ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড পেলের কীর্তিতে ভাগ বসালেন ইয়ামাল জন্মবার্ষিকীতে স্মরণানুষ্ঠান: সুফিয়া কামালের ব্যক্তিত্ব সবাইকে আলোকিত করে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা সৌদিকে উড়িয়ে দিল স্পেন যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু

ঈদের বাজারে পোশাকের দাম চড়া, হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৫, ১১:৫৭ এএম
আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৫, ১২:১২ পিএম
ঈদের বাজারে পোশাকের দাম চড়া, হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা
মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। ছবি: খবরের কাগজ

‘অন্য বছরের তুলনায় এবার ঈদের পোশাকের দাম বেশি। কেনাকাটা করতে কষ্ট হচ্ছে। বেতন তো বাড়েনি। তারপরও দুই দিন ঘোরাঘুরি করে শৈলী ফেব্রিকস থেকে আত্মীয়স্বজনের জন্য থ্রি-পিস কিনলাম।’ ঈদ উপলক্ষে মোহাম্মদপুরের টোকিও স্কয়ারে কেনাকাটা করতে এসে এভাবেই অভিমত প্রকাশ করেন একটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক কানিজ ফাতিমা। শুধু এই বাজারেই নয়, কৃষি মার্কেট, শ্যামলী রিং রোড, শ্যামলী স্কয়ার শপিংমল থেকে শুরু করে লালমাটিয়ার সানরাইজ প্লাজাসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারে দেখা গেছে এই চিত্র। এসব দোকানের বিক্রেতারা পোশাক বিক্রির জন্য হাঁকডাক দিলেও বেশি দামের কারণে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। আবার অনেকে কিনছেন। তারা বলছেন, ‘এবার ঈদের পোশাকের দাম বাড়তি। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, সব জিনিসের দাম বেড়েছে। আমরাও তার বাইরে নই।’ 

রবিবার (১৬ মার্চ) ১৫তম রমজানে এই এলাকার ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনই তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর অন্য এলাকার মতো মোহাম্মদপুর, আদাবরে জমে উঠেছে ঈদবাজার। পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে ছোট-বড় মার্কেট, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আউটলেট, শপিংমলে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। পিছিয়ে নেই ফুটপাতের বেচাকেনাও। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ বাজেটের মধ্যে মিলছে না পছন্দের পোশাক। বিভিন্ন মার্কেটে দেখা গেছে, ছেলেদের সুতি, এমব্রয়ডারি, সিক্যুয়েন্স, স্প্যানডেক্স, লিনেন পাঞ্জাবির দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। আর কাবলি সেট, ডিজাইনার পাঞ্জাবি ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ব্যাপারে লিংক রোডের রিচম্যান আউটলেটে ফাহিম নামে এক ছাত্র বলেন, ‘একটা পাঞ্জাবি পছন্দ হলো, ট্রায়াল দিলাম। কিন্তু দাম বেশি, ৩ হাজার ৫০০ টাকা। তাই কেনা হলো না।’ দেখি অন্য জায়গায় বলে এই আউটলেট থেকে বের হয়ে যান।

টোকিও স্কয়ারের দ্বিতীয় তলায় জাহিদুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘এবার পোশাকের দাম বেশি। তারপরও কিনতে হলো। পাকিস্তানি থ্রি-পিস কিনলাম। ৫ হাজার টাকার ওপরে দাম। দোকানদার চেয়েছিলেন ৮ হাজার ৫০০ টাকা। রানজু এক্সক্লুসিভ কালেকশনে কামরুন নাহার নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘কয়েক জায়গায় দেখার পর একটা থ্রি-পিস ২ হাজার টাকায় কিনলাম। দাম বেশি মনে হচ্ছে।’

