ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টায় প্রথম দফার বৈঠক শেষ, মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান ডোকুর ‘বিশ্বকাপ ছাড়ার’ সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড় মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর প্রথমার্ধে সৌদি আরবের জালে ৩ গোল স্পেনের তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়লেন ইয়ামাল সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের দাফন সম্পন্ন সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু সুরের মূর্ছনায় বিশ্ব সংগীত দিবস: ঢাকার দুই প্রান্তে সুরের বিভা কুড়িগ্রামে এক বাঘা আইড় ৮৫০০০ অজু করার সময় বজ্রপাতে প্রাণ গেল ৩ মাদরাসাছাত্রের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ স্পেনের শুরুর একাদশে ইয়ামাল সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে জবিতে দুই দিনব্যাপী সেমিনার শুরু মানিকগঞ্জে ঝোপে মিলল স্কুলছাত্রীর ঝুলন্ত খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ মালয়েশিয়ায় তারেক রহমান, বাণিজ্য–বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা দিনাজপুরে কোল্ডস্টোরেজে আলু সংরক্ষণ ফি ৫ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন চট্টগ্রামে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ শরীয়তপুরে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক আটক স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব বোয়ালমারীতে শতবর্ষী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চাঁদাবাজির অভিযোগে সোনারগাঁওয়ের এমপি পুত্র সজীব আটক প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান মাদারগঞ্জে বজ্রপাতে এক বৃদ্ধের মৃত্যু ‘কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন’ আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ যুদ্ধবিরতির পথে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ শুরু জেনেভায় সিলেটে টানা বৃষ্টি, বন্যার শঙ্কা পাউবোর বাংলাদেশের বাজেট ২০২৬-২০২৭: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

চূড়ান্ত জুলাই সনদ দলগুলোর হাতে

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০২ পিএম
আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:৩৮ পিএম
চূড়ান্ত জুলাই সনদ দলগুলোর হাতে
ছবি : সংগৃহীত

রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ এর চূড়ান্ত ভাষ্য পাঠিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদে সইয়ের জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রতিটি দল থেকে দু'জন ব্যক্তির নাম পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ সংক্রান্ত মেইল পাঠানো হয়।

এর আগে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৃস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। তখন ব্রিফিংয়ে কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড.  আলী রীয়াজ জানান, রাতেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সনদের ভাষ্য পাঠানো হবে।

কী আছে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ভাষ্যে?

সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-শ্রমিক- জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গণতান্ত্রিক ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এই সন্ধিক্ষণে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জোট ও শক্তিগুলোর পারস্পরিক ও সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি—

১. পটভূমি

প্রায় দুশো বছরের বৃটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে নিপীড়িত জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাকিস্তান নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। এবং পুর্ব বাংলা তার অন্তর্ভুক্ত হয়।

 কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠির স্বৈরশাসন, শোষণ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার জনগণ সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং তৎপরবর্তী ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এক স্বৈরাচারের অবসান ঘটে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বাধিকারের প্রতিফলন ঘটে।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা এবং এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। মহান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বর্ণিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের নীতিকে ধারণ করে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, দীর্ঘ ৫৩ বছরেও তা পুরোপুরি অর্জন করা যায়নি। কারণ, শাসন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও সংস্কৃতি বিকাশের ধারা বারবার হোঁচট খেয়েছে। ১৯৭৫ সালে সংবিধান সংশোধন করে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একদলীয় বাকশাল গঠন করা হয়।

একই বছরে সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ১৯৭৬ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিগত পাঁচ দশকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে একদিকে যেমন পুরোপুরি টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করা যায়নি, অপরদিকে তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নামেমাত্র থাকলেও তা অত্যন্ত ন্যুব্জ ও দুর্বলভাবে কাজ করেছে।

বস্তুতপক্ষে রাষ্ট্রকাঠামোতে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অবারিত সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিগত ১৬ বছরে দলীয় প্রভাবকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর, জবাবদিহিবিহীন ও বিচারহীনতার সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছিল।

২০০৬ সালে কয়েকটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও তৎপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি ও একটি অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। বিগত ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাসীন হয়ে ক্রমান্বয়ে অবশিষ্ট গণতান্ত্রিক মুল্যবোধকে জলাঞ্জলি দিয়ে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র ধারণ করতে থাকে। তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সমালোচকদের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নিপীড়ন-নির্যাতন, মামলা, হামলার মাধ্যমে একটি নৈরাজ্যকর ও বিভীষিকাময় হ্রাস ও ভীতির রাজত্ব কায়েম করে।

