‘মঞ্চ ৭১’-এর গোলটেবিল বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষক-সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও আটকের ঘটনায় গভীর নিন্দা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানানো হয়।
এতে বলা হয়, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের আত্মদান, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং জাতি, বর্ণ, ধর্ম ও লিঙ্গ নির্বিশেষে কোটি বাঙালির সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। সেই রক্তে কেনা পবিত্র সংবিধান আজ ক্ষতবিক্ষত।’
এতে আরও বলা হয়, ‘আমরা গভীর উদ্বেগ, লজ্জা, আতঙ্ক ও তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, আমাদের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতির বিবেক শিক্ষক, সাংবাদিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর ধারাবাহিকভাবে মব সৃষ্টির মাধ্যমে ন্যাক্কারজনক ও পাশবিক হামলা চালানো হচ্ছে। দেশের সব স্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বুদ্ধিজীবীরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। ধ্বংস করা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে তৎপর হয়ে উঠেছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, “এমন এক দুর্বিষহ সময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সব অসাম্প্রদায়িক শক্তি মিলে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেনকে প্রধান অতিথি করে মঞ্চ ৭১-এর প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নার আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ‘আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক চলছিল। সেখানে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উগ্র মব সৃষ্টি করে বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান কার্জন, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামালসহ আনুমানিক ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এমনকি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। কিছুদিন আগে পবিত্র আত্মত্যাগের ইতিহাসকে অস্বীকার এবং কটাক্ষ করে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান করে তা আজকের এই হামলার সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্কিত বলে আমরা মনে করি। এই হামলা কেবল ব্যক্তিবিশেষের ওপর আঘাত নয়, বরং তা আমাদের জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত।”
শিক্ষকরা বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। মহান মুক্তিযুদ্ধকে অবমাননার যেকোনো প্রয়াস রুখে দিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ। গ্রেপ্তার সবাইকে অতি দ্রুত শর্তহীন মুক্তি প্রদান করুন।’
বিবৃতিতে অধ্যাপক এম অহিদুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন, নিম চন্দ্র ভৌমিক, মো. আখতারুল ইসলাম, জিনাত হুদা ও মো. আনোয়ারুল ইসলামসহ আড়াই শতাধিক শিক্ষক স্বাক্ষর করেন।
মাহমুদুল আলম/রিফাত/সুমন/




