ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ২২ জুন: কমেছে পাউন্ড ইউরোর দাম, বেড়েছে রিয়াল দেরহামের জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায়ের থেকে ৪টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর , ১ম পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান সিরাজগঞ্জে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিন কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেল্যার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা রোগী সেজে ইয়াবা পাচার, স্বামী-স্ত্রী আটক ফিলিপাইনে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত ৩, আহত ৫ দুই দফা কমে ৪৪৩২ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীতে থাকবে ১৮০০০ পুলিশ মাদরাসা ছাত্রকে অমানুষিক নির্যাতন সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মারা গেছেন টিভিতে আজকের খেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশের চালান জব্দ, আটক ১ জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭ লেবাননে যেকোনো হুমকি নির্মূলে স্বাধীন ইসরায়েলি সৈন্যরা: কাটজ পদত্যাগের মুখে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপিপুত্র সজীবকে যুবদল থেকে বহিষ্কার ভাঙ্গুড়ায় বিএনপি নেতার মারধর, ৪ ঘণ্টা পর কৃষকের মৃত্যু সেনেগালের কঠিন পরীক্ষা, নরওয়ের চোখ নক আউটে যমুনা ফিউচার পার্কে ২ দিনের ‘কে-গুডস ফেস্টা’ মালয়েশিয়ায় ‘হালাল’ পণ্য রপ্তানির অপার সম্ভাবনা কাতারের ভয়াবহ বিস্ফোরণ: আহত ৫৪, নিখোঁজ ১৮ হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুর পূর্ণতা পায়নি চামড়া শিল্পনগরী শরীফাতুন্নিছা মহিলা মাদরাসার অভিভাবক সম্মেলন ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান কমিউনিটি ব্যাংকের ৭ম বার্ষিক সাধারণ সভা, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারাল মিশর

আগামী ৯০ দিনে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ হ্যান্ডসেট

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ এএম
আগামী ৯০ দিনে বন্ধ হচ্ছে না অবৈধ হ্যান্ডসেট
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যকরের পরও আগামী ৯০ দিন কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ বিষয়ে গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ডেটাসেট সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে হিস্টোরিক ডেটাসহ সব তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাইগ্রেশনের তারিখ বর্তমান হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে অনেক এনআইডির বিপরীতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। বিষয়টি নিরসনে বিটিআরসি ও মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে কাজ করছে। ধীরে ধীরে ব্যাকগ্রাউন্ডে হিস্টোরিক ডেটা আর্কাইভ করে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের তথ্য দেখানো হবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।

আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমল, স্টক-লট বৈধকরণ
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে– যা প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস। একই সঙ্গে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষেত্রে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিটিআরসির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমদানি করা ব্যবসায়ীদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনগুলোকে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই স্টক-লট হিসেবে জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার সিস্টেমে অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হলেও বৈধ আমদানি ও দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত হবে এবং বাজারে মোবাইল ফোনের দাম সহনীয় পর্যায়ে আসবে।

টেকনিক্যাল জটিলতা ও নিরাপত্তা জোরদার
এনইআইআর চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু টেকনিক্যাল জটিলতা দেখা দেবে– এ কথা স্বীকার করে বিটিআরসি জানিয়েছে, এসব সমস্যা ধাপে ধাপে সমাধান করা হবে। এরই মধ্যে নতুন করে ভিএপিটি (কোনো সিস্টেম, সফটওয়্যার বা নেটওয়ার্কে কোথায় কোথায় নিরাপত্তার দুর্বলতা আছে– তা খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া) করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসি বলছে, এনইআইআর কোনো নতুন সিস্টেম নয়; ২০২১ সালে প্রথম চালুর চেষ্টা হয়েছিল। বর্তমানে কিছু ফাংশনাল ফিচার যুক্ত করে এটি সক্রিয় করা হয়েছে। ডেটাবেজ সুরক্ষায় নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন, রেট লিমিটিংসহ একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনআইডির বিপরীতে আইএমইআই রেসপন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা স্তর যুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সিম ব্যবহারে সীমা ও নাগরিক অধিকার
এর আগে একজন ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০টি, পরে ১৫টি সিম ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে ১০টি করা হচ্ছে। ফলে হিস্টোরিক ডেটায় এনআইডির বিপরীতে বেশি হ্যান্ডসেট দেখানো স্বাভাবিক বলে জানানো হয়েছে। বিটিআরসি মনে করছে, এনইআইআর চালুর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারবেন– তার এনআইডির বিপরীতে কত সিম ও কত ডিভাইস ব্যবহৃত হয়েছে এবং সেগুলো কোনো আর্থিক অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না। এটি নাগরিকের অধিকার বলেও উল্লেখ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা ও প্রবাসীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত
শহিদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির ১৭টি সক্রিয় সিম পাওয়া যাওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার বাস্তবায়ন ও জনপ্রতি সিম সংখ্যা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।

