বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের ডাকা ৭২ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সঙ্গে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের যৌথ বৈঠক শেষে এ ঘোষণা আসে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মঈনউদ্দিন, সড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমসহ বাস-ট্রাকের বিভিন্ন পরিবহনের নেতারা।
উল্লেখ্য আগামী ১২ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়ে ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা পর্যন্ত চলার কথা ছিল এই ধর্মঘট।
গত ২৭ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের নেতারা পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। সেদিন তারা ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন।
সে দাবিগুলো ছিল- সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮-এর ৯৮ ও ১০৫ ধারাসহ সুপারিশকৃত ধারাগুলো সংশোধন, বাণিজ্যিক মোটরযানের ইকোনমিক লাইফ ২০ ও ২৫ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ৩০ বছর করা, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ২০ ও ২৫ বছরের পুরাতন গাড়ির বিরুদ্ধে বিআরটিএর অভিযান স্থগিত রাখা, বাজেটে আরোপিত দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর (প্রিজাম্পটিভ ইনকাম ট্যাক্স) কমিয়ে আগের মতো বহাল রাখা, রিকন্ডিশন বাণিজ্যিক যানবাহন আমদানির মেয়াদ ৫ বছর থেকে ১২ বছর করা, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থানায় আটক হলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় দেওয়ার বিধান, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন ও বিআরটিএ অনুমোদনবিহীন হালকা যানবাহনের পৃথক লেন ব্যবস্থা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নবায়ন দ্রুত সরবরাহ করা।
রবিবার বিজয় হলে বৈঠকে এই দাবিগুলোর নিয়ে আলোচনা হয়। সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিবহন মালিকদের দাবিগুলো দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
জয়ন্ত সাহা/সুমন/