উপসচিব পদে কোটার অবসানসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে চট্টগ্রামে কর্মরত ২৫ টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এতে তারা সরকারী আমলাতন্ত্র বাদ দিয়ে স্ব স্ব দপ্তরের নিজস্ব ক্যাডার দিয়ে পরিচালনের দাবি জানান।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডার বিলুপ্তিচেষ্টার প্রতিবাদ, উপসচিব পদে পদোন্নতিতে কোটা বাতিলসহ আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ, চট্টগ্রাম ইউনিট’–এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, মৎস্যসহ ২৫টি ক্যাডারের দুই শতাধিক কর্মকর্তা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমলাতন্ত্রের জটিলতায় অন্য ক্যাডারদের পদোন্নতি হয় না। সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। কিন্তু অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা সবসময় বঞ্চিত থাকেন। উপসচিব পদে পদোন্নতিতে ৫০ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডার থেকে এবং বাকি ৫০ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডার থেকে নেওয়ার কথা জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে। এই প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করছেন। তাদের দাবি, নিজ নিজ পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি দিতে হবে, উপসচিব পদে নিয়োগ হবে উন্মুক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন করতে হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্যাডারে আলাদা নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তাব বাতিল করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশ হতে হবে বৈষম্যমুক্ত। বৈষম্য থেকে মুক্তির দাবিতে তাদের সন্তানেরা, ভাইয়েরা প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন ক্যাডার আজ সবার মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে। সব ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে। এটা হতে পারে না। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না, তাই আজ রাস্তায় দাঁড়িয়েছি।
জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস প্রতিষ্ঠায় উপসচিব পদে সকল কোটার অবসান চেয়ে বক্তারা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারদের আধিপত্যের কারণে অন্যান্য ক্যাডাররা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্ব-স্ব দপ্তরগুলোতে স্ব-স্ব ক্যাডার নিয়োগপ্রাপ্ত হলে সার্বিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটবে যা দেশের জন্যই মঙ্গল। বক্তারা আমলাতান্ত্রিক সিন্ডিকেট ভাঙতে বৈষম্য নিরসন করে সকল ক্যাডারে সমতাসহ উপসচিব পদে কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে ক্যাডার নিয়োগ ও কৃত্যপেশাভিত্তি মন্ত্রণালয়ের দাবি জনান। দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পালিত এই কর্মসূচিতে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম, মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহ আলম ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা মানববন্ধনে অংশ নেন ও বক্তব্য দেন।
মাহফুজ
আবদুস সাত্তার/মাহফুজ