বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে আওয়ামী লীগ আমলে যেসব অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা বাতিলের আবেদন জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত পদযাত্রা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
‘৭১ থেকে ২৪ বিজয়ের লড়াই: ৫৩ বছরের সকল লড়াইয়ের স্মৃতি যাপনে পদযাত্রা’য় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সমাবেশে তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে আওয়ামী লীগ আমলে যেসব অর্থনৈতিক নীতিমালা হয়েছিল তার দ্বারা সেই সরকার ব্যাপক লুটপাট করেছে। এ লুটপাটের পেছনে ভারতের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রকল্প আছে। সেগুলোও বাতিল করার ব্যবস্থা করেন।’
চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা অনুসন্ধান করতে আগামী ২৩ ডিসেম্বর গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবে বলে জানান আনু মুহাম্মদ।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে নিজস্ব অনুসন্ধান জানানো হবে সরকারকে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, লেখক ও গবেষক মাহা মির্জা, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. হারুন-অর-রশীদ ও অ্যাক্টিভিস্ট বাকী বিল্লাহ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা, নারীনেত্রী সীমা দত্ত, কবি রহমান মফিজ, দিলীপ রায়, সায়েদুল হক নিশান, আফজাল হোসেন, মাহতাব উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের সব গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে যোগসূত্র স্থাপন করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান আসে এই পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে।
বাহাদুর শাহ পার্কে সমাপনী আয়োজনে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের খেয়াল রাখতে হবে কোনো ধরনের বৈষম্যবাদী রাজনীতি যেন প্রশ্রয় না পায়। সব ধর্মের ও সব শ্রেণির মানুষ যেন তাদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারে। আমাদের বিজয়ের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। যাদের জন্য এই বিজয়ের লড়াই, তারা যদি ঐক্যবদ্ধ হন, তা হলে বিজয়ে লড়াই সমাপ্তির দিকে যেতে পারে।’
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে শুরু করে বর্ণাঢ্য র্যালিসহ পদযাত্রাটি চাঁনখারপুল, গোলাপ শাহ মাজার, গুলিস্তান হয়ে ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
এ পদযাত্রায় ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিস্মারক, ব্যানার, ফেস্টুন, কার্টুন ও পোস্টারে প্রদর্শিত হয়েছে। প্রয়াত কার্টুনিস্ট মুশতাক আহমেদ ও পার্বত্যবাসীর অধিকারের নেত্রী কল্পনা চাকমার ছবিও ঠাঁই পায় পদযাত্রায়।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/অমিয়/