২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্তরে সংঘটিত হয় এক নির্মম হত্যাযজ্ঞ। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্বৈরতান্ত্রিকভাবে বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার ও গোষ্ঠী বন্দনার জন্য নিবেদিত রাখা হয়। দেড় দশকে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার উদ্দেশ্যে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের বিকৃতি সাধন, বিভিন্ন নিবর্তনমূলক আইন প্রণয়ন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পরপর তিনটি বিতর্কিত ও প্রহসনমূলক নির্বাচন করে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা, বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ব্যবস্থা কায়েম করে।

এই পটভূমিকায় রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ ১৬ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে সরকারি চাকরিতে কোটা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের এক দফা আন্দোলনে বিপুল ছাত্র-শ্রমিক-নারী-পেশাজীবী তথা ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সকল স্তরের জনতার অংশগ্রহণের ফলে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে রেমিট্যান্স বন্ধ করাসহ অব্যাহতভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

সফল এই অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত লগ্নে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের তাৎপযপূর্ণ ভূমিকা স্বৈরাচারের পতনকে ত্বরান্বিত করে। এতে শাসকগোষ্ঠীর প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শিশু ও নারীসহ প্রায় এক হাজার নিরস্ত্র নাগরিক নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়। তাদের আত্মাহুতি, ত্যাগ এবং জনগণের সম্মিলিত শক্তি ও প্রতিরোধের মুখে স্বৈরাচারী শাসক ও তার দোসররা পরাজিত হয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

এমতাবস্থায়, জনগণের মননে রাষ্ট্র-কাঠামো সংস্কারের এক প্রবল আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার, বিশেষত সংবিধানের মৌলিক সংস্কার, ধ্বসে পড়া নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার, গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন ও বিধি-বিধানের সংস্কার, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার সদ্ব্যবহার করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

২. সংস্কার কমিশন গঠন

বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রেরিত প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে।

তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সরকার পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাঁচটি সংস্কার কমিশন যথা, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন এবং ৭ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে অপর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করে।

কমিশনগুলো সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিসহ অংশীজনদের সাথে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করা সুপারিশসহ প্রতিবেদন ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাখিল করে।

৩. জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন

জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টাকে সভাপতি, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধানকে সহ-সভাপতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধানরা এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সদস্যকে সদস্য করে একটি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে।

পরবর্তীকালে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধানের পরিবর্তে এই কমিশনের একজন সদস্যকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে কমিশন কিছুটা পুনর্গঠন করা হয়। কমিশনের দায়িত্ব ছিল— আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য গঠিত কমিশনগুলোর সুপারিশ বিবেচনা ও গ্রহণের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা এবং এ মর্মে পদক্ষেপ সুপারিশ করা।

কমিশনের মেয়াদ ছিল কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ছয় মাস। পরবর্তী সময়ে গত ১১ আগস্ট সরকার কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কমিশনের মেয়াদ এক মাস বৃদ্ধি করা হয়। কমিশন তার দায়িত্ববোধ ও সুপারিশের অংশ হিসেবে ঐকমত্যের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংবলিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

৪. কমিশনের কার্যক্রম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের মধ্যে ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের ছাপানো অনুলিপি সব রাজনৈতিক দলের কাছে প্রেরণ করা হয়। এরপর ৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে পুলিশ সংস্কার কমিশন ব্যতীত অপর পাঁচটি কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৭টি রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়।

এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ৭০টি, নির্বাচন সংস্কার বিষয়ক ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি ও দুর্নীতি দমন বিষয়ক ২৭টি সুপারিশ ছিল। পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো সরাসরি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বাস্তবায়নযোগ্য হওয়ায় সেগুলো স্প্রেডশিটে রাখা হয়নি। অপরদিকে, সংবিধান সংস্কার কমিশন ছাড়া অন্য পাঁচটি কমিশনের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশগুলোর তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয় ।

মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোট তাদের মতামত কমিশনের কাছে প্রেরণ করে, অনেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও প্রদান করে। মতামত গ্রহণের পাশাপাশি প্রথম পর্যায়ে ২০ মার্চ থেকে ১৯ মে ২০২৫ পর্যন্ত ৩২টি দল ও জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মোট ৪৪টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা ফলপ্রসু করার লক্ষ্যে কিছু দলের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করে কমিশন অগ্রাধিকার ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় মোট ২০টি বিষয় নিয়ে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সাথে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মিলিত হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০টি বিষয়ের ওপর আলোচনায় উক্ত ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামতই কেবল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার ফলাফলস্বরূপ নিম্নলিখিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ কয়েকটি ভিন্নমতসহ সর্বসম্মতভাবে প্রণীত হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে, আমরা অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা স্ব-স্ব দলের পক্ষ থেকে বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা তথা সংবিধান, বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশি ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে নিম্নলিখিত কাঠামোগত, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ব্যাপারে ঐকমত্যে উপনীত হয়েছি এবং এইসব বিষয়কে এই জাতীয় সনদে সন্নিবেশিত করতে সম্মত হয়েছি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ এবং উক্ত গণঅভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতার স্মারক হিসেবে আমরা এই সনদকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ হিসেবে ঘোষণা করছি।

এলিস/এসএন

মূলকপি দেখতে ক্লিক করুন-

মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
মালয়েশিয়ায় কারাবন্দি বাংলাদেশিদের মুক্তিতে উদ্যোগের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (২১ জুন) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় রাত পৌনে ১১টায় কুয়ালালামপুরের হোটেল সাংগ্রিলায় এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

 এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বহু বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করেন। অনেক প্রবাসী বিভিন্ন কারণে দেশটির কারাগারে আটকে আছেন, এ সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। কীভাবে তাদের মুক্ত করা যায়, সেই চেষ্টা করা হবে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় যেন অদক্ষ শ্রমিক না আসে সেজন্য টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর করা হবে। মালয়েশিয়ায় প্রবাসী শ্রমবাজার খুলে দিতে দেশটির সরকারের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে রবিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। সেখানে তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এসএন/

তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
তীব্র গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি
ছবি: ইন্দ্রজিৎ কুমার ঘোষ

গত কয়েক দিনের তীব্র গরমের পর অবশেষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেল থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি থেমে থেমে রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় শহরবাসীর মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি দেখা গেছে। দীর্ঘদিনের গরমে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ বৃষ্টিকে স্বাগত জানালেও নগরজীবনে ভোগান্তিও দেখা যায়। বৃষ্টির সময় রাজধানীতে অফিস ফেরত কর্মজীবীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। যানবাহনের সংকট ও যানজটের কারণে বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে দিনের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বজায় থাকবে। সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের তিন বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এ সময় অতি ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নগর এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাতের মধ্যে ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, পাবনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলায় দণ্ডিত ৫৯ জন: আইনমন্ত্রী
সংসদে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে সাতটির রায় হয়েছে এবং এসব মামলায় এ পর্যন্ত ৫৯ জন আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই দিনে সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের সাংবিধানিক সুযোগ নেই, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার।

রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম দিনে প্রশ্নোত্তর ও টেবিলে উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রীরা এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) মোট ৮০টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির রায় ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি ৭৩টি মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিষ্পত্তিকৃত মামলাগুলোতে মোট ৫৯ জন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২২টি মামলা সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ৫১টি মামলার তদন্ত চলছে। এসব মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৪৬৩ জন। তাদের মধ্যে ১৭৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন, ২৮৮ জন পলাতক এবং একজন আসামি মারা গেছেন।

একই দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কারণে ঢাকার বাইরে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের সুযোগ নেই। তবে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে দেশের যে-কোনো স্থানে হাইকোর্টের অস্থায়ী অধিবেশন পরিচালনা করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায়ে আপিল বিভাগ ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছে, ঢাকার বাইরে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

লিগ্যাল এইড সেবা সম্প্রসারণে আইনজীবীদের ফি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে প্যানেল আইনজীবীদের ফি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে এবং তা আরও যৌক্তিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে। কম ফি’র কারণে অনেক দক্ষ আইনজীবী লিগ্যাল এইড প্যানেলে কাজ করতে আগ্রহী হন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান পানি বণ্টন চুক্তি ও সমঝোতাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালী করা এবং ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উজানে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও পানির প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবায়নযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতেই প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সংসদকে জানান, দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে দেশের বার্ষিক চাহিদা ৩৮ দশমিক ৯ লাখ মেট্রিক টন। একই সময়ে মাছ আমদানির পরিমাণ মোট উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫৬৫ জন। প্রকৃত জেলেদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত এবং বিলুপ্ত ও পরিত্যক্ত জলাশয় সংস্কার করে মাছ চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

