পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ রিফাত (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। রিফাতের বাবা সাগর খানের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে সাগর খানও কিছুটা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পুরোনো পল্লবী থানার সামনে সি ব্লকের ৯ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
রিফাত শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার উত্তর সালদর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবারের সঙ্গে মিরপুর ১২ নম্বর ডি ব্লকের ২৫ নম্বর সড়কের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নিহতের মা ফাতেমা খাতুন জানান, রিফাত পল্লবী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। চাকরি ছেড়ে কিছুদিন ধরে বেকার ছিলেন। আগামী মাসে নতুন একটি কারখানায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। দুপুরে পাওনা টাকা আনতে রিফাত বাসা থেকে বের হন। পথে পুরোনো পল্লবী থানার সামনে পাঁচ থেকে সাতজন যুবক তার পথ রোধ করে মারধর করতে থাকেন। এ সময় রিফাত ঘটনাটি ফোনে বাবাকে জানালে, সাগর খান দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্বৃত্তদের হাত থেকে ছেলেকে রক্ষা করতে পারেননি। বাবার সামনেই দুর্বৃত্তরা রিফাতকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয় রিফাতকে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা সাগর খান জানান, ছেলে রিফাতের ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এসময় দুইটি মোটরসাইকেলে করে আরও চারজন যুবক আসে। তারা এসে রিফাতের সঙ্গে ‘হিসাব আছে’ বলে উত্তেজিত আচরণ করে এবং অল্প সময়ের মধ্যে রিফাতের বুকে ছুরিকাঘাত করে। বাধা দিতে গেলে সাগর খানও ছুরিকাঘাতে সামান্য আহত হন। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি।
তবে কী কারণে রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলতে পারেননি তিনি।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, “গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে রিফাতের সঙ্গে দুর্বৃত্তদের কোনো বিরোধ বা বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। জড়িত খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
আলমগীর/মেহেদী/মাহফুজ