ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌ পরিবহন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, 'সামনে আমাদের জন্য বড় অনেক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এটা শুধু অভ্যন্তরীণ নয়, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসবে দেশের বাহির থেকে। আমাদের নতুন প্রতিবেশী তৈরি হচ্ছে। সেটা স্বাভাবিক নয়, ভিন্নধর্মী প্রতিবেশী। আরাকান এখন নতুন বাস্তবতা। আমরা এতদিন বিবেচনা করতে পারিনি। এখন বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে।'
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন শীর্ষক জাতীয় সংলাপের 'সংস্কারের দায় ও নির্বাচনের পথরেখা' শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত সেমিনারে তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি। রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পদ্ধতির পরিবর্তন করলেই নির্বাচনি আইনও পরিবর্তন হয়ে যাবে। এবারের নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে নির্বাচনে যাবে আম-ছালা দুটোই যাবে। সেটাই হয়েছে। আমরা দেশের স্থিতিশীলতা চাই৷ আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছি। আপনারা যারা ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসবেন তারাও বড় চ্যালেঞ্জে পড়বেন।
এক বছরের মধ্যে সংস্কার করা সম্ভব জানিয়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, এখন যদি আমরা কিছু সংস্কার করতে না পারি তাহলে আর কখনোই করা যাবে না। আমরা ২০০৭ সালে একবার চেষ্টা করেছিলাম, কিছু কিছু করেওছিলাম কিন্তু ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর কারণে সেগুলো টিকেনি। এখন যদি সংবিধানের বা অন্যান্য আইনের দোহাই দিয়ে সংস্কার না করতে পারি, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের প্রতি অন্যায় হবে।
দেশে নির্বাচনি আইনের বড় ধরণের সংস্কার প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন৷ এখনো রাস্তায় বলা হচ্ছে আমরা ১৬-১৭ বছর ক্ষমতায় ছিলাম না, নির্বাচন করতে পয়সা লাগবে, সেটার জন্য চাঁদাবাজি করছে। এটা অস্বীকার করা যাবে না। এই জায়গায় একটা বড় সংস্কার প্রয়োজন। আমরা দেখছি একটা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দল থেকে অনেককে বহিষ্কার করছেন, কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়।
ছাত্রদের নিয়ে রাজনীতি করতে গেলে সেটার পরিণতি কি সেটা দেখতে হবে উল্লেখ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ছাত্রদের অবশ্যই রাজনীতি করা উচিত। তবে সেটা অবশ্যই ছাত্র সংসদের মাধ্যমে।
তরুণদের রাজনৈতিক দল গঠনে উৎসাহিত করা উচিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমরা মনে করি নতুন প্রজন্ম প্রয়োজন। তাদের নিরুৎসাহিত করবেন না। তাদের উৎসাহিত করুন। তারা আপনাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তাদেরকে যদি উৎসাহিত না করেন তাহলে আমরা পতনের পুনরাবৃত্তিই দেখব, আজ না হয় ১০/১৫ বছর পর।
বাংলাদেশে অবশ্যই দ্বিকক্ষ সংসদ ব্যবস্থা হতে হবে বলে মনে করেন এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, সেই জায়গায় বিভিন্ন রকমের মানুষ আসবে। তারা একটা নির্বাচনের জন্য গাইডলাইন তৈরি করতে পারে। সেখানে আলাদা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হবে না।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল পরিচলনার জন্য আইন থাকা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান সাহেব করেছিলেন কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো মানেনি। একটা আইন অবশ্যই প্রয়োজন। না হলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর যে করণীয় তা দেখছি না। আমরা দেখছি রাজনৈতিক দল তৈরি হয়, কোন্দল তৈরি হয় এবং একদল আরেক দলকে খেয়ে ফেলে।
দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গণফোরামের কো চেয়ারম্যান সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্থনীতিবিদ রাশেদ আল তিতুমীর, নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবির, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল, জাতীয় নাগরিক কমিটির নির্বাহী সদস্য সারোয়ার তুষার, ছাত্র দলের গবেষণা সেলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবীব, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতা মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এবং গীতিকবি শহীদুল্লাহ্ ফরাজী।
জয়ন্ত সাহা/সিফাত/এমএ/