ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রাজশাহীতে রেস্তোরাঁয় হামলা: সাবেক শিবির নেতাসহ ৩০ জনের নামে মামলা জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য করা  যুবক গ্রেপ্তার মঙ্গল ও চাঁদে অভিযানের জন্য নাসার নতুন রোভার আরনেস্ট রূপগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির মালামাল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ জয়পুরহাটে দিনব্যাপী জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত ঈশ্বরদীতে দুইদিনের গবেষণা সম্প্রসারণ কর্মশালার উদ্বোধন পৃথিবীর গঠন অধ্যায়ের ৯টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ব্রাজিলিয়ান জন্য সুখবর, পূর্ণ অনুশীলনে নেইমার দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের ফাঁসি মধুখালীতে ডাকাতি, নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ মিডজার্নি আনছে নতুন আলট্রাসনিক বডি স্ক্যানার ক্যারিবীয় সাগরে আবারও মার্কিন হামলা, নিহত ২ হাইড্রেশন ব্রেকের বিরুদ্ধে স্কালোনি রসুনের ১০টি প্রমাণিত উপকারিতা চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের সাইপ্রাসে উদ্ধার মরদেহটি নিখোঁজ বাংলাদেশি ছাত্রের হতে পারে গুম ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার ১১ দলের সমাবেশ সুস্ময়ের আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে মেডেল জয় গাছের গায়ে যে কারণে সাদা রং দেওয়া হয় সাময়িক বন্ধের পর চালু মস্কোর ৪ বিমানবন্দর বেসরকারি সংস্থায় চাকরির সুযোগ দুর্নীতির মামলায় বিচারের মুখোমুখি স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী এমবাপ্পেকে থামাতে ইরাকের ৩ গোলরক্ষক খেলানোর ইচ্ছায় সাড়া দেয়নি ফিফা কওমি তরুণদের বাজেট ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ১ চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু অস্ট্রিয়াকে নিয়ে সতর্ক স্কালোনি

৭২১ কোটি টাকায় নির্মান ‘ওয়াসার’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
৭২১ কোটি টাকায় নির্মান ‘ওয়াসার’ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

ভবনের নকশা ও নিমার্ণ সংক্রান্ত কাজ পর্যবেক্ষণে ব্যয় হবে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা মোট খরচের প্রায় ৬ শতাংশ। ৯ বিঘা নিজস্ব জমি অধিগ্রহণে খরচ করা হবে ৬০ কোটি টাকা। প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সেন্টার নির্মাণে খরচ করা হবে ৩৩২ কোটি টাকা। দুটি যানবহন ব্যবহারে খরচ করা হবে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এভাবে ‘ঢাকা ওয়াসা ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি’ নামে ১০ তলা বিল্ডিং নির্মাণ প্রকল্পে বিভিন্ন খাতে খরচ করা হবে ৭২১ কোটি টাকা।

এর মধ্যে কোরিয়ার ঋণ হচ্ছে ৫৭১ কোটি টাকা, বাকি ১৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে খরচ করা হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে সম্প্রতি সরকার তাতে অনুমোদন দিয়েছে। অত্যাধুনিক এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ওয়াসা।
 
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদগেটে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু সেটা স্থানীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য। তাই পানি ও পয়ঃব্যবস্থাপনাসংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নেয় ঢাকা ওয়াসা। এরই অংশবিশেষ এই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়। তাতে খরচ ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। এর অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি পাঠানো হলে তা যাচাই করতে গত ১০ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কিছু ব্যাপারে আপত্তি করে সংশোধন করতে বলা হয়। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এর পর ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করেন। তার পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
 