এলিস/এসএন

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৫৩ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য, উত্তপ্ত সংসদ
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিরোধীদলীয় জোট এনসিপির এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সৃষ্টি হয় হট্টগোল। এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘এটি শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১১তম কার্যদিবসে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আলোচনার এক পর্যায়ে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, ‘আমরা সংসদকে কার্যকর করতে উভয় পক্ষ একটি সম্মতিতে এসেছি। সংসদে এমন কোনো অসত্য বক্তব্য উত্থাপন করা উচিত নয়, যাতে কারও মানহানি হয়। নতুন প্রজন্মের একজন সংসদ সদস্য সংসদ নেতাকে নিয়ে কিছু বক্তব্য রেখেছেন, যা অত্যন্ত ক্ষোভের।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। তিনি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান। ১৬ বছর ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে এবং সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে তিনি সরকার গঠন করেছেন। সংসদ নেতাকে নিয়ে দেওয়া অসত্য বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানাচ্ছি।’

এর জবাবে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিরোধী দলের চিফ হুইপ যে কথাটা বললেন, আমার মনে হয় সেটা সঠিক নয়। কারণ আমাদের সংসদ সদস্য যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি সুনির্দিষ্টভাবেই বলেছেন যে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ফ্যাসিস্টের কথা বলেন, কিন্তু ফ্যাসিস্ট আচরণ তো আপনাদের কাছ থেকেই আসছে। যে অংশটুকু অসত্য, তা দয়া করে এক্সপাঞ্জ করবেন।’

এ সময় এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বারবার দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে ডেপুটি স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। 

তিনি বলেন, ‘আপনার সময় শেষ। এভাবে যখন খুশি তখন দাঁড়ানো সংসদের রীতি নয়। প্লিজ টেক ইয়োর সিট। এটা শাহবাগ চত্বর নয়, জাতীয় সংসদ।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হান্নান মাসউদ সংসদ নেতার ব্যাপারে কিছু কথা বলেছেন। আমি অনুরোধ করব, বাইরের বিষয় টেনে এনে এখানে এক্সপাঞ্জ বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ যেন না থাকে। সংসদের ভেতরে সংসদীয় নর্মস বজায় রাখা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘সত্য-অসত্যের এই বিতর্কে গেলে হয়তো অনেক কিছুই লজ্জাজনক হয়ে উঠবে। তাই পুরো বিষয়টি ইগনোর করাই আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে।’

সবশেষে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেব।’

এলিস/রিফাত/

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়: ইসি সচিব
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: খবরের কাগজ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং আইনি যোগ্যতাই মুখ্য বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।

তিনি বলেন, ’যিনি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবেন, তিনিই প্রার্থী হতে পারবেন। শর্ত পূরণ না করলে প্রার্থিতা বাতিল হবে।

রবিবার (২১ জুন) আগারগাওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টিই বিবেচ্য।

তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলীয় অঙ্গীকারনামার বিধান নেই। তবে বিধিমালার অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। কেউ শর্ত পূরণ না করে প্রার্থী হলে অথবা পরে অযোগ্যতা প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে।

বিধিমালা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চাওয়া হয়েছে জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, কমিশন প্রয়োজন মনে করলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করতে মক ভোটিং ও রিহার্সালের আয়োজন করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন, প্রশিক্ষণ, বাজেট ও অন্যান্য প্রস্তুতিও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

ইসি সচিব বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনী সামগ্রী প্রস্তুত রয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি ও পরিচালনা বিধিমালা নিয়ে কমিশনে কাজ চলছে। মতামত সংগ্রহ শেষে কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা ঘিরে দালালচক্র ঠেকাতে অবৈধ কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান উচ্ছেদে সিটি করপোরেশনের সহায়তা চেয়েছে ইসি। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও শেরেবাংলা নগর থানায় চিঠি দেয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৯ মে নির্বাচন ভবনের আশপাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা কয়েকটি অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ করেছে পুলিশ।

এলিস/এসএন