রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধনের শর্ত অনুযায়ী তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বিলুপ্ত না করে কেবল গঠনতন্ত্র থেকে নাম প্রত্যাহার করে আইনের মূল উদ্দেশ্যকে ভণ্ডুল করছে বলে অভিযোগ করেছেন নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুজন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে- কোনো দলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক, শিক্ষক, ছাত্র, শ্রমিক, কর্মচারী কিংবা অন্যান্য পেশাজীবী শ্রেণির অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন থাকতে পারবে না। একই সঙ্গে বিদেশে কোনো শাখা রাখারও সুযোগ নেই। অথচ বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো এসব সংগঠন বিলুপ্ত না করে শুধু গঠনতন্ত্র থেকে নাম সরিয়ে আইন মানার ভান করছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব অঙ্গসংগঠনের কারণে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও দলীয় আধিপত্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাজনৈতিক দলগুলোর আইন ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ ও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া জরুরি।’
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনি ইশতেহার প্রসঙ্গ তুলে সুজন সম্পাদক বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে ১১টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। কোন দল কোন সংস্কার প্রস্তাব গ্রহণ করছে- এ বিষয়ে নাগরিকরা পরিষ্কার ধারণা না পেলে ভোটাধিকার প্রয়োগে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।’
মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড. বদিউল আলম বলেন, ‘আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা বা জেলা কমিটির সদস্যদের দ্বারা প্রণীত প্যানেল থেকে কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা। কিন্তু বাস্তবে এই প্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় না। ভবিষ্যতে আইন ও দলীয় সংবিধান অনুসরণ করে স্বচ্ছ মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন।’
শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক এলাকায় নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানই উন্নয়ন ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অথচ বাস্তবে সব সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত করা সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। এই রক্তের বিনিময়ে একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে চাই। সেই যাত্রার পথনির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্সের অধ্যাপক ও ডিন
ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম, সুজনের কোষাধ্যক্ষ ও ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রাস্টি সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নির্বাচন কার্যক্রম সমন্বয়ক একরাম হোসেন এবং সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
এলিস/সুমন/