রাজধানীর খিলগাঁও থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি জেড আই খান পান্নাকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ ইনায়েত হোসাইনের বেঞ্চ তাকে আগাম জামিনের আদেশ দেন।
তাতে বলা হয়, এই মামলার পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়া পর্যন্ত তিনি জামিনে থাকবেন।
পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জেড আই খান পান্না বলেন, ‘জামিন পেয়েছি, তবে বিবেক ও মুখ বন্ধ রাখবো না। এই মামলা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। কারণ এটা রাজনৈতিক মামলা। আমি কোনো কিছুতেই ভয় পাই না। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তখনই মৃত্যু হতে পারতো। এটা তো আমার বর্ধিত জীবন চলছে।’
এর আগে রবিবার (২০ অক্টোবর) ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আহাদুল ইসলামকে গুলি ও মারধরের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আইনজীবী জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় বিজিবির বর্তমান মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীকেও আসামি করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এই হত্যাচেষ্টা মামলায় পান্নাসহ ১৮০ জনকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় মামলাটি করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই আহাদুল ইসলাম নামে একজনকে গুলি ও মারধরের মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৭ অক্টোবর আহাদুলের বাবা মো. বাকের (৫২) মামলাটি করেন।
এই মামলার জেড আই খান পান্নাকে ৯৪ নম্বর আসামি করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবীর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টসহ (ব্লাস্ট) বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ অভিহিত করে আসকের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জেড আই খান পান্না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকেই ছাত্রদের ন্যায়সঙ্গত দাবি এবং তাদের নেতা-কর্মীকে আটকের ঘটনায় আইনি লড়াইয়ে সম্পৃক্ত থেকেছেন। তার নীতি এবং আদর্শের জায়গায় তিনি সরব ছিলেন। আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, মানবাধিকার বিষয়ে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট সংশ্লিষ্ট আলোচনা, মতামত ও বক্তব্য-সংক্রান্ত কোনো ভূমিকায় কোনো পক্ষের অসন্তুষ্টি থেকে জেড আই খান পান্নার বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা দায়ের করা হতে পারে।’
এলিস/সাদিয়া নাহার/অমিয়/