প্রকল্পের প্রধান কাজ হচ্ছে- ১০ তলা একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গবেষণা সেন্টার। এতে খরচ ধরা হয়েছে ৩৩১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। যা মোট খরচের প্রায় ৪৬ শতাংশ। এই ভবন নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে ২ দশমিক ৮ একর বা প্রায় ৯ বিঘা। নিজস্ব জমিতে এই ভবন নির্মাণ করা হবে। তার পরও খরচ ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা। যা মোট খরচের ৮ শতাংশের বেশি। এই ভবনের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন করতে পরামর্শক সেবা খাতে খরচ করা হবে ৪০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। যা মোট খরচের ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একাডেমি কাজের জন্য ৫৬ কোটি টাকার বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও কেনা হবে। প্রায় ৪৪ কোটি টাকা খরচ করে গবেষণার যন্ত্রপাতিও কেনা হবে। এসব দেখভাল তথা প্রশিক্ষণ ও গবেষণাবিষয়ক পরামর্শক সেবা (কারিগরি পরামর্শক) খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৩২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, সম্মানী, যাতায়াত খরচ, যানবাহন ব্যবহারের খরচ রয়েছে। এভাবে বিভিন্ন খাতে খরচ ধরা হয়েছে ৭২১ কোটি টাকা।  

প্রকল্পটি গ্রহণের যৌক্তিকতা
প্রকল্পটি গ্রহণের ব্যাপারে বলা হয়েছে- ঢাকা ওয়াসা ওয়াটার মাস্টার প্ল্যান এবং সুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করেছে। এই মাস্টার প্ল্যান অনুসারে বর্তমানে ২টি পানি শোধনাগার ও একটি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। সিস্টেম লস কমানো এবং প্রেসারাইজড পদ্ধতিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে সমগ্র ঢাকা শহরকে ১৪৫টি ডিস্ট্রিক মিটারেড এরিয়াতে (ডিএমএ) বিভক্ত করা হয়েছে। যার ৮৯টি ডিএমএ নির্মাণ করা হয়েছে। বাকিগুলো নির্মাণাধীন রয়েছে। এ ছাড়া সেন্টার মনিটরিং ও ডাটা অ্যাকুইজিশনের জন্য স্মার্ট মিটার এবং বড় করে সুপারভাইজারি কন্ট্রোল ডাটা অ্যাকুইজেশন ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিষয়গুলোর ওপর ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তাদের জ্ঞান না থাকায় এসব কাজ বিদেশি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমান ঢাকা ওয়াসার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে অবকাঠামো এবং মানবসম্পদ অপ্রতুলতার কারণে সংশ্লিস্ট আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ খুবই কম। এ ছাড়াও মাইক্রোবায়োলজি ও কেমিক্যাল বিভাগ থেকে শুধু পানির কোয়ালিটি পরিমাপ করা হয়। কিন্তু মান বৃদ্ধিসংক্রান্ত গবেষণা অপ্রতুল।
 
এমন অবস্থায় টেকসই পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য পানি ও পয়ঃশোধনাগারের নির্মাণকাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে পানি ও পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ, ডিএমএ স্থাপন, স্মার্ট মিটার, এসসিএডিএ ব্যবহারসংক্রান্ত বিষয় নতুন হওয়ায় সে সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে ঢাকা ওয়াসার আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা প্রয়োজন। যেখানে ঢাকা ওয়সার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় পানি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ধ্যান-ধারণা ও দক্ষতা উন্নয়নের কাজ করা হবে। সে লক্ষ্যে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি হবে খুবই অত্যাধুনিক ও রাজকীয় ভবন। এজন্য বিভিন্ন খাতে টেকনিক্যাল ব্যাপার যোগ করা হয়েছে।
  
প্রকল্প এলাকা নির্বাচনের যৌক্তিকতা
প্রকল্পটি রাজধানীর কেন্দ্রস্থল মিরপুর-১০-এ ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব জমিতে স্থাপন করা হবে। যা শাহজালাল আন্তর্জঅতিক বিমানবন্দর থেকে ৫ কিলোমিটার এবং তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে ২ কিলোমিটারে দূরে অবস্থিত। এখানে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা অফিস, গভীর নলকূপ, আউটডোর ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য অবকাঠামো বিদ্যমান রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার নিজস্ব জমিতে প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন করা হলে নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীদের যাতায়াতে কোনো অসুবিধা হবে না। এসব বিবেচনা করে প্রকল্প এলাকা নির্মাণ করা হয়েছে। বিদেশি ঋণে হচ্ছে প্রকল্পটি। 

