সশস্ত্র বাহিনীতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে সামরিক আইন সংস্কারে কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে ‘বৈষম্যমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী-বাংলাদেশ ২.০ বিনির্মাণ প্রয়োজনীয় রূপরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ দাবি জানান।
রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার রাওয়া ক্লাব অডিটরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসিরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমান্ডার (অব.) নেছার আহমেদ জুলিয়াস। বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, লে. কর্নেল (অব.) শাহির বীর প্রতীক, কমান্ডার (অব.) মোহাম্মদ শাহরিয়ার আকন্দ, মেজর (অব.) আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ক্যাপ্টেন (অব.) হেফাজ উদ্দিন ও লেফটেন্যান্ট (অব.) সাইফুল্লাহ খান।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এবং আইনজীবী আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
আলোচনা সভায় সাবেক সেনা কর্মকর্তারা, সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) কয়েকজন কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও আয়নাঘর বানিয়ে গুম-খুন, নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন।
এ সময় এনটিএমসির মাধ্যমে বেআইনিভাবে ফোনে আড়িপাতার সমালোচনা এবং এসব ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।
এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা, যাদের চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে, তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মূল প্রবন্ধে নেছার আহমেদ বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। সামরিক আইন ও নিয়মের অপব্যবহার হয়েছে। বাহিনীর মেধাবী কর্মকর্তাদের অযৌক্তিকভাবে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত করে বিনা পেনশনে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, গত ১৫ বছরে গুম, খুন ও আয়নাঘরের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।’
এ সময় লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন, ‘আমাকে ২০১১ সালে কর্মস্থল থেকে গুম করা হয়। ৪৩ দিন আমাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে রাখা হয়। আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকার যে আচরণ করেছে, তা লজ্জাকর।’
জিয়াউল আহসানের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে তাকে গুম, নির্যাতন ও চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানান তিনি।
এ সময় সারজিস আলম বলেন, ‘খুনি-ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার অবৈধ সরকার সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে সেনাবাহিনীকে জনগণের বাহিনীর চেয়ে আওয়ামী বাহিনী হিসেবে বেশি ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন। সশস্ত্র বাহিনীর কতিপয় আওয়ামী দোসর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিগত সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। আগামীতে আবার যেন কোনো ফ্যাসিস্টের দোসর তৈরি হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে সারজিস বলেন, বর্তমানে যে সুশীলতা ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দেখানো হচ্ছে, তা ছাত্র-জনতার আবেগ ও ত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
আরেক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দুই মাসে আমরা প্রত্যাশিত কোনো পদক্ষেপ দেখিনি, যার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, এ সরকার বিপ্লবী সরকার। ৫ আগস্টের পরে এ সরকারের উচিত ছিল কিছু পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে তাদের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে। একটি হলো বিচার নিশ্চিত করা। এ সরকারে যারা রয়েছেন তাদের বুঝতে হবে, এ সরকার কোনো সংবিধান-নিয়ম মেনে আসেনি। তাই ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থা বিলোপ করতে সংবিধান সংস্কার করতে হবে।
আন্দোলনের সময় ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাসা থেকে তুলে নিয়ে যখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলাদা আলাদা কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। তখন ডিজিএফআইয়ের কথা না শুনলে কুমিল্লা থেকে তার অন্তঃসত্ত্বা বোনকে তুলে আনার হুমকি দেওয়া হতো।
তিনি বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও তারিক সিদ্দিক মূলত ‘র’ এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।