প্রবাসীদের ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে– দেশে ফেরার পর তাদের ব্যবহৃত ফোন তিন মাস বন্ধ করা হবে না। তিন মাসের কম সময় অবস্থান করলে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই; বেশি হলে পরে নিবন্ধন করতে হবে। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন মাস ফোন ব্লক করা হবে না।

হামলা-ভাঙচুরে কঠোর হুঁশিয়ারি
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শুল্ক কমানো ও বৈধকরণের সব যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়ার পরও যারা বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মোবাইল আমদানি ও বিক্রয় রোধে দেশের স্থল ও বিমানবন্দরের কাস্টম হাউস এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সেট জব্দ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

সরকার বলছে, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনইআইআর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে সিম, ডেটাবেজ ও এনইআইআর- এর অপব্যবহার রোধে কঠোর সুরক্ষা ধারা যুক্ত করা হয়েছে এবং যেকোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

এক আইএমইআইতেই ৪ কোটি ডিভাইস
এদিকে দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর মোবাইল হ্যান্ডসেট নিয়ে এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র বেরিয়ে এসেছে। দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোতে বর্তমানে লাখ লাখ নকল, ক্লোন ও ভুয়া আইএমইআই (মোবাইল হ্যান্ডসেটটি বৈধ নাকি অবৈধ/নকল, সেটি যাচাই করার প্রক্রিয়া) নম্বরসংবলিত হ্যান্ডসেট সচল রয়েছে। সাধারণ মানুষকে ‘আন-অফিশিয়াল’ ফোনের নামে এসব নিম্নমানের ও অনিরাপদ ফোন গছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত শনিবার রাতে ফেসবুক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

এক নম্বরেই কোটি কোটি ফোন 
বিটিআরসির তথ্য বিশ্লেষণে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, গত ১০ বছরে শুধুমাত্র ‘99999999999999’ এই একটি আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখেরও বেশি ডিভাইস। এ ছাড়া ‘0000000000000’ বা ‘1111111111111’-এর মতো অদ্ভুত সব প্যাটার্নের আইএমইআই নম্বরেও লাখ লাখ ফোন চলছে।

শীর্ষ কিছু জালিয়াতি করা আইএমইআই নম্বরের তালিকা দেখলে চমকে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট আইএমইআই নম্বরে (440015202000) সচল আছে প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ ফোন অন্য একটি নম্বরে সচল আছে সাড়ে ১৭ লাখের বেশি ডিভাইস। এমনকি শুধুমাত্র ‘০’ (শূন্য) আইএমইআই নম্বরেও ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ফোন চলছে। অনিবন্ধিত ও নকল এসব ফোন অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে এসব অনিবন্ধিত ডিভাইসের মাধ্যমে। এ ছাড়া ই-কেওয়াইসি (e-KYC) জালিয়াতির ৮৫ শতাংশই ঘটে অবৈধ বা রি-প্রোগ্রাম করা ফোনে। ২০২৩ সালে চুরি হওয়া ১.৮ লাখ ফোনের বেশির ভাগই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এই আইএমইআই জটিলতার কারণে।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা শঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ক্লোন ফোন কোনো ধরনের মান নিয়ন্ত্রণ বা রেডিয়েশন টেস্ট (যেমন- SAR Testing) ছাড়াই বাজারে ছাড়া হয়েছে। ফলে এগুলো থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়া মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে। স্মার্টফোনের পাশাপাশি সিসিটিভি বা বিভিন্ন আইওটি (IOT) ডিভাইসেও এমন ভুয়া নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে।

এখনই বন্ধ হচ্ছে না এসব ফোন
সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে সরকার এখনই এসব ফোন ব্লক বা বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। তবে এসব ফোনকে ‘গ্রে’ (Grey) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বর্তমানে বিটিআরসি বৈধভাবে আমদানিকৃত আইওটি ডিভাইসগুলোকে আলাদাভাবে ট্যাগ করার কাজ শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বছরের পর বছর ধরে সাধারণ নাগরিকদের সাথে ‘আন-অফিশিয়াল’ ফোনের নামে যে প্রতারণা করা হয়েছে, তা নজিরবিহীন। এই অসাধু চক্রের লাগাম টানতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান
এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আংশিক বই দিয়ে ‘বই উৎসব’ করার চেনা সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সব শ্রেণির শতভাগ পরিমার্জিত বই পৌঁছে দেওয়ার রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। যাতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই চার কোটি শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা এসব তথ্য জানান।

বছরের শুরুতে আংশিক বই বিতরণের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসা প্রসঙ্গে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে মোট বইয়ের ৫০ বা ৬০ শতাংশ সরবরাহের একটি প্রথা ছিল। ফলে বড় বড় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে বই সরবরাহ করে মোটের ওপর ৫০ শতাংশের কোটা পূরণ করত।

কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক উপজেলা সময়মতো পাঠ্যবই পেত না। এবার আমরা প্রেস মালিকদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি সব শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই প্রত্যেক উপজেলায় আগে পৌঁছাতে হবে। এরপর বাকি ৫০ শতাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য মুদ্রণকারীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট হল যেহেতু ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়, তাই ১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের ছুটিকালীন সময়েই যেন তারা হাতে নতুন বই নিয়ে যেতে পারে। এটি সফল না হলে দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী আগমী বছর ১ জানুয়ারির মধ্যে সব বই বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। নতুন ক্লাসে ওঠা এবং নতুন বই পাওয়াটাই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব বলে আমরা মনে করি।’

প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

মুদ্রণকারীদের গাফিলতি ও কাগজের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা প্রসঙ্গে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বই ছাপার কাজ শুরু হলে বাজারে হঠাৎ কাগজের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির একটা অপচেষ্টা অতীতে দেখা গেছে। এবার আমরা আগে থেকেই পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শিক্ষাকে আনন্দময় করতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কিছু বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন তাত্ত্বিক পড়াশোনার বাইরে গিয়ে আনন্দ পায় এবং মোবাইল বা ফেসবুক আসক্তি থেকে দূরে থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি খেলা (ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স ও কারাতে) অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিখন ও সংস্কৃতির বই এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিইটি) বিষয়ক উদ্দীপনামূলক ১টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। এগুলো যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)সহ শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি, যাতে শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনার মাধ্যমে বাস্তব রূপায়ন নিশ্চিত করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী দেশে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। দেশের বেকারত্বের হার কমাতে শিক্ষিত যুবসমাজকে কর্মমুখী করাই এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ কনটেন্ট ও মোটিভেশনাল সাকসেস স্টোরি যুক্ত হচ্ছে, যা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীরা বইয়ে পাবে।

আর ২০২৮ সালে যখন পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম আসবে, তখন কারিগরি শিক্ষাকে আরও বড়, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানদ-ে কার্যকরী পরিসরে পরিমার্জন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

আমান/

প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৩ এএম
প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন আনোয়ার ইব্রাহিম
ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে

কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় শাংগ্রি লা মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ‘পেরদানা পুত্রা’ ভবনে পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।

এরপর লালগালিচায় তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর সফরসঙ্গীদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। একইভাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

পরিচয় পর্ব শেষে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান।

পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর ভবন অভিমুখের লম্বা সড়কের দুই পাশে টানানো হয় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা। সূত্র: বাসস

অমিয়/

জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২৪ এএম
জুন মাসে ডিএমপির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৫৩৭
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে চলতি জুন মাসের ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১ হাজার ৫৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

রবিবার (২১ জুন)  ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই বিশেষ অভিযানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, সন্ত্রাস ও মাদকের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫৪ জন চাঁদাবাজ রয়েছে, যাদের মধ্যে একজন পুলিশের তালিকাভুক্ত এবং বাকি ৫৩ জন তালিকাবহির্ভূত।

এছাড়া সন্ত্রাসী, দস্যু, ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্রের ৪৬৩ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে এই ২০ দিনে ১ হাজার ২০ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ।

শুধুমাত্র গ্রেপ্তার নয় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মহানগরের বাসিন্দাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়তে পুলিশের এই বিশেষ চিরুনি অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।

আমান/

দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
দুপুরের মধ্যে ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে তীব্র দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

সোমবার (২২ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দুপুর ১টা পর্যন্ত আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।  

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দুপুর ১টার মধ্যে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। 

এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেয়া সতর্কবার্তায় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আষাঢ়ের বৃষ্টিপাতের মধ্যেই আগামী ৫ দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এই ৫ দিনে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

অন্তরা/

সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
সাতসকালে ঢাকার বায়ুমান নিয়ে দুঃসংবাদ
ছবি: সংগৃহীত

মেগাসিটি ঢাকার বাতাসে দিন দিন বাড়ছে দূষণ। মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে শহরটির বায়ুমানে কিছুটা উন্নতি হয়। তবে বৃষ্টিপাত হওয়ার পরেও ঢাকার বাতাসে দেখা দিয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ২৫৩ স্কোর নিয়ে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৬৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। এ ছাড়া ১৬৭ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দেনেশিয়ার জার্কাতা, ১২৭ স্কোর নিয়ে চর্তুথ অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর এবং এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা ইসরাইলের তেল আবিবের স্কোর ১০৯।

বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।

বায়ুদূষণ সব বয়সের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। তবে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ ও অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য এটি বেশি বিপজ্জনক।

অন্তরা/