২০২৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সরকার ও কোরিয়া সরকারের মধ্যে একটি ঋণচুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ প্রকল্পের ঋণের নিশ্চয়তা রয়েছে। কোরিয়া এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় কে-ওয়াটার, হ্যানওয়াং ইউনিভার্সি এবং ইলি কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

প্রকল্পটির ব্যাপারে জানতে প্রকল্প পরিচালক মিহির কুমার দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, কেবল সরকার প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। এখনো সরকারি আদেশের (জিও) কাগজ হাতে পাইনি। কাজেই এ মুহুর্তে কিছু বলার নেই।’

দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম
দেশের ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
ফাইল ফটো

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাশকতা ঠেকাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, ফরিদপুর, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতেও এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে সেনাসদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত চিঠির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।

অমিয়/

চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা ৫ ইসলামি ধারার ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের
চট্টগ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা। ছবিটি নগরীর নিউমার্কেট এলাকা থেকে তোলা। - মোহাম্মদ হানিফ

চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশের পাঁচটি ইসলামি ধারার ব্যাংক থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ সময় চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা ব্যাংকিং খাতে চলমান সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে সব ষড়যন্ত্র চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। 

এ সময় তারা, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘তারেক রহমানের সরকার, চাকরিটা দরকার’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’-সহ নানা স্লোগান দেন।

এ সময় চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা বলেন, ৫ আগস্টের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ব্যাপক হারে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ করা, প্রশাসনিক হয়রানি এবং তথাকথিত ‘দক্ষতা মূল্যায়ন’ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

তারা বলেন, এর ফলে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছেন, যা হাজারো পরিবারকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। আমরা আমাদের চাকরি ফেরত চাই। আমরা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমরা আজ যারা দাঁড়িয়েছি আমরা কোনো রাজনৈতিক দলে সম্পৃক্ত নই। আমাদের ভাইয়েরা কষ্টে আছেন, অনেকেই মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। আমরা রেমিট্যান্স ভাই, গ্রাহকদের বলতে চাই- আপনারা আমাদের পাশে থাকুন।

সরকার, অর্থমন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, আপনারা আমাদের চাকরি ফিরিয়ে দিন। আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, সে ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত আছে। গ্রাহক সাজিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে একটি মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে। আমরা প্রয়োজনে এই চট্টগ্রাম থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু করব। এই চট্টগ্রামের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব। 

চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের চট্টগ্রামের প্লাটফর্ম চিটাগং এলায়েন্সের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক মোহাম্মদ মোক্তার রশিদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘ব্যাংকে চাকরি করার সময় ব্যাংকারদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা না দেওয়ায় অনেককে মারধর, অনেককে চাকরিচ্যুত করা হয়। আমরা কোনো দলের নই, আমরা সাধারণ ব্যাংকার। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, আমাদের চাকরিটা ফিরিয়ে দেওয়া হোক।’

মানববন্ধন থেকে ১০টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১) অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাসহ অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।
২) দক্ষ, অভিজ্ঞ, সৎ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে।
৩) ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং চাকরিরত অবস্থায় প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪) ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৫) গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৬) মব সৃষ্টি করে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
৭) ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর ব্যাংকে সংঘটিত সব অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮) ব্যাংকের মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিমালা অনুসরণ না করে নিয়োগপ্রাপ্ত দলীয় ক্যাডারদের অপসারণ করতে হবে এবং সব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
৯) শাখা ব্যবস্থাপক থেকে শুরু করে ক্যাশ অফিসার পর্যন্ত যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী কাউন্টারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধ না করে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
১০) ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম, গ্রাহকসেবা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

মানববন্ধন শেষে চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

কর্মসূচিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ক্ষতিগ্রস্ত হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

তারেক মাহমুদ/অমিয়/

চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
চলন্ত বাইকে ইটের আঘাতে আহত সেই যুবকের মৃত্যু
সাজিদ চৌধুরী রাফি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইট মেরে আহত করা সাজিদ চৌধুরী রাফি (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সোমবার (২২ জুন) সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাফির চাচা মো. নুর হোসেন চৌধুরী।

তিনি জানান, ঘটনার দিন রাফিকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১০ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। প্রায় ১৩দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সে মারা গেছে।

এর আগে,গত ৯ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়ার আশরাফ আলী গলিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় এক তরুণ রাফিকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়ে মারে। ইটের আঘাতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে অচেতন হয়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলটি তার শরীরের ওপর পড়ে থাকে। পরে ঘাতকরাই রিকশায় করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা গেছে।

অন্তরা/

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২০ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ায় স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্রা ভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। 

দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়া তাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্তকরণ, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালেশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন।

এরপর দুদেশের প্রধানমন্ত্রী একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। সূত্র: বাসস

অন্তরা/

বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম
বার্ষিক পরীক্ষার পরপরই নতুন বই পাবে ৪ কোটি শিক্ষার্থী : এনসিটিবি চেয়ারম্যান
এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আংশিক বই দিয়ে ‘বই উৎসব’ করার চেনা সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় সব শ্রেণির শতভাগ পরিমার্জিত বই পৌঁছে দেওয়ার রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। যাতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই চার কোটি শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এনসিটিবির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা এসব তথ্য জানান।

বছরের শুরুতে আংশিক বই বিতরণের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে আসা প্রসঙ্গে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে মোট বইয়ের ৫০ বা ৬০ শতাংশ সরবরাহের একটি প্রথা ছিল। ফলে বড় বড় মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা বা বড় শহরগুলোতে বই সরবরাহ করে মোটের ওপর ৫০ শতাংশের কোটা পূরণ করত।

কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক উপজেলা সময়মতো পাঠ্যবই পেত না। এবার আমরা প্রেস মালিকদের স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছি সব শ্রেণির ৫০ শতাংশ বই প্রত্যেক উপজেলায় আগে পৌঁছাতে হবে। এরপর বাকি ৫০ শতাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য মুদ্রণকারীদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রথম টার্গেট হল যেহেতু ডিসেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়, তাই ১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের ছুটিকালীন সময়েই যেন তারা হাতে নতুন বই নিয়ে যেতে পারে। এটি সফল না হলে দ্বিতীয় পরিকল্পনা অনুযায়ী আগমী বছর ১ জানুয়ারির মধ্যে সব বই বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। নতুন ক্লাসে ওঠা এবং নতুন বই পাওয়াটাই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব বলে আমরা মনে করি।’

প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের জন্য মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করা হবে। দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

মুদ্রণকারীদের গাফিলতি ও কাগজের কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা প্রসঙ্গে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বই ছাপার কাজ শুরু হলে বাজারে হঠাৎ কাগজের দাম বাড়িয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির একটা অপচেষ্টা অতীতে দেখা গেছে। এবার আমরা আগে থেকেই পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

শিক্ষাকে আনন্দময় করতে নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে কিছু বৈচিত্র্যময় বই যুক্ত হচ্ছে জানিয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেন তাত্ত্বিক পড়াশোনার বাইরে গিয়ে আনন্দ পায় এবং মোবাইল বা ফেসবুক আসক্তি থেকে দূরে থাকে, সেই লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে তিনটি নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সাতটি খেলা (ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স ও কারাতে) অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এছাড়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিখন ও সংস্কৃতির বই এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিইটি) বিষয়ক উদ্দীপনামূলক ১টি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের কাজ চলছে। এগুলো যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়, সেজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)সহ শিক্ষা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করছি, যাতে শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনার মাধ্যমে বাস্তব রূপায়ন নিশ্চিত করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী দেশে কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। দেশের বেকারত্বের হার কমাতে শিক্ষিত যুবসমাজকে কর্মমুখী করাই এই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর বিশেষ কনটেন্ট ও মোটিভেশনাল সাকসেস স্টোরি যুক্ত হচ্ছে, যা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থীরা বইয়ে পাবে।

আর ২০২৮ সালে যখন পূর্ণাঙ্গ নতুন কারিকুলাম আসবে, তখন কারিগরি শিক্ষাকে আরও বড়, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানদ-ে কার্যকরী পরিসরে পরিমার্জন করে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

আমান/