বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে কুষ্টিয়া জেলা থেকে শীর্ষ তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সেনাবাহিনীর একটি সূত্র খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল ৫টায় ঢাকা সেনানিবাসে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে কুষ্টিয়া জেলা থেকে শীর্ষ তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী মোল্লা মাসুদ ওরফে আবু রাসেল মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে, তাদের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা হতে সুব্রত বাইনেরর অপর দুই সহযোগী শ্যুটার আরাফাত এবং শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে ৫ টি বিদেশি পিস্তল, ১০ টি ম্যাগাজিন, ৫৩ রাউন্ড এ্যামোনিশন এবং ১ টি স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের নামে বিভিন্ন থানায় হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃংখলা রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। যেকোন ধরণের অপরাধমূলক কার্যক্রম এর তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প অথবা আইনশৃংখলা বাহিনীকে অবহিত করার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
নব্বইয়ের দশকে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। মগবাজারের বিশাল সেন্টার বিপণিবিতানের কাছে ‘চাংপাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের’ কর্মচারী ছিলেন সুব্রত বাইন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে অপরাধজগতে জড়িয়ে যান। আধিপত্য বিস্তার, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে তখন তিনি আতঙ্কের নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। এসব কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য খুন-জখমের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে ২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্যতম ছিলেন সুব্রত বাইন। তার নামে এখনো ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে।
আরও পড়ুন: যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন
আলমগীর/মেহেদী/