তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের নিউজ আপডেটে গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে তথ্য জানানো হয়। আপডেটে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল একজন তথ্য কমিশনারের বিষয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে।’
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৬ ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারক যেরূপ কারণ ও পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত প্রধান তথ্য কমিশনার বা কোন তথ্য কমিশনারকে অপসারণ করা যাইবে না।’
এদিকে গত নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পরে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতির বিষয়েও কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেওয়া নিউজ আপডেটে ‘একজন তথ্য কমিশনারের’ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হলেও কোন কমিশনারের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকে অপসারণে সম্প্রতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দ্বারস্থ হয়েছিল সরকার। তিনি অফিসে যান না, পদত্যাগও করেননি। এমন অবস্থায় করণীয় ঠিক করতে সরকার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে চিঠি দিয়েছে বলে জানা গেছে। এরপর কাউন্সিল একজন তথ্য কমিশনারের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. হাসানুজ্জামান গতকাল শুক্রবার বিকেলে খবরের কাগজকে বলেন, ‘তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টির বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে। তারিখ মনে নেই। তবে গত সপ্তাহে এই প্রতিবেদন পাঠানো হয়।’
২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মাসুদা ভাট্টি। এর আগে ২০১৮ সালে মাসুদা ভাট্টির সঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনের (পরবর্তীতে প্রয়াত) একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই অনুষ্ঠানে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়। এতে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবীকে কারাবরণও করতে হয়। ওই ঘটনায় মাসুদা ভাট্টিকে নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা হয়।




