জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও নিপীড়নমূলক বদলির আদেশ বাতিলের দাবিতে আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতি পালন করবে বলে জানিয়েছে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এর আগে গতকাল সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এনবিআর চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ সময় তারা এনবিআর থেকে গতকাল জারি করা দুইটি বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলেন।
এদিকে একই সময়ে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্ব-স্ব দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতি পালন করেন। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তাদের আন্দোলনের বাইরে রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ৪৪ আমলার (৬ জনকে ইতোমধ্যে অবসরে পাঠানো হয়েছে) তালিকায় এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যান ৩ নম্বরে রয়েছেন। দেশ ও রাজস্ব ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত এনবিআরের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে। তার বিরুদ্ধে অসহযোগ কর্মসূচি যথারীতি চলবে। যার অংশ হিসেবে আজ ২৫ ও আগামীকাল ২৬ জুন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঢাকার বাইরে কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্ব-স্ব দপ্তরে অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতি পালন করবে। এ ছাড়া একই সময়ে ঢাকার ট্যাক্স, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এনবিআর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতি পালন করবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা ও রপ্তানি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এ আন্দোলনের বাইরে থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এনবিআরের চেয়ারম্যানকে আগামী ২৭ জুনের মধ্যে অপসারণ না করা হলে আগামী ২৮ জুন থেকে কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের সব দপ্তরে লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন চলবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবা কার্যক্রম আন্দোলনের বাইরে থাকবে।
এর আগে গত সোমবার আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে কলমবিরতি পালনের সময় কাফন পরে হাজির হন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকাল থেকে এনবিআর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাজির হন। এ সময় তাদের হাতে ‘গোলামী আইন বাতিল কর, করতে হবে’ ‘বদলির নামে প্রহসন মানি না, মানব না’, ‘বদলির নামে জুলুমবাজি বন্ধ করতে হবে’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে।
এদিকে গত রবিবার এনবিআরের আয়কর বিভাগে উপকর কমিশনার পর্যায়ে পাঁচ কর্মকর্তার রদবদল করা হয়। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের দাবি, আন্দোলন দমাতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ১২ মে সরকার এনবিআরকে দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ জারি করে। এর বিরোধিতা করে গত ২৫ মে পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি ও কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করে এনবিআরের অধীনে থাকা কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর ২৫ মে রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অর্থমন্ত্রণালয় জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত নয়, বরং এ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীন ও বিশেষায়িত’ বিভাগের মর্যাদায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে ২৬ মে পূর্বনির্ধারিত কলমবিরতির কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ। তবে এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও তাকে অসহযোগিতা করার ঘোষণা দেয় সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
গত ২০ জুন এনবিআর সংস্কার কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের জন্য ছয় সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করে সরকার। এনবিআর সদস্য (কর, লিগ্যাল ও এনফোর্সমেন্ট) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকীকে এই কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণ করে গত ২১ জুন বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্য পরিষদ।
এ সময় সংগঠনটির সভাপতি অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার ও মহাসচিব অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা বলেন, ইতোমধ্যে সংস্কার কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক বদলি ও নিপীড়নের খড়গ নেমে এসেছে। আবার, সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকা সত্ত্বেও রাজস্ব ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে উসকানিমূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি, অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করতে হবে। তার মাধ্যমে রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক কার্যক্রম সময়ক্ষেপণ বৈ কিছু নয় বলে ঐক্য পরিষদ মনে করে।