পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ৫ আগস্টের আগে ও পরে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের একটি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এটা মেনে নিয়ে আমাদের চেষ্টা করতে হবে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ৪০তম সার্ক চার্টার দিবস উপলক্ষে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) আয়োজিত ‘দ্য সার্ক-পিপল অব সাউথ এশিয়া ক্রেভ ফর’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) কার্যকর থাকলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যেসব বিরোধ রয়েছে, তা নিরসন আরও সহজ হতো। সার্ক সামিটের বাইরে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সাইডলাইনে অনেক দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে বৈঠক হয়। সেখানে পারস্পরিক সমস্যাগুলো মিটিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন সার্ক অকার্যকর থাকায় এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনার পথ বন্ধ আছে।’
আঞ্চলিক দারিদ্র্য দূরীকরণে উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা যদি পরস্পরকে সহযোগিতা করি, তাহলে এই অঞ্চলের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। দারিদ্র্য থেকে সবাইকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা কিছুটা সাফল্য অর্জন করিনি তা কিন্তু না। আরও কিছুটা পথ পাড়ি দিতে হবে। এ জন্য সবার সহযোগিতা লাগবে। সার্ককে আমাদের কর্মক্ষমতা পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। আমি এর আগেও বলেছি, কোনো সমস্যার সমাধান করতে হলে আগে স্বীকার করতে হবে যে, সমস্যা আছে। আমাদের এটিও স্বীকার করতে হবে, ৫ আগস্টের আগে এবং পরে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের একটি গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। এটা মেনে নিয়ে আমাদের চেষ্টা করতে হবে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সে হিসেবে আমি প্রস্তাব করেছিলাম, আমাদের যে ফরেন অ্যাফেয়ার্স কনসালটেশন আছে সেটি শুরু করব।’
তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, ‘ভারত যদি আমাদের সবাইকে একসঙ্গে নিতে পারত তাহলে ভারতের সুবিধা হতো। আমাদেরও সুবিধা হতো। কিন্তু সেটা দুঃখজনকভাবে হচ্ছে না। ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে ভারতের অবস্থান খুবই ভালো। কিন্তু গত দুই-তিন মাসে যে ব্যবসায়িক মন্দা যাচ্ছে, সেটা কি শুধু বাংলাদেশকে এফেক্ট করছে? এই অবস্থা শুধু বাংলাদেশকে এফেক্ট করছে না, ভারতকেও এফেক্ট করছে। পরিমাণটা বেশি না হলেও প্রভাব পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে পারব। অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো যোগাযোগ স্থাপন।’
এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা যদি অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে চাই, তাহলে আমাদের আঞ্চলিক বাণিজ্য খুবই জরুরি। এটা শুধু বাংলাদেশের জন্য না সবার জন্যই প্রয়োজনীয়। আমরা এই অঞ্চলে শান্তি চাই। আমরা চাই সবার মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক।’
সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের একটি আঞ্চলিক জোটের খুবই প্রয়োজন। এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই আমাদের এই জোটের প্রয়োজন। এখন সার্কের কোনো কার্যকারিতা নেই। এই অঞ্চলের শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সার্ককে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া বলেন, ‘সার্ক ছিল জিয়াউর রহমানের একটি স্বপ্ন। কিন্তু আজকে দুটি দেশের জন্য সার্কের এই অবস্থা। যেখানে ইউরোপ, আফ্রিকা এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের দক্ষিণ এশিয়া বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। আজকে সার্ক যদি উজ্জীবিত থাকত, তাহলে আমাদের এই অবস্থা হতো না।’
সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) সভাপতি নাসির আল মামুনের সভাপতিত্বে ও সেমিনার অর্গানাইজিং কমিটির কনভেনার রফিকুল ইসলাম আজাদের সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন স্ট্র্যাটেজিক এক্সপার্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। এ ছাড়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নিউ নেশন পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোস্তাফা কামাল মজুমদার।