জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি এবং সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে তিনি সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, সংসদ অধিবেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনও রাষ্ট্রীয় কাজ নেই এবং সংসদীয় কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, কোনও মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি সংসদ কক্ষে উপস্থিত থাকেন না।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সেসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সরাসরি শোনা প্রয়োজন। বিশেষ করে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা যদি নিয়মিত উপস্থিত না থাকেন, তাহলে সংসদীয় আলোচনার কার্যকারিতা কমে যায় এবং জবাবদিহিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অধিবেশন চলাকালে অনেক সময় কয়েকজন সদস্যকে ছোট ছোট দলে আলাদা আলোচনা করতে দেখা যায়। এতে সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুসরণ করতেও অন্য সদস্যদের অসুবিধা হয়। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, অন্যদিকে আলাদা বৈঠকের মতো পরিবেশ তৈরি হওয়া সংসদের শৃঙ্খলা ও ডিসেন্সির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন খাত নিয়ে আলোচনা হয়। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “আমি আবারও তাগিদ দিচ্ছি— কোনও রাষ্ট্রীয় কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সব রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে সংসদ অধিবেশনই সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে।”
স্পিকার আরও বলেন, মন্ত্রীদের উচিত যথাসময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা, নিজ নিজ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং উত্থাপিত সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।
সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঝেমধ্যে ছোট ছোট দলে আলোচনা, আসন ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে কথাবার্তা বলা এবং এমনকি ‘ফ্লোর ক্রসিং’-এর ঘটনাও তার নজরে এসেছে। তিনি সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে বসে কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, সোমবার জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় কয়েকজন মন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে পয়েন্ট অব অর্ডার নিষ্পত্তির পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হয়।
এলিস/নাঈম