বাংলাদেশের প্রবীণ অর্থনীতিবিদ, জনবুদ্ধিজীবী ও সমাজবিশ্লেষক অধ্যাপক রেহমান সোবহানের ৯১তম জন্মদিন ছিল বুধবার (১২ মার্চ)। ১৯৩৫ সালের এই দিনে ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ছিলেন তার নানা। বাবা কে এফ সোবহান ছিলেন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা। তার শৈশব কেটেছে কলকাতায়। পড়াশোনার সুবাদে যেতে হয়েছে দার্জিলিং, লাহোর ও কেমব্রিজে। তিনি ২০০৮ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
১৯৫৭ সালে বাংলাদেশে এসে রেহমান সোবহান যুক্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষকতায়। সে সময়ে তার ‘এক দেশ দুই অর্থনীতি’ তত্ত্ব ব্যাপক সাড়া ফেলে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী সরকারের কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। নব্বইয়ের অন্তর্বর্তী সরকারের সদস্য হিসেবে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ছিলেন যুক্ত। ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ছিলেন রেহমান সোবহান।
১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশে যখন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তখন আরও কয়েকজন বিশিষ্টজনকে নিয়ে তিনি সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজের (২০০১-২০০৫) নির্বাহী পরিচালক। ১৯৯৪-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী চেয়ারম্যান ছিলেন রেহমান সোবহান। এ ছাড়া তিনি বিআইডিএসের পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন।
অর্থনীতি নিয়ে নানা কলাম, প্রবন্ধ বা বইয়ে সমাজ সমন্বয়ের নানা নীতি নিয়ে তিনি বিস্তর কাজ করেছেন। শাসনব্যবস্থার নানা গলদের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল নিয়েও তিনি লিখে চলেছেন এখনো। স্মৃতিচারণমূলক প্রবন্ধে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনীতির নানা অধ্যায়কে তুলে এনেছেন বিশদ বিশ্লেষণে।