এই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় বিক্রমপুর ফেব্রিকসসহ অন্য দোকানেও দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়। কিন্তু সেই তুলনায় বেচাবিক্রি কম বলে বিক্রেতারা জানান। শৈলী ফেব্রিকসের বিক্রয়কর্মী আল-আমিন বলেন, ‘রমজানের প্রথম থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে যেভাবে আশা করেছিলাম সেভাবে হচ্ছে না। অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন।’ দাম বেশি হওয়ার কারণেই এ অবস্থা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ডলারের কারণেই সবকিছুর দাম বেশি। পোশাকেও এর প্রভাব পড়েছে।’ বেশি দামের ব্যাপারে অন্য বিক্রেতারাও এমন তথ্য জানান। এই মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় বাচ্চা ও বড়দের পোশাকের দোকানের বিক্রয়কর্মীরা হাঁকডাক দিচ্ছেন। ক্রেতারা যাচ্ছেন তাদের দোকানে। কিন্তু বেশি দামের কারণে অনেকেই খালি হাতে ফিরে আসছেন। এই মার্কেটের নিচতলায় কসমেটিকসের দোকানেও দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।

এদিকে টোকিও স্কয়ারের সামনে ইয়োলো আউটলেটেও দেখা গেছে একই অবস্থা। অনেকের পছন্দ হলেও বেশি দামের জন্য ট্রায়াল করার পর কিনছেন না। খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। তবে যাদের বাজেট বেশি, তারাই পছন্দের থ্রি-পিস, পাঞ্জাবিসহ অন্য জিনিস কিনছেন। এই এলাকার অন্য দোকানেও দেখা গেছে, মেয়েদের টপস, টু-পিস, থ্রি-পিস, জাম্পস্যুট, ২ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিশুদের জামা-কাপড়ের দামও চড়া। ফুটপাতেও ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বাচ্চা মেয়েদের ফ্রক মেলে না। ফ্যাশন হাউসগুলোতেও পোশাকের দাম গতবারের তুলনায় বেশি। ক্রেতারা জানান, পোশাকের দাম বাড়তি। তাই কেনাকাটায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেকেই দামদর জানার পর বাসায় চলে যাচ্ছেন। 

রবিবার সানরাইজ প্লাজায় ল্যাকমি ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডে কথা হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থেকে আসা সিনথিয়া নামে এক গৃহিণীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে প্রতিবছরই ঢাকায় বাজার করতে আসি। কিন্তু এবার দেখছি দাম বেশি। বাজেটে কুলাচ্ছে না। কাটছাঁট করতে হচ্ছে।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সাধারণ একটা থ্রি-পিসের দাম চেয়েছে ৩ হাজার টাকার ওপরে। দরাদরি করার পর শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০ টাকায় দিয়েছে। এভাবে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেশি মনে হচ্ছে।’

বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০৬ এএম
বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার শঙ্কা
পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সড়ক, ছবিটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাগলী বাজার থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন জেলায় নদ-নদীর পানি বেড়ে যাচ্ছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে কোথাও সড়ক তলিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও স্থানীয় অবকাঠামো। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সিলেটের সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

লালমনিরহাট: উজানের পাহাড়ি ঢল ও থেমে থেমে বৃষ্টিতে জেলার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। রবিবার দুপুর ১২টা ও বেলা ৩টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তার নিম্নাঞ্চলে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম: তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচ প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। রবিবার সকালে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী পাঁচ দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

রংপুর: উজানের পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে জেলার গঙ্গাচড়ায় মহীপুর দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ৮৫০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের মধ্যে অন্তত ৬০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

শনিবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হওয়ায় ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ ৪৪টি কপাট খুলে দেয়। এতে কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ৪০০ পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার দুপুরে পানির তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বাহুকা গ্রামে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ভর্তি বালুর বস্তা ফেলছে।

সুনামগঞ্জ: কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পানি উপচে আনোয়ারপুর সড়ক ডুবে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সিলেট: দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় জেলার কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ কারণে বন্যার শঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

রবিাবর সকাল ৯টা পর্যন্ত পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার কোনো নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। তবে সুরমা, কুশিয়ারা, গোয়াইন ও পিয়াইন নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বাড়ছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্ট। সেখানে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার হলেও সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ১৪ মিটার অর্থাৎ পানি বিপৎসীমার মাত্র ৬১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল সাংগ্রিলায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

 এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বহু বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। অনেক প্রবাসী বিভিন্ন কারণে দেশটির কারাগারে আটকে আছেন, এ সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। কীভাবে তাদের মুক্ত করা যায়, সেই চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় যেন অদক্ষ শ্রমিক না আসে সেজন্য টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর করা হবে। মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমবাজার খুলে দিতে দেশটির সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। সেখানে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এসএন/

তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি
ছবি: ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ

গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর অবশেষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থেমে থেমে রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ বৃষ্টিকে স্বাগত জানালেও নগরজীবনে ভোগান্তিও দেখা যায়। বৃষ্টির সময় রাজধানীতে অফিস ফেরত কর্মজীবীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। যানবাহনের সংকট ও যানজটের কারণে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বজায় থাকবে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের তিন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এ সময় অতি ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নগর এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাতের মধ্যে ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, পাবনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী
সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে এবং এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই দিনে সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের সাংবিধানিক সুযোগ নেই, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।

রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে প্রশ্নোত্তর ও টেবিলে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রীরা এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোতে মোট ৫৯ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২২টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি মামলার তদন্ত চলছে। এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন, ২৮৮ জন পলাতক এবং একজন আসামি মারা গেছেন।

একই দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কারণে ঢাকার বাইরে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের সুযোগ নেই। তবে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে দেশের যে-কোনো স্থানে হাইকোর্টের অস্থায়ী অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায়ে আপিল বিভাগ ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

লিগ্যাল এইড সেবা সম্প্রসারণে আইনজীবীদের ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং তা আরও যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। কম ফি’র কারণে অনেক দক্ষ আইনজীবী লিগ্যাল এইড প্যানেলে কাজ করতে আগ্রহী হন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উজানে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদকে জানান, দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে দেশের বার্ষিক চাহিদা ৩৮ দশমিক ৯ লাখ মেট্রিক টন। একই সময়ে মাছ আমদানির পরিমাণ মোট উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন। প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত এবং বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এলিস/এসএন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিরোধীদলীয় জোট এনসিপির এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৃষ্টি হয় হট্টগোল। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আলোচনার এক পর্যায়ে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর করতে উভয় পক্ষ একটি সম্মতিতে এসেছি। সংসদে এমন কোনো অসত্য বক্তব্য উত্থাপন করা উচিত নয়, যাতে কারও মানহানি হয়। নতুন প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য সংসদ নেতাকে নিয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছেন, যা অত্যন্ত ক্ষোভের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। ১৬ বছর ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে এবং সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠন করেছেন। সংসদ নেতাকে নিয়ে দেওয়া অসত্য বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।’

এর জবাবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দলের চিফ হুইপ যে কথাটা বললেন, আমার মনে হয় সেটা সঠিক নয়। কারণ আমাদের সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি সুনির্দিষ্টভাবেই বলেছেন যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, কিন্তু ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকেই আসছে। যে অংশটুকু অসত্য, তা দয়া করে এক্সপাঞ্জ করবেন।’

এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বারবার দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। 

তিনি বলেন, ‘আপনার সময় শেষ। এভাবে যখন খুশি তখন দাঁড়ানো সংসদের রীতি নয়। প্লিজ টেক ইয়োর সিট। এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হান্নান মাসউদ সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি অনুরোধ করব, বাইরের বিষয় টেনে এনে এখানে এক্সপাঞ্জ বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ যেন না থাকে। সংসদের ভেতরে সংসদীয় নর্মস বজায় রাখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘সত্য-অসত্যের এই বিতর্কে গেলে হয়তো অনেক কিছুই লজ্জাজনক হয়ে উঠবে। তাই পুরো বিষয়টি ইগনোর করাই আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে।’

সবশেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেব।’

এলিস/রিফাত/