ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিপুর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে এ তথ্য জানান শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার।
তিনি বলেন, ‘দিপু চন্দ্র দাসের পরিবার একা নয়, সরকার তার পরিবারের সঙ্গে আছে, এটা জানাতেই আমি এসেছি। দিপুর পরিবারের এমন সংকটকালে আমরা তাদের পাশে আছি। আমি এটা নিশ্চিত করতে চাই, দিপুর সন্তান ও স্ত্রীর সম্পূর্ণ ব্যয়ভার সরকার বহন করবে।’
মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের বাড়িতে সরকারের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
পরে শিক্ষা উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন বানচাল করতে একটি মহল সহিংসতা করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। কিন্তু কোনো চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করবে সরকার।
অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, বর্তমানের কিছু দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠী বিভাজন সৃষ্টি ও অস্থিরতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং এগুলো সফল হতে দেওয়া যাবে না। এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে। তিনি বলেন, দিপু হত্যার সঙ্গে যারা দায়ী, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। সরকার দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে দিপু হত্যার ঘটনায় ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস ভালুকা মডেল থানায় বাদী হয়ে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। পরে র্যাব-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের ৩ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি
দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেছে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মীদের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় তারা দিপুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেন। তার স্ত্রী মেঘনা রানীর সঙ্গে কথা বলে আর্থিক অবস্থাসহ পরিবারের খোঁজখবরও নেন তারা। গতকাল দুপুরে তারাকান্দায় দিপু দাসের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
পরিবারটির যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মানবাধিকারকর্মী মো. শহীদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ, মর্মাহত, দুঃখিত। অপবাদ দিয়ে বিনা প্রমাণে একটা মানুষকে শুধু হত্যা করা হলো না, লাশকে পোড়ানো হলো, অসম্মান করা হলো, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এসেছি ন্যায়বিচারের আশায়। আমরা ন্যায়বিচার আদায় করে ছাড়ব। সমাজ ও সরকারের কাছে দাবি শুধু ন্যায়বিচার না, বরং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সত্যিকার অর্থে আমরা যেন বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখে যেতে পারি।’
এ প্রতিনিধিদলে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, লেখক ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, লেখক ও নৃবিজ্ঞানী রেহনুমা আহমেদ প্রমুখ ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় আইন সহায়তা কেন্দ্র ব্লাস্ট, এএলআরডি, মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।




