ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী কল্পনার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার হয়েছে। ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বের করা হয়েছে। রক্তশূন্যতা থাকায় রক্তও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। শিশুটি এখন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় খবরের কাগজকে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেডিকেলের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, নির্যাতনে কল্পনার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত হয়েছে। এসব জায়গায় প্রথম রক্ত জমাট বাঁধে ও পরে চিকিৎসা না করায় ক্ষতস্থানগুলোতে ইনফেকশন হয়ে পুঁজ জমে গেছে। মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুঁজ বের করা হয়েছে। তবে কল্পনার আরও কয়েক দফা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
কল্পনার শরীরে রক্ষশূন্যতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাকে দেওয়ার জন্য চার ব্যাগ রক্ত জোগাড় করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত সোমবার এক ব্যাগ ও গতকাল এক ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। রক্ত জোগাড়ের ব্যাপারে শিশুটির পরিবার থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আমরা নিজেরাই তার রক্তের ব্যবস্থা করেছি। ফ্রেশ রক্ত দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
নির্যাতনে শিশুটির ওপরের পাটির ৪টি দাঁত ভেঙে গেছে। আমাদের মেডিকেল বোর্ডে একজন দাঁতের চিকিৎসককে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। কল্পনাকে ৪টি কৃত্রিম দাঁত লাগিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিশুটির সুস্থ হতে সময় লাগবে বলেও জানান এই চিকিৎসক।
রাজধানীর বসুন্ধরার আবাসিক এলাকার একটি বাসায় পাঁচ বছর ধরে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিল ১৩ বছরের কল্পনা। সেখানে সে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে । গত শনিবার রাতে বসুন্ধরার আই-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ৪৬৬ নম্বর বাসা থেকে কল্পনাকে উদ্ধার করে ভাটারা থানা-পুলিশ। পরে রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তাকে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় কল্পনার মা আফিয়া বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় কল্পনার গৃহকর্ত্রী দিনাত জাহান আদরকে আসামি করা হয়েছে।