অবশেষে বিদ্যুৎ নিয়ে জাতীয় শঙ্কা দূর হতে চলেছে। আশার আলো দেখাচ্ছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে আটটি সঞ্চালন লাইনের তিনটি চালু হয়ে গেছে।
বাকি পাঁচটির মধ্যে এ বছরেই অন্তত আরও দুটি লাইন চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট তিনটি আগামী বছরের মধ্যে চালু হয়ে যাবে। তবে তার আগে এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ আশা পূরণ হলে পাবনার রূপপুর হয়ে উঠবে আলোকিত বাংলাদেশের উজ্জ্বল কেন্দ্রবিন্দু।
ধারণা পাওয়া গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশকে আর বিদ্যুৎ সংকটে পড়তে হবে না। বিদ্যুৎ নিয়ে শঙ্কিত থাকতে হবে না। বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানিরও প্রয়োজন হবে না। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, এখন ইচ্ছা করলে যেকোনো সময় এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। তবে কবে কখন সরবরাহ শুরু হবে, সেটা নির্ভর করছে সরকার বা উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ওপর।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাবনার রূপপুরে রাশিয়ার অর্থায়নে ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে সংযুক্ত চারটি সঞ্চালন লাইনের কাজও সমানতালে এগিয়ে চলছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিএলসি) সূত্রে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ‘রূপপুর-গোপালগঞ্জ সঞ্চালন লাইন’ গত ২ জুন সক্রিয় বা চালু করা হয়েছে। এই লাইনের দৈর্ঘ্য ১৫৮ কিলোমিটার।
এ নিয়ে এই পর্যন্ত মোট তিনটি লাইন চালু হলো। এর আগে ২০২২ সালের ৩০ জুন ‘রূপপুর-বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন’ এবং ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ‘রূপপুর-বগুড়া ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন’ চালু করা হয়। এই তিনটি লাইনের প্রতিটির বিদ্যুৎ সঞ্চালন সক্ষমতা ২ হাজার মেগাওয়াট। পিএলসি জানায়, রূপপুর-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন সফলভাবে চালু করার মধ্য দিয়ে প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন সক্ষমতার মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
এর মাধ্যমে পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত ১৫ জুন ‘এনার্জাইজ’ (পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সঞ্চালন) করে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো ত্রুটি বা সমস্যা হচ্ছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) ঈশ্বরদী জয়নগরের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এনায়েত করিম গণমাধ্যমকে বলেছেন, রূপপুর-গোপালগঞ্জ সঞ্চালন লাইনটি চালুর পর এখন রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চালু করা হলেই এই সঞ্চালন লাইন দিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য মোট আটটি সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এর মধ্যে চারটি ৪০০ কেভি এবং চারটি ২৩০ কেভি ক্ষমতার। ৪০০ কেভির লাইনগুলো হলো রূপপুর-বগুড়া, রূপপুর-গোপালগঞ্জ, রূপপুর-আমিনবাজার-কালিয়াকৈর (ডাবল সার্কিট)। আর ২৩০ কেভির লাইনগুলো হলো রূপপুর-বাঘাবাড়ী (ডাবল সার্কিট) রূপপুর-ধামরাই এবং রূপপুর-আমিনবাজার-কালিয়াকৈর। ৪০০ কেভির ডাবল সঞ্চালন লাইন এবং ২৩০ কেভির ডাবল সার্কিটের রূপপুর-ধামরাই সঞ্চালন লাইনের কাজ আগামী বছর সম্পন্ন হবে।