গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে আগামী ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার শুরু হচ্ছে শুরায়ে নেজামের (মাওলানা জুবায়ের) অনুসারীদের বিশ্ব ইজতেমা। এটি বিশ্ব ইজতেমার ৫৮তম আসর। এ উপলক্ষে ময়দানের প্রস্তুতি কাজ স্বেচ্ছাসেবী মুসল্লিদের অংশগ্রহণে এগিয়ে চলেছে।
ইতোমধ্যে ১৬০ একর বিশাল ময়দানে বাঁশের খুঁটি পোঁতা ও ময়দানের চারপাশে পানির চৌবাচ্চা এবং টয়লেটগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। শামিয়ানা টানানোর কাজ চলমান রয়েছে। ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি নিবাসের পাশে প্রস্তুত করা হয়েছে মূল বয়ানমঞ্চ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের শুরায়ে নেজামের (জুবায়েরপন্থি) মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান।
সরেজমিনে গিয়ে টঙ্গী ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি মেহমানদের থাকার জায়গা ও বয়ানমঞ্চের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ পাশের জায়গাটুকুতে শামিয়ানা টানানো হচ্ছে। মূল বয়ানমঞ্চের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ময়দান প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন স্বেচ্ছাসেবী মুসল্লিরা।
ময়দানে কাজ করতে আসা পুরান ঢাকার আব্দুর রহমান বলেন, ‘প্রায় তিন শ স্বেচ্ছাসেবী মুসল্লির সমন্বয়ে একটি দল গঠন করে ময়দানের খুঁটি পোঁতা, শামিয়ানা টানানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি কাজ করছি। আশা করছি, ইজতেমা শুরুর ২-৩ দিন আগেই ময়দান প্রস্ততির কাজ শেষ হবে।’
ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী থেকে আসা মাদ্রাসাছাত্র মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৭০ জন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ময়দানের কাজ করতে এসেছি। ময়দানের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, খুঁটি পোঁতা, পাটের চট টানানো, নামাজের জন্য ময়দানে লাইন কাটার কাজ করছি।’
ইজতেমা ময়দানে মূল বয়ানমঞ্চ তৈরির জিম্মাদার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বয়ানমঞ্চ প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলছে। বিগত ১৬ বছর ধরে আল্লাহকে রাজি-খুশি করতে বিশ্ব ইজতেমার বয়ানমঞ্চ তৈরির কাজ করে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামী শুক্রবারের আগেই মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হবে।’
ইজতেমার আয়োজক শুরায়ে নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান বলেন, ‘ইজতেমার যাবতীয় কাজ শেষের পথে। ইনশাআল্লাহ সঠিক সময়ের আগেই মাঠ প্রস্তুত হয়ে যাবে। তবে ইজতেমা শুরু হওয়ার আগেই মুসল্লিরা ময়দানে আসা শুরু করবেন।’
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইসকান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, ইজতেমা ময়দানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ইজতেমার প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলছে। ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
এদিক ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপ সাদপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শুরায়ে নেজাম বলছে, সাদপন্থিদের ইজতেমা করতে দেওয়া হবে না। আর সাদপন্থিরা বলছেন, তারা ইজতেমা করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
নিজামুদ্দিন মারকাজের (সাদপন্থি) মিডিয়া সমন্বয়ক মো. সায়েম বলেন, ‘আমাদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।’
প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার শুরু হতে যাচ্ছে শুরায়ে নেজামের (বাংলাদেশের মাওলানা জুবায়ের আহমেদ অনুসারীদের) ইজতেমার প্রথম পর্ব। এ পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ২ ফেব্রুয়ারি। মাঝে চার দিন বিরতি দিয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি (মাওলানা সা’দ কান্ধলভী অনুসারীদের) দ্বিতীয় পর্বের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।