ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে মহাসমাবেশ করেছে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (৪ জুলাই) প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে রাজধানীর পলাশী মোড় থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে অংশ নিয়ে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফারাবি বলেন, ‘আমরা যারা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি, তারা অনেক বড় বৈষম্যের শিকার হয়েছি। কোটা বৈষম্যের কারণে চাকরি হয় না। আমাদের কি দেশে থাকার অধিকার নেই? আমরা চাই, অবিলম্বে আমাদের তিন দফা মেনে নিয়ে এই বৈষম্যের নিরসন ঘটানো হোক।’
ওই সমাবেশে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা অংশ নেন। সমাবেশে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো ইঞ্জিনিয়ারিং নবম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে নিয়োগ পরীক্ষা দিতে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। টেকনিক্যাল দশম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নন-অ্যাক্রিডেট বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সগুলোকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আইবি-বিএইটিই অ্যাক্রিডিটেশনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না, মেধা? মেধা, মেধা’, ‘২৪-এর অঙ্গীকার, মেধা যার চাকরি তার’, ‘ডিপ্লোমা কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘এই সময় দরকার, প্রকৌশল খাতের সংস্কার’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’সহ নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রসঙ্গত, ওই শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরির ১২-১৪তম গ্রেডে যেখানে অনার্স-মাস্টার্স ডিগ্রি প্রয়োজন হয়, সেখানে ডিপ্লোমাধারীরা কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও সরাসরি দশম গ্রেডে নিয়োগ পাচ্ছেন এবং সেখান থেকে ৩৩-৭০ শতাংশ কোটায় নবম গ্রেডে পদোন্নতি পাচ্ছেন, যা অনার্স ডিগ্রিধারীদের সঙ্গে চরম বৈষম্য তৈরি করছে।