২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিরোধীদলীয় জোট এনসিপির এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।
সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৃষ্টি হয় হট্টগোল। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’
রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আলোচনার এক পর্যায়ে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর করতে উভয় পক্ষ একটি সম্মতিতে এসেছি। সংসদে এমন কোনো অসত্য বক্তব্য উত্থাপন করা উচিত নয়, যাতে কারও মানহানি হয়। নতুন প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য সংসদ নেতাকে নিয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছেন, যা অত্যন্ত ক্ষোভের।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। ১৬ বছর ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে এবং সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠন করেছেন। সংসদ নেতাকে নিয়ে দেওয়া অসত্য বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।’
এর জবাবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দলের চিফ হুইপ যে কথাটা বললেন, আমার মনে হয় সেটা সঠিক নয়। কারণ আমাদের সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি সুনির্দিষ্টভাবেই বলেছেন যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, কিন্তু ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকেই আসছে। যে অংশটুকু অসত্য, তা দয়া করে এক্সপাঞ্জ করবেন।’
এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বারবার দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার তাকে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, ‘আপনার সময় শেষ। এভাবে যখন খুশি তখন দাঁড়ানো সংসদের রীতি নয়। প্লিজ টেক ইয়োর সিট। এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হান্নান মাসউদ সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি অনুরোধ করব, বাইরের বিষয় টেনে এনে এখানে এক্সপাঞ্জ বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ যেন না থাকে। সংসদের ভেতরে সংসদীয় নর্মস বজায় রাখা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘সত্য-অসত্যের এই বিতর্কে গেলে হয়তো অনেক কিছুই লজ্জাজনক হয়ে উঠবে। তাই পুরো বিষয়টি ইগনোর করাই আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে।’
সবশেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেব।’
এলিস/রিফাত/