ শতাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য মুদ্রণকারীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট হল যেহেতু ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়, তাই ১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের ছুটিকালীন সময়েই যেন তারা হাতে নতুন বই নিয়ে যেতে পারে। এটি সফল না হলে দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী আগমী বছর ১ জানুয়ারির মধ্যে সব বই বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। নতুন ক্লাসে ওঠা এবং নতুন বই পাওয়াটাই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব বলে আমরা মনে করি।’

প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

মুদ্রণকারীদের গাফিলতি ও কাগজের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা প্রসঙ্গে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বই ছাপার কাজ শুরু হলে বাজারে হঠাৎ কাগজের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির একটা অপচেষ্টা অতীতে দেখা গেছে। এবার আমরা আগে থেকেই পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শিক্ষাকে আনন্দময় করতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কিছু বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন তাত্ত্বিক পড়াশোনার বাইরে গিয়ে আনন্দ পায় এবং মোবাইল বা ফেসবুক আসক্তি থেকে দূরে থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি খেলা (ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স ও কারাতে) অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিখন ও সংস্কৃতির বই এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিইটি) বিষয়ক উদ্দীপনামূলক ১টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। এগুলো যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)সহ শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি, যাতে শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনার মাধ্যমে বাস্তব রূপায়ন নিশ্চিত করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী দেশে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। দেশের বেকারত্বের হার কমাতে শিক্ষিত যুবসমাজকে কর্মমুখী করাই এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ কনটেন্ট ও মোটিভেশনাল সাকসেস স্টোরি যুক্ত হচ্ছে, যা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীরা বইয়ে পাবে।

আর ২০২৮ সালে যখন পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম আসবে, তখন কারিগরি শিক্ষাকে আরও বড়, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানদ-ে কার্যকরী পরিসরে পরিমার্জন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

আমান/

প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় শাংগ্রি লা মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।

এরপর লালগালিচায় তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরিচয় পর্ব শেষে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান।

পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা। সূত্র: বাসস

অমিয়/