রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হলেও রূপান্তরের অধ্যাদেশ জারি ও অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের কার্যক্রম ঝুলে রয়েছে বলে দাবি কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের। এ নিয়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনে প্রজ্ঞাপন না দেওয়া হলে আগামী সোমবার (১৯ মে) থেকে কঠোর কর্মসূচিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
শনিবার (১৭ মে) বিকেলে ইডেন মহিলা কলেজের ১ নম্বর ফটকের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবিসহ ওই আলটিমেটাম দেওয়া হয়। স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী জাফরিন আক্তার বলেন, ‘সাত কলেজের ঢাবি অধিভুক্তি বাতিলের পর চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) এ কলেজগুলো পরিচালনায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রস্তাব করে। যে প্রশাসন অধিভুক্তি বাতিল ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালন করবে। তবে অন্তর্বর্তী প্রশাসন বিষয়ে ইউজিসির প্রস্তাবনার আড়াই মাস পার হলেও এখনো সেটির চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এ সমস্যা সমাধানে তাদের চার মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু গত ৩০ এপ্রিল এ কমিটির সময়সীমা শেষ হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। আমরা এমন সময়ক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রজ্ঞাপন দেওয়ার কথা থাকলেও তা কোনো এক অদৃশ্য কারণে এখনো ঝুলে আছে। অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রজ্ঞাপন ও অধ্যাদেশ জারি না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামো, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম, পরীক্ষাসহ সবকিছুতেই আমাদের এখনো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমরা মনে করি, এটা একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে।’
২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিমুল আবিদ বলেন, ‘রাষ্ট্র বারবার আমাদের পড়ার টেবিল ছেড়ে রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। রবিবারের মধ্যে যদি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি না হয়, তাহলে সোমবার থেকে আমরা আবার মাঠের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’
কর্মসূচি প্রসঙ্গে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘কর্মসূচি কেমন হবে, সেটা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেব। একই সঙ্গে আমরা বাকি দাবিগুলোর বিষয়েও নজর রাখব। আমাদের যদি আবার মাঠে নামতে হয়, তাহলে এবার রাজপথ থেকেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরব।’
এ ছাড়া ওই সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- রবিববারের মধ্যে অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি; অন্তর্বর্তী প্রশাসকের নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সেশনজট নিরসনসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ। একই সঙ্গে ভুতুড়ে ফলের সমাধান, বিভিন্ন ইস্যুতে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধসহ যাবতীয় অসংগতিগুলো স্পষ্টভাবে সমাধানের উদ্যোগ; অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের পরবর্তী ২ কার্যদিবসের মধ্যে ২০২৪-২৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ।
আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপরেখা এবং লোগো বা মনোগ্রাম প্রকাশ; আগামী এক মাসের অর্থাৎ আগামী ১৬ জুনের মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজগুলো হলো- ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ। ২০২৪ সালে দেশের পটপরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত এই সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১৬ মার্চ কলেজগুলোকে নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের ঘোষণা আসে